https://newsbdc.com/business-economy/mvqb75eyi9
প্রযুক্তি ও টেকসই উৎপাদনে বাংলাদেশের পোশাকশিল্পে এমএএসের উদ্যোগ
বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকতে বাংলাদেশের পোশাকশিল্পে প্রযুক্তির ব্যবহার, কর্মীদের দক্ষতা বৃদ্ধি ও পরিবেশবান্ধব উৎপাদনব্যবস্থার গুরুত্ব বাড়ছে। এ প্রেক্ষাপটে বৈশ্বিক অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশে দীর্ঘমেয়াদি উৎপাদন সক্ষমতা গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে পোশাক প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান এমএএস হোল্ডিংস (MAS Holdings)।
তিন দশকের বেশি সময় ধরে পোশাকশিল্পে কাজ করা প্রতিষ্ঠানটি স্পোর্টসওয়্যার, পারফরম্যান্স পোশাক ও বিশেষায়িত পণ্য উৎপাদনে দক্ষতা অর্জন করেছে। বাংলাদেশে তাদের কার্যক্রমে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ, কর্মীদের দক্ষতা উন্নয়ন এবং টেকসই উৎপাদনব্যবস্থাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
আরও পড়ুন
বিদেশি সহায়তার প্রতিশ্রুতি বেড়েছে ৪০ শতাংশ ১ ঘণ্টা আগে
এমএএস সুমান্ত্রার জেনারেল ম্যানেজার আদিত্য বান্দারা বলেন, পোশাক উৎপাদনের ভবিষ্যৎ প্রযুক্তি ও টেকসই উৎপাদনের ওপর নির্ভর করবে। তাঁর মতে, আধুনিক প্রযুক্তি, দক্ষতা এবং বিশ্বমানের উৎপাদনের মাধ্যমে বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের পণ্যের মূল্য বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে।
প্রযুক্তিতে টেকসই উৎপাদন
পোশাক কারখানায় বর্জ্য কমানো, উৎপাদনদক্ষতা বাড়ানো এবং সম্পদের কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করতে প্রযুক্তির ভূমিকা বাড়ছে। স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা, তথ্যভিত্তিক উৎপাদন পরিকল্পনা, ডিজিটাল পর্যবেক্ষণ ও জ্বালানি ব্যবস্থাপনা এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
আরও পড়ুন
পাঁচ বছরে বাংলাদেশে ৬.৩৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের ঘোষণা জাপানের ২ ঘণ্টা আগে
এমএএসের বৈশ্বিক টেকসই উন্নয়ন কৌশল ‘প্ল্যান ফর চেইঞ্জ’-এর আওতায় টেকসই পণ্য তৈরি, পুনর্ব্যবহার, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, পানিসম্পদের দায়িত্বশীল ব্যবহার এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
এর একটি উদাহরণ এমএএস সুমান্ত্রা ও প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্ম রিভার্স রিসোর্সেসের অংশীদারি। ২০২০ সালের জুলাই থেকে চালু এই উদ্যোগের আওতায় কাপড় কাটার পর তৈরি হওয়া অবশিষ্টাংশ পুনর্ব্যবহারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের আগস্ট পর্যন্ত ১৫৬ টনের বেশি বস্ত্রের অবশিষ্টাংশ পুনর্ব্যবহারের জন্য পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয় সুতা উৎপাদকেরা এসব উপকরণ থেকে সুতা তৈরি করেন। পরে ইমপ্রেস-নিউটেক্স কম্পোজিট টেক্সটাইলস সেই সুতা দিয়ে কাপড় তৈরি করে, যা সংগ্রহ করে এমএএস সুমান্ত্রা। এ প্রক্রিয়ায় উৎপাদনবর্জ্য কমানোর পাশাপাশি উপকরণের পুনর্ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হয়েছে।
আরও পড়ুন
বৈদেশিক সহায়তার দ্বিগুণের বেশি ঋণ পরিশোধ করেছে বাংলাদেশ ২৬ অক্টোবর ২০২৬
বৈশ্বিক সক্ষমতা, স্থানীয় কর্মী
প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে এমএএসের পাঁচ হাজারের বেশি কর্মী রয়েছেন। এ ছাড়া অংশীদার প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন কার্যক্রমে যুক্ত আছেন আরও প্রায় চার হাজার কর্মী। তাদের কারখানায় উত্তর আমেরিকা, ইউরোপ ও এশিয়ার বাজারের জন্য ক্রীড়াপোশাক, সেলাইবিহীন পোশাক ও অন্তর্বাস তৈরি হয়।
আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণের পাশাপাশি কর্মীদের দক্ষতা, নেতৃত্বের গুণাবলি ও নিরাপদ কর্মপরিবেশ তৈরিতেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ‘বিয়ন্ড বর্ডারস’ কর্মসূচির মাধ্যমে কর্মীরা বিভিন্ন দেশের কার্যক্রমে কাজ করে অভিজ্ঞতা অর্জন এবং নেতৃত্বের দক্ষতা বাড়ানোর সুযোগ পান।
আরও পড়ুন
পাঁচ বছরে বাংলাদেশে ৬৩৫ কোটি ডলার বিনিয়োগ করতে চায় জাপান ২৬ অক্টোবর ২০২৬
সামাজিক ও পরিবেশগত উদ্যোগ
বাংলাদেশে এমএএসের কার্যক্রম কারখানার বাইরেও বিস্তৃত বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। ২০২৪ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে স্বাস্থ্য পরীক্ষা ক্যাম্পসহ বিভিন্ন সামাজিক উদ্যোগে সহায়তা করা হয়েছে। পাশাপাশি এতিমখানার ১৩০ শিশুর জন্য মাসিক শুকনো খাদ্যসামগ্রী সরবরাহের উদ্যোগেও প্রতিষ্ঠানটি যুক্ত হয়েছে।
পরিবেশ সচেতনতা বাড়াতে ১৫টির বেশি স্কুলে বর্জ্য পৃথকীকরণ, বৃক্ষরোপণ, কার্বন নিঃসরণ কমানো এবং সম্পদের দায়িত্বশীল ব্যবহার বিষয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন
যেসব কাজে প্রয়োজন হতে পারে টিআইএন সনদ ২৫ অক্টোবর ২০২৬
ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ
বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে বাংলাদেশের পোশাকশিল্পকে উৎপাদন সক্ষমতার পাশাপাশি স্বচ্ছতা, পরিবেশগত কার্যকারিতা ও শ্রমিককল্যাণ নিশ্চিত করতে হবে। প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহার, দক্ষ জনশক্তি তৈরি এবং টেকসই উৎপাদনব্যবস্থায় বিনিয়োগ এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।
বৈশ্বিক অভিজ্ঞতা ও স্থানীয় সক্ষমতার সমন্বয়ে এমএএসের কার্যক্রম বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের রূপান্তরের একটি উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। এ ধরনের উদ্যোগ রপ্তানি প্রতিযোগিতা জোরদার এবং দায়িত্বশীল উৎপাদনে বাংলাদেশের অবস্থান শক্তিশালী করার সুযোগ তৈরি করতে পারে।
অর্থনীতি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন।