https://newsbdc.com/national/mv94u64nr3
হাত ধোয়ার স্টেশন উধাও, হাসপাতালের ওয়াশরুমে বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি
করোনাভাইরাস মহামারির সময় সংক্রমণ প্রতিরোধে রাজধানীসহ সারা দেশে হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সরকারি দপ্তর, বাজার ও জনবহুল এলাকায় হাত ধোয়ার স্টেশন স্থাপন করা হয়েছিল। সাবান-পানির ব্যবস্থা নিশ্চিত করার পাশাপাশি নিয়মিত হাত ধোয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে চালানো হয়েছিল ব্যাপক প্রচারণা। কিন্তু মহামারির জরুরি পরিস্থিতি কেটে যাওয়ার পর এসব উদ্যোগের বড় অংশই হারিয়ে গেছে। কোথাও বেসিন ও পানির ট্যাংক উধাও, কোথাও নষ্ট হয়ে পড়ে আছে হাত ধোয়ার সরঞ্জাম। অন্যদিকে, সরকারি হাসপাতালের ওয়াশরুমে অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ, সাবান-পানির সংকট ও রক্ষণাবেক্ষণের ঘাটতি রোগী ও স্বজনদের দুর্ভোগ বাড়াচ্ছে।
আজ বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস। এ বছরের প্রতিপাদ্য ‘বি এ হ্যান্ডওয়াশিং হিরো!’—অর্থাৎ হাত ধোয়ার নায়ক হোন। দিবসটির লক্ষ্য পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কর্মক্ষেত্র ও সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার অভ্যাস ছড়িয়ে দেওয়া। কিন্তু দেশের হাসপাতাল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বাস্তব চিত্র বলছে, সচেতনতার প্রচার থাকলেও হাত ধোয়ার মৌলিক সুবিধা নিশ্চিত করা এবং তা সচল রাখার ক্ষেত্রে বড় ধরনের ঘাটতি রয়ে গেছে।
রাজধানীর বড় সরকারি হাসপাতালগুলোর ওয়াশরুমে রোগী ও স্বজনদের ভোগান্তির চিত্র বিশেষভাবে উদ্বেগজনক। ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব কিডনি ডিজিজেস অ্যান্ড ইউরোলজি হাসপাতালে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক রোগী ও তাঁদের স্বজনের সমাগম হলেও তাঁদের তুলনায় ওয়াশরুমের সংখ্যা কম। সেখানে পুরুষদের জন্য মাত্র তিনটি ওয়াশরুম রয়েছে বলে সরেজমিন পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে। এর মধ্যে বেশ কয়েকটি টয়লেটের ফ্লাশ নষ্ট, কোথাও সাবান, হ্যান্ডওয়াশ কিংবা টিস্যু নেই। কোনো কোনো স্থানে পানি ব্যবহারের ট্যাপ বা বদনাও পাওয়া যায়নি।
হাসপাতালে বাবাকে নিয়ে তিন দিন ধরে যাতায়াত করছেন মিজানুর রহমান নামের এক রোগীর স্বজন। দীর্ঘ সময় হাসপাতালে অবস্থান করতে হওয়ায় ওয়াশরুম ব্যবহার করতে গিয়ে তাঁকে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। তাঁর ভাষায়, কিডনি ও ইউরোলজির রোগীদের ঘনঘন ওয়াশরুমে যেতে হয়। অথচ সেখানকার পরিবেশ এমন যে ব্যবহার করাই কষ্টকর। সরকারি হাসপাতাল হলেও অন্তত ওয়াশরুমগুলো ব্যবহার উপযোগী রাখা উচিত বলে মনে করেন তিনি।
আরও পড়ুন
প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফর নতুন বিনিয়োগ আনতে ভূমিকা রাখবে: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ১৮ মিনিট আগে
রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেও একই ধরনের পরিস্থিতির কথা জানিয়েছেন রোগীর স্বজনেরা। সেখানে ওয়াশরুমের অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ ও প্রয়োজনীয় উপকরণের অভাবে অনেককে বাইরে গিয়ে বিকল্প ব্যবস্থা খুঁজতে হচ্ছে। সাব্বির মাহমুদ নামের এক রোগীর স্বজনের অভিযোগ, হাসপাতালের টয়লেট ও ওয়াশরুমের অবস্থা অত্যন্ত খারাপ। সাবান, হ্যান্ডওয়াশ তো নেই-ই, টিস্যুও পাওয়া যায় না। তাঁর মতে, এ ধরনের পরিবেশে সুস্থ মানুষও অসুস্থ হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
হাসপাতালের মতো সংবেদনশীল স্থানে পরিচ্ছন্নতা ও হাত ধোয়ার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকলে পরিস্থিতি আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে কিডনি ও ইউরোলজির রোগী, বয়স্ক ব্যক্তি, শিশু এবং রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কম এমন মানুষের জন্য নিরাপদ পানি ও পরিচ্ছন্ন শৌচাগারের ব্যবস্থা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রোগীর চিকিৎসার পাশাপাশি হাসপাতালের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখা এবং সংক্রমণ প্রতিরোধের মৌলিক নিয়মগুলো কার্যকর করা জরুরি।
করোনাকালে হাত ধোয়ার ব্যবস্থা সম্প্রসারণে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান উদ্যোগ নিয়েছিল। রাজধানীর কাঁচাবাজার, বাস ও ট্রেন টার্মিনাল, আবাসিক ভবনের প্রবেশমুখ এবং গুরুত্বপূর্ণ সড়কের মোড়ে মোড়ে বেসিন ও পানির ট্যাংক স্থাপন করা হয়েছিল। ঢাকা ওয়াসাও রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে পানির ট্যাংক বসায়। সুইডিশ দূতাবাস ও ঢাকা ওয়াসার যৌথ উদ্যোগে ‘হ্যান্ড ওয়াশিং অন হুইলস’ কর্মসূচির আওতায় হাত ধোয়ার সুবিধাসম্পন্ন ১০টি ভ্যান চালু করা হয়েছিল। এসব ভ্যান রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে বেড়াত এবং ওয়াসা বিনামূল্যে পানি সরবরাহ করত।
কিন্তু সময়ের ব্যবধানে এসব উদ্যোগের অনেকটাই হারিয়ে গেছে। রাজধানীর বাংলামোটর এলাকায় পুলিশ বক্সের পাশে স্থাপন করা পানির ট্যাংকটি এখন আর নেই। কারওয়ান বাজার মোড় ও ওয়াসা ভবনের সামনেসহ বিভিন্ন স্থানে স্থাপন করা ট্যাংকগুলোরও অনেকগুলো খুঁজে পাওয়া যায় না। কোথাও ট্যাংক সরিয়ে ফেলা হয়েছে, কোথাও বেসিন নষ্ট হয়ে পড়ে আছে। যেসব স্থানে কিছু অবকাঠামো এখনো রয়েছে, সেখানেও পানি সরবরাহ বা নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের অভাব দেখা যাচ্ছে।
আরও পড়ুন
বরেন্দ্র অঞ্চলের ১২৩ উপজেলায় পানি ও স্যানিটেশন সুবিধা বাড়াবে সরকার ৩৬ মিনিট আগে
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও হাত ধোয়ার সুবিধার ঘাটতি প্রকট। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) ও ইউনিসেফের ‘ওয়াশ ইন এডুকেশনাল অ্যান্ড হেলথকেয়ার ফ্যাসিলিটিজ সার্ভে ২০২৪’-এর তথ্য অনুযায়ী, দেশের মাত্র ৫১ দশমিক ৭ শতাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে হাত ধোয়ার মৌলিক সেবা রয়েছে। অর্থাৎ প্রায় অর্ধেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেই এ সুবিধা নিশ্চিত করা যায়নি। আরও উদ্বেগজনক বিষয় হলো, মাত্র ১১ দশমিক ১ শতাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পানি, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যবিধি খাতে নির্দিষ্ট বাজেট বরাদ্দ রয়েছে।
জরিপে দেখা গেছে, দেশের ৯৫ দশমিক ৪ শতাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে উন্নত পানির উৎস থাকলেও প্রতিষ্ঠানের ভেতরে পানির সুবিধা রয়েছে ৮৬ দশমিক ১ শতাংশ প্রতিষ্ঠানে। আবার মাত্র ৫৫ দশমিক ৪ শতাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রতিবন্ধীবান্ধব উন্নত পানির পয়েন্ট রয়েছে। এসব তথ্য থেকে বোঝা যায়, পানির উৎস থাকলেই শিক্ষার্থীদের জন্য কার্যকর হাত ধোয়ার ব্যবস্থা নিশ্চিত হচ্ছে না। প্রয়োজনীয় অবকাঠামো, প্রবাহমান পানি, সাবান এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ—সবকিছুর সমন্বয় প্রয়োজন।
অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণে বরাদ্দের নজির থাকলেও তার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। চতুর্থ প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ১২ হাজার ৫১১টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২৩ হাজার ৪১২টি ওয়াশ ব্লকের নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণে ২৩ কোটি ৪১ লাখ ২০ হাজার টাকা বরাদ্দ ছাড় করা হয়েছিল। প্রতিটি ওয়াশ ব্লকের জন্য বরাদ্দ ছিল ১০ হাজার টাকা। নির্দেশনা অনুযায়ী, বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির মাধ্যমে রক্ষণাবেক্ষণের কাজ বাস্তবায়ন এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষা কর্মকর্তাদের সহায়তা দেওয়ার কথা ছিল।
আরও পড়ুন
সালাহউদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংবিধান সংশোধন কমিটির বৈঠক ৪ ঘণ্টা আগে
তবে কোন বিদ্যালয়ে কতটুকু কাজ হয়েছে, কতটি ওয়াশ ব্লক সচল রয়েছে এবং কোথায় মেরামত প্রয়োজন—এসব বিষয়ে হালনাগাদ ও সমন্বিত তথ্যের ঘাটতি রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থ ব্যয়ের কার্যকারিতা মূল্যায়নের তথ্যও সংশ্লিষ্ট দপ্তরে নেই। ফলে বরাদ্দ থাকা সত্ত্বেও সব প্রতিষ্ঠানে প্রয়োজনীয় সুবিধা সচল রাখা যাচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ছে।
মোহাম্মদপুর সরকারি উচ্চবিদ্যালয়েও জরুরি ভিত্তিতে স্থাপন করা হাত ধোয়ার বেসিন ও ওয়াশ সেন্টারগুলো অকেজো অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা গেছে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের হাত ধোয়ার অভ্যাস গড়ে তোলার প্রচেষ্টা বাধাগ্রস্ত হয়। বিদ্যালয়ে পর্যাপ্ত পানি ও সাবান না থাকলে সচেতনতামূলক পাঠ বা পোস্টার দিয়ে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া কঠিন।
হাত ধোয়ার সুবিধার ঘাটতি জনস্বাস্থ্যের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ ঝুঁকি তৈরি করে। দূষিত হাতের মাধ্যমে জীবাণু খাবার, পানি ও মুখে প্রবেশ করতে পারে। এতে ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন সংক্রামক রোগ ছড়ানোর আশঙ্কা বাড়ে। শিশুদের ক্ষেত্রে ডায়রিয়া থেকে পানিশূন্যতা দেখা দিতে পারে, যা গুরুতর হলে প্রাণঘাতীও হতে পারে।
আরও পড়ুন
৬৪ লাখের বেশি এনআইডি সংশোধন আবেদন নিষ্পত্তি করেছে ইসি ৪ ঘণ্টা আগে
বিবিএস ও ইউনিসেফের ‘মাল্টিপল ইন্ডিকেটর ক্লাস্টার সার্ভে ২০২৫’-এর তথ্য অনুযায়ী, জরিপের আগের দুই সপ্তাহে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের ৭ দশমিক ১ শতাংশ ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছিল। শহরাঞ্চলে এ হার ৬ দশমিক ৬ শতাংশ এবং গ্রামাঞ্চলে ৭ দশমিক ২ শতাংশ। বিভাগভিত্তিক হিসাবে চট্টগ্রামে ৯ দশমিক ৮ শতাংশ এবং বরিশালে ৯ দশমিক ২ শতাংশ শিশুর ডায়রিয়ার তথ্য পাওয়া যায়। এসব ঘটনার সবই হাত না ধোয়ার কারণে হয়েছে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। দূষিত পানি, অনিরাপদ খাবার ও অপর্যাপ্ত স্যানিটেশনসহ বিভিন্ন কারণ ডায়রিয়ার জন্য দায়ী। তবে সাবান দিয়ে হাত ধোয়া সংক্রমণের ঝুঁকি কমানোর অন্যতম কার্যকর উপায়।
একই জরিপে দেখা যায়, দেশের ৬৮ দশমিক ৬ শতাংশ মানুষের বাসস্থানে পানি ও সাবানসহ হাত ধোয়ার সুবিধা রয়েছে। শহরাঞ্চলে এ হার ৭৬ দশমিক ৬ শতাংশ হলেও গ্রামাঞ্চলে ৬৫ দশমিক ২ শতাংশ। অর্থাৎ উল্লেখযোগ্যসংখ্যক মানুষ নিজ বাড়িতেও প্রয়োজনীয় উপকরণসহ হাত ধোয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও উন্নয়নকর্মীদের মতে, হাত ধোয়ার গুরুত্ব শুধু বিশেষ দিবস বা সংক্রমণের জরুরি পরিস্থিতিতে প্রচার করলে হবে না। স্থায়ী অবকাঠামো নির্মাণের পাশাপাশি নিয়মিত সাবান ও পানির সরবরাহ, নষ্ট ট্যাপ ও বেসিন দ্রুত মেরামত, পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের দায়িত্ব নিশ্চিত করা এবং নির্দিষ্ট বাজেট বরাদ্দ প্রয়োজন। একই সঙ্গে কোন প্রতিষ্ঠান কতটা কার্যকরভাবে এসব সুবিধা রক্ষণাবেক্ষণ করছে, তা নিয়মিত পরিদর্শন ও মূল্যায়নের ব্যবস্থা থাকতে হবে।
ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের ওয়াশ সেক্টরের প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর মো. শাহীন বলেন, শুধু হাত ধোয়ার গুরুত্ব প্রচার করলেই হবে না, মানুষ যাতে বাস্তবে হাত ধুতে পারে, সেই সুযোগও নিশ্চিত করতে হবে। সরকারি-বেসরকারি দপ্তর ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বেসিন-ট্যাপ সচল রাখা, নিরাপদ পানির নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ, সাবান কেনার নিয়মিত অর্থের সংস্থান এবং রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব নির্ধারণ—সবকিছুর সমন্বয় প্রয়োজন।
আরও পড়ুন
বঙ্গোপসাগরে সুস্পষ্ট লঘুচাপ, গভীর সমুদ্রে যেতে নিষেধাজ্ঞা ৫ ঘণ্টা আগে
তিনি আরও বলেন, সরকারি বরাদ্দের যথাযথ ব্যবহার এবং শিক্ষা ও জনস্বাস্থ্যসংশ্লিষ্ট দপ্তরের নিয়মিত তদারকি ও জবাবদিহি গুরুত্বপূর্ণ। করোনাভাইরাস মহামারি দেখিয়েছে, হাত ধোয়ার মতো সহজ একটি অভ্যাস জনস্বাস্থ্যের জন্য কতটা জরুরি। কিন্তু সেই শিক্ষা যদি শুধু মহামারির সময়ের জরুরি ব্যবস্থার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে, তাহলে অবকাঠামো নির্মাণের সুফল দীর্ঘস্থায়ী হবে না।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যক্রম সম্পর্কে জানতে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী এহতেশামুল রাসেল খান আনুষ্ঠানিক অনুমোদন ছাড়া তথ্য দিতে রাজি হননি। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাসের বক্তব্যও পাওয়া যায়নি। ঢাকা ওয়াসার উপব্যবস্থাপনা পরিচালক এ কে এম ফজলুল হকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বিশ্ব হাত ধোয়া দিবসের প্রেক্ষাপটে হাসপাতাল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এই চিত্র একটি মৌলিক প্রশ্ন সামনে এনেছে—হাত ধোয়ার গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতনতা বাড়লেও মানুষকে সেই সুযোগ দেওয়ার দায়িত্ব কতটা পালন করা হচ্ছে? জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় শুধু নতুন বেসিন স্থাপন বা প্রচারণা চালানো যথেষ্ট নয়। অবকাঠামো সচল রাখা, পানি ও সাবানের সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং রক্ষণাবেক্ষণে জবাবদিহি প্রতিষ্ঠা করা না গেলে সংক্রমণ প্রতিরোধের গুরুত্বপূর্ণ ব্যবস্থাটি কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ থেকে যাবে।
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন।