ছবি ভিডিও মতামত
সর্বশেষ
বরেন্দ্র অঞ্চলের ১২৩ উপজেলায় পানি ও স্যানিটেশন সুবিধা বাড়াবে সরকার আওয়ামী লীগের সঙ্গে সমঝোতার অভিযোগ নিয়ে যা বললেন রিজভী ব্যাঙ্ককে বাংলাদেশকে আশ্বাস, নিশ্চিত নয় অর্থায়ন বিক্ষোভে উত্তাল মণিপুর, আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে টিয়ার গ্যাস সালাহউদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংবিধান সংশোধন কমিটির বৈঠক গাজীপুরে গুদামে আগুন, নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিসের ৫ ইউনিট ৬৪ লাখের বেশি এনআইডি সংশোধন আবেদন নিষ্পত্তি করেছে ইসি বঙ্গোপসাগরে সুস্পষ্ট লঘুচাপ, গভীর সমুদ্রে যেতে নিষেধাজ্ঞা ইরানে নতুন করে হামলা না চালানোর আহ্বান আট দেশের শিক্ষাক্রমে যুক্ত হচ্ছে নতুন ৪ বই, বদলাবে শিখনপদ্ধতি
বাংলাদেশ

রাজধানীতে বাস রুট ৯৮ থেকে কমে হচ্ছে ৩২, প্রতি রুটে এক কোম্পানি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ১৫: ১০
রাজধানীতে বাস রুট ৯৮ থেকে কমে হচ্ছে ৩২, প্রতি রুটে এক কোম্পানি

রাজধানীর গণপরিবহনে দীর্ঘদিনের বিশৃঙ্খলা দূর করতে বাস রুট পুনর্বিন্যাসের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। এ পরিকল্পনার আওতায় ঢাকার ৯৮টি বাস রুট কমিয়ে ৩২টি করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই রুটে একাধিক কোম্পানির বাসের অনিয়ন্ত্রিত প্রতিযোগিতা বন্ধ করে প্রতিটি রুটে একটি কোম্পানির অধীনে বাস পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের আশা, এ ব্যবস্থা কার্যকর করা গেলে যত্রতত্র বাস থামিয়ে যাত্রী ওঠানামা, আগে যাওয়ার প্রতিযোগিতা, যাত্রী নিয়ে চালকদের টানাটানি এবং সড়কে বিশৃঙ্খলা কমানো সম্ভব হবে।

রাজধানীর সড়কে বাসের অসুস্থ প্রতিযোগিতা দীর্ঘদিনের সমস্যা। যাত্রী তোলার জন্য বাসের মধ্যে পাল্লাপাল্লি, নির্ধারিত স্থান বাদ দিয়ে যত্রতত্র থামানো, অন্য বাসকে সামনে যেতে বাধা দেওয়া এবং সড়কের ওপর দাঁড়িয়ে যাত্রী ওঠানামার কারণে যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। এতে একদিকে যেমন যানজট বাড়ে, অন্যদিকে যাত্রীদের নিরাপত্তা ও যাতায়াতের স্বাচ্ছন্দ্যও ব্যাহত হয়। এ পরিস্থিতি বদলাতে রুটভিত্তিক নিয়ন্ত্রিত বাস পরিচালনার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার।

আরও পড়ুন

বরেন্দ্র অঞ্চলের ১২৩ উপজেলায় পানি ও স্যানিটেশন সুবিধা বাড়াবে সরকার ৩ মিনিট আগে বরেন্দ্র অঞ্চলের ১২৩ উপজেলায় পানি ও স্যানিটেশন সুবিধা বাড়াবে সরকার

ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের (ডিটিসিএ) পরিকল্পনা অনুযায়ী, ৯৮টি রুটকে পুনর্বিন্যাস করে ৩২টি রুটে নিয়ে আসা হবে। প্রতিটি রুটে একটি কোম্পানি বাস পরিচালনার দায়িত্ব পাবে। অর্থাৎ একই করিডরে একাধিক কোম্পানির বাসের মধ্যে যাত্রী ধরার প্রতিযোগিতার পরিবর্তে নির্ধারিত কোম্পানির অধীনে সমন্বিতভাবে বাস চলাচলের ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

ডিটিসিএর ডেপুটি ট্রান্সপোর্ট প্ল্যানার ধ্রুব আলম জানিয়েছেন, সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সম্মিলিত উদ্যোগে ছয় মাসের মধ্যে পরিকল্পনাটি বাস্তবায়নের একটি পর্যায়ে পৌঁছানো সম্ভব। তবে পরিবহনব্যবস্থাটি পরিবর্তনশীল হওয়ায় বাস্তবায়নের অভিজ্ঞতা ও প্রয়োজনের ভিত্তিতে পরিকল্পনায় সংশোধন আনার সুযোগ থাকবে।

পরিকল্পনাটি বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট পরিবহন মালিকদের সম্মতি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে কর্তৃপক্ষ। এর আগে ঘাটারচর-কাঁচপুর রুটে একক কোম্পানির অধীনে বাস পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা প্রত্যাশিত সাফল্য পায়নি। এবার সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সম্মতি থাকায় উদ্যোগটি বাস্তবায়নের সম্ভাবনা বেশি বলে মনে করছে ডিটিসিএ। তবে আগের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার মালিকদের স্বার্থ, পরিচালন ব্যয় এবং ব্যবস্থাপনার কার্যকারিতা নিশ্চিত করা জরুরি হবে।

আরও পড়ুন

সালাহউদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংবিধান সংশোধন কমিটির বৈঠক ৩ ঘণ্টা আগে সালাহউদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংবিধান সংশোধন কমিটির বৈঠক

পরিকল্পনার অংশ হিসেবে চলতি সপ্তাহেই দুটি রুটে একক কোম্পানির অধীনে বাস চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর একটি আজিমপুর থেকে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে হয়ে বিমানবন্দর দিয়ে গাজীপুর পর্যন্ত। অন্যদিকে মোহাম্মদপুর-চট্টগ্রাম রোড এবং মিরপুর-মাওয়া করিডর নিয়েও আলোচনা চলছে। এসব করিডরে উদ্যোগের অগ্রগতি ভবিষ্যতে বৃহত্তর রুট পুনর্বিন্যাসের বাস্তবায়নপদ্ধতি নির্ধারণে ভূমিকা রাখতে পারে।

বাস রুট পুনর্বিন্যাসের পাশাপাশি পুরোনো ও জরাজীর্ণ বাস শনাক্ত করা এবং নির্ধারিত স্টপেজে যাত্রী ওঠানামা নিশ্চিত করার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। সরকারি নির্দেশনার পর রাজধানীর ২০টি পয়েন্টে এ কার্যক্রম চলছে। পরিবহন মালিকদের সংগঠনও উদ্যোগ বাস্তবায়নে কাজ শুরু করেছে। তবে পরিকল্পনাটি কার্যকর করতে সরকারের নীতিগত ও আর্থিক সহায়তা প্রয়োজন বলে মনে করছেন মালিকপক্ষের প্রতিনিধিরা।

আরও পড়ুন

৬৪ লাখের বেশি এনআইডি সংশোধন আবেদন নিষ্পত্তি করেছে ইসি ৪ ঘণ্টা আগে ৬৪ লাখের বেশি এনআইডি সংশোধন আবেদন নিষ্পত্তি করেছে ইসি

ঢাকা পরিবহন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল আলমের মতে, ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক পরিবহনব্যবস্থা চালু করা সম্ভব। তবে এ জন্য সরকারের নীতিগত সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কারণ, রুটভিত্তিক একটি কোম্পানির অধীনে বাস পরিচালনার ক্ষেত্রে বিদ্যমান মালিকানা কাঠামো, আয় বণ্টন, পরিচালন ব্যয় এবং বিনিয়োগের হিসাব সমন্বয় করা প্রয়োজন হবে।

পরিবহন বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু রুটের সংখ্যা কমিয়ে বা একটি কোম্পানির অধীনে বাস পরিচালনার সিদ্ধান্ত নিলেই রাজধানীর গণপরিবহনে শৃঙ্খলা ফিরবে না। এর জন্য প্রয়োজন টেকসই ব্যবসায়িক কাঠামো, মালিকদের আর্থিক ক্ষতি এড়ানোর ব্যবস্থা, নির্ধারিত সময়সূচি, সুনির্দিষ্ট স্টপেজ এবং নিয়ম ভাঙলে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার সক্ষমতা। এসব বিষয় নিশ্চিত করা না গেলে নতুন ব্যবস্থাও পুরোনো সমস্যার মুখে পড়তে পারে।

আরও পড়ুন

বঙ্গোপসাগরে সুস্পষ্ট লঘুচাপ, গভীর সমুদ্রে যেতে নিষেধাজ্ঞা ৪ ঘণ্টা আগে বঙ্গোপসাগরে সুস্পষ্ট লঘুচাপ, গভীর সমুদ্রে যেতে নিষেধাজ্ঞা

যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ শামসুল হক মনে করেন, বাস রুট ফ্র্যাঞ্চাইজি কার্যকর করতে সংশ্লিষ্ট করিডরে লেগুনাসহ ছোট যানবাহনের চলাচল নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। একই সড়কে বিভিন্ন ধরনের যানবাহনের অনিয়ন্ত্রিত চলাচল অব্যাহত থাকলে নির্ধারিত রুটে বাস পরিচালনার পরিকল্পনা বাধাগ্রস্ত হতে পারে। তাই বাসের রুট ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি করিডরভিত্তিক যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে দেখতে হবে।

অন্য বিশেষজ্ঞ হাদিউজ্জামানের মতে, বাসমালিকদের আর্থিক স্বার্থ সুরক্ষিত রাখা গেলে দীর্ঘ মেয়াদে এ ব্যবস্থা চালু রাখা সম্ভব। অর্থাৎ নতুন ব্যবস্থায় মালিকদের বিনিয়োগ ও আয়ের নিশ্চয়তা, পরিচালনার স্বচ্ছতা এবং কোম্পানির জবাবদিহি নিশ্চিত করা বাস্তবায়নের অন্যতম শর্ত।

বিশেষজ্ঞদের মতে, রাজধানীর বাস রুট পুনর্বিন্যাসের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত যাত্রীসেবার মান উন্নয়ন, সড়কে বাসের প্রতিযোগিতা কমানো এবং নির্ভরযোগ্য গণপরিবহন নিশ্চিত করা। এ জন্য শুধু কোম্পানিভিত্তিক পরিচালনা নয়, বরং নিয়মিত তদারকি, চালকদের প্রশিক্ষণ, বাসের মান নিয়ন্ত্রণ, নির্ধারিত স্টপেজে যাত্রী ওঠানামা এবং যাত্রীদের অভিযোগ জানানোর কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তোলা প্রয়োজন।

আরও পড়ুন

দেশের ৭০ পৌরসভায় ৩০০ কোটি টাকার প্রকল্প নিচ্ছে সরকার ৫ ঘণ্টা আগে দেশের ৭০ পৌরসভায় ৩০০ কোটি টাকার প্রকল্প নিচ্ছে সরকার

৯৮টি রুট থেকে ৩২টি রুটে যাওয়ার পরিকল্পনা রাজধানীর গণপরিবহন ব্যবস্থাপনায় বড় পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি করেছে। তবে পরিকল্পনার সাফল্য নির্ভর করবে এর বাস্তবায়ন কতটা সমন্বিত, আর্থিকভাবে টেকসই এবং যাত্রীবান্ধব করা যায় তার ওপর। সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে সমঝোতা, সরকারের ধারাবাহিক সহায়তা এবং কার্যকর নজরদারি নিশ্চিত করা গেলে এ উদ্যোগ রাজধানীর বাস চলাচলে শৃঙ্খলা ফেরানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।


বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন

মন্তব্য (০)

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন।

Bangladesh নিয়ে আরও পড়ুন