https://newsbdc.com/national/mvq9te9sj2
নভেম্বরের মধ্যে চালুর লক্ষ্য বন্ধ তিন সার কারখানা
দেশে সার উৎপাদন বাড়িয়ে আমদানিনির্ভরতা কমাতে আগামী নভেম্বরের মধ্যে বন্ধ থাকা রাষ্ট্রীয় তিনটি সার কারখানা চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। পাশাপাশি বিদ্যমান কারখানার আধুনিকায়ন ও নতুন কারখানা স্থাপনের মাধ্যমে আগামী তিন থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে বার্ষিক সার উৎপাদন ২৭ লাখ মেট্রিক টনে উন্নীত করার পরিকল্পনা করেছে বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি)।
বিসিআইসি সূত্রে জানা গেছে, সংস্থাটির অধীন সাতটি সার কারখানার মধ্যে বর্তমানে চারটি চালু রয়েছে। গ্যাস ও কাঁচামালের সংকটে বন্ধ রয়েছে চট্টগ্রামের টিএসপি কমপ্লেক্স লিমিটেড (টিএসপিএল), ডিএপি ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (ডিএপিএফসিএল) এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ ফার্টিলাইজার অ্যান্ড কেমিক্যাল কোম্পানি লিমিটেড (এএফসিসিএল)।
আরও পড়ুন
৪৪ বছর পর ফিরছে গ্রাম সরকার, খসড়ায় ১৭ সদস্যের কাঠামো ৪৫ মিনিট আগে
প্রয়োজনীয় গ্যাস ও কাঁচামাল সরবরাহ নিশ্চিত করার পাশাপাশি মেরামতকাজ শেষ করে কারখানাগুলো চালুর প্রস্তুতি চলছে।
গ্যাস ও কাঁচামাল সরবরাহে গুরুত্ব
বিসিআইসির চেয়ারম্যান মো. বাবুল মিঞা বাসসকে বলেন, আশুগঞ্জ সার কারখানায় উৎপাদন শুরু করতে নিরবচ্ছিন্নভাবে নির্ধারিত চাপে গ্যাস সরবরাহ প্রয়োজন। অন্যদিকে, টিএসপি ও ডিএপি কারখানা চালুর জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামাল নিশ্চিত করতে হবে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন
‘বিগ-বি’ উদ্যোগ এগিয়ে নিতে একমত বাংলাদেশ-জাপান: তাকাইচি ১ ঘণ্টা আগে
প্রয়োজনীয় সরবরাহ নিশ্চিত করা গেলে নভেম্বরের মধ্যে কারখানাগুলো চালু করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
দেশীয় উৎপাদনে চাহিদার আংশিক পূরণ
বিসিআইসির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে রাষ্ট্রীয় কারখানাগুলোতে ১১ লাখ ৭৩২ দশমিক ৫০ মেট্রিক টন ইউরিয়া, ৬৮ হাজার ২৫৯ মেট্রিক টন টিএসপি এবং ৮২ হাজার ১৪২ মেট্রিক টন ডিএপি সার উৎপাদিত হয়েছে।
ওই অর্থবছরে দেশে ইউরিয়ার চাহিদা ছিল ২৬ লাখ মেট্রিক টন। দেশীয় উৎপাদনে এ চাহিদার প্রায় ৪২ দশমিক ৩৪ শতাংশ পূরণ হয়েছে। টিএসপি ও ডিএপি সারের ক্ষেত্রে উৎপাদন দিয়ে চাহিদার যথাক্রমে ৯ দশমিক ১০ শতাংশ ও ৫ দশমিক ৫৩ শতাংশ পূরণ করা সম্ভব হয়েছে।
আরও পড়ুন
বৈঠক শেষে তারেক রহমানের সৌজন্যে অফিসিয়াল ভোজে দুই প্রধানমন্ত্রী ১ ঘণ্টা আগে
বিসিআইসির চেয়ারম্যান জানান, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ১৬ দশমিক ৪৪ লাখ মেট্রিক টন এবং ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ১৪ দশমিক ৭৯ লাখ মেট্রিক টন ইউরিয়া আমদানি করতে হয়েছে। দেশীয় উৎপাদন বাড়ানো গেলে আমদানির ব্যয় কমবে এবং বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে।
উৎপাদন বাড়িয়ে ব্যয় সাশ্রয়ের পরিকল্পনা
সব সার কারখানা চালু করে ইউরিয়া আমদানি বাবদ ২২ হাজার কোটি টাকা সাশ্রয়ের লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে পুরোনো কারখানার প্রযুক্তি আধুনিকায়ন, উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং নতুন ইউরিয়া ও টিএসপি কারখানা স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
আরও পড়ুন
জ্বালানি, প্রযুক্তি ও অবকাঠামো খাতে জাপানি বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর ১ ঘণ্টা আগে
তবে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস ও কাঁচামাল সরবরাহ, প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ এবং কারখানার কার্যকর রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করা জরুরি।
বিসিআইসির আশা, পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে সারের আমদানিনির্ভরতা কমবে, বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ হ্রাস পাবে এবং কৃষকদের চাহিদা অনুযায়ী সার সরবরাহ সহজ হবে।
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন।