https://newsbdc.com/national/mvfkdrkpa7
বাংলাদেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা বেড়েছে: যুক্তরাজ্য
বাংলাদেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরে এসেছে এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে বলে উল্লেখ করেছে যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনের পর দেশের রাজনৈতিক ও সার্বিক পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
সম্প্রতি প্রকাশিত এক ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কান্ট্রি পলিসি অ্যান্ড ইনফরমেশন টিমের (সিপিআইটি) তিন কর্মকর্তা গত ৭ থেকে ১৫ জুন বাংলাদেশ সফর করে এ অনুসন্ধান পরিচালনা করেন।
আরও পড়ুন
৬৪ লাখের বেশি এনআইডি সংশোধন আবেদন নিষ্পত্তি করেছে ইসি এইমাত্র
প্রতিবেদন তৈরির সময় তাঁরা সাংবাদিক, মানবাধিকার সংগঠন, রাজনৈতিক দল ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলেন।
সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনে বলা হয়, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ের তুলনায় বর্তমানে রাজনৈতিক দল, সংবাদমাধ্যম, মানবাধিকার সংস্থা ও সাধারণ মানুষ বেশি স্বাধীনতা ভোগ করছেন। তাঁরা স্বাধীনভাবে মতামত প্রকাশ, সভা-সমাবেশ আয়োজন এবং প্রকাশ্য আলোচনায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।
নির্বাচনের পর কমেছে রাজনৈতিক সহিংসতা
প্রতিবেদনে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনকে সার্বিকভাবে শান্তিপূর্ণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। অতীতের নির্বাচনগুলোর তুলনায় এবারের নির্বাচনে সহিংসতা অনেক কম ছিল বলেও প্রতিবেদনে বলা হয়।
নির্বাচনের পর থেকে দেশে রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনা উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। বর্তমানে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ (এনসিপি) বিভিন্ন রাজনৈতিক দল স্বাধীনভাবে কর্মসূচি পালন, প্রচারণা, প্রতিবাদ সভা এবং সরকারের সমালোচনা করতে পারছে।
আরও পড়ুন
বঙ্গোপসাগরে সুস্পষ্ট লঘুচাপ, গভীর সমুদ্রে যেতে নিষেধাজ্ঞা ২৪ মিনিট আগে
তবে দেশের কিছু এলাকায় বিচ্ছিন্ন রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনা ঘটছে। প্রতিবেদনের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, এসব ঘটনার পেছনে স্থানীয় ক্ষমতার দ্বন্দ্ব, ব্যবসায়িক স্বার্থ এবং সম্পদ দখলসংক্রান্ত বিরোধের ভূমিকা রয়েছে।
আওয়ামী লীগের কার্যক্রম ও সমর্থকদের পরিস্থিতি
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ অবস্থায় রয়েছে। বিগত সরকারের আমলে মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং গণঅভ্যুত্থান ঘিরে সহিংসতার কারণে দলটির প্রতি সাধারণ মানুষের ক্ষোভ এখনো রয়েছে।
তবে দুর্নীতি, সহিংসতা কিংবা নিপীড়নের সঙ্গে যুক্ত নন—এমন আওয়ামী লীগের তৃণমূল পর্যায়ের কর্মী ও সাধারণ সমর্থকেরা নিজ নিজ এলাকায় অবস্থান করতে পারছেন।
আরও পড়ুন
দেশের ৭০ পৌরসভায় ৩০০ কোটি টাকার প্রকল্প নিচ্ছে সরকার ৫৯ মিনিট আগে
যদিও প্রকাশ্যে দলটির পক্ষে সমর্থন জানালে তাঁদের হয়রানি বা সামাজিক প্রতিরোধের মুখে পড়তে হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে আওয়ামী লীগের কিছু সদস্য অন্য রাজনৈতিক দলে যোগ দিয়েছেন। আবার কেউ কেউ দেশের অন্য এলাকায় চলে গেছেন কিংবা বিদেশে পাড়ি জমিয়েছেন।
২১ হাজারের বেশি মামলা প্রত্যাহার
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহারের বিষয়টিও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
আরও পড়ুন
ভারত-পাকিস্তানকে পেছনে ফেলে ক্ষুধা জয়ের অনন্য লড়াইয়ে বাংলাদেশ ১ ঘণ্টা আগে
বাংলাদেশ পুলিশের তথ্যের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়, আগের সরকারের আমলে দায়ের করা ২১ হাজারের বেশি রাজনৈতিক বা মিথ্যা মামলা বাতিল করা হয়েছে। পুরোনো অন্যান্য মামলার আইনগত পর্যালোচনাও চলমান রয়েছে।
তবে বিগত সরকারের সময়ে এবং জুলাই আন্দোলনে বিতর্কিত ভূমিকার অভিযোগে আওয়ামী লীগের অনেক শীর্ষ নেতা, কর্মী ও প্রশাসনিক কর্মকর্তা ফৌজদারি মামলার মুখোমুখি হচ্ছেন। এসব মামলার বিচার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ও সাধারণ আদালতে চলছে। কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি জামিনে মুক্তি পেলেও অনেকে এখনো আটক রয়েছেন।
সংস্কার ও পুলিশ প্রশাসন নিয়ে উদ্বেগ
বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ইতিবাচক পরিবর্তনের কথা উল্লেখ করলেও কয়েকটি ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
প্রতিবেদনে দুর্নীতি প্রতিরোধ, পুলিশ প্রশাসনের স্থবিরতা কাটানো, প্রশাসনের স্বচ্ছতা ও কার্যকারিতা নিশ্চিত করা এবং গণঅভ্যুত্থানের পর প্রস্তাবিত কাঠামোগত সংস্কার বাস্তবায়নের ধীরগতি নিয়ে উদ্বেগের কথা তুলে ধরা হয়েছে।
আরও পড়ুন
রাশিয়ার কালিনিনের চেয়েও আধুনিক প্রযুক্তি রূপপুরে, গুরুত্ব দক্ষ ব্যবস্থাপনায় ২ ঘণ্টা আগে
সুশীল সমাজ ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মতে, এসব ক্ষেত্রে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা, আইনের শাসন এবং নাগরিক অধিকার সুরক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
সব মিলিয়ে, যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এই মূল্যায়নে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিবেশ ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ক্ষেত্রে অগ্রগতির চিত্র উঠে এসেছে।
একই সঙ্গে দুর্নীতি দমন, পুলিশ প্রশাসনের সংস্কার এবং কাঠামোগত পরিবর্তন বাস্তবায়নকে ভবিষ্যতের গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন।