https://newsbdc.com/national/mvqkorzidc
ডেঙ্গুতে ৪০০ মৃত্যু, অক্টোবরের ২৭ দিনেই ঝরেছে ১৫৫ প্রাণ
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
আরও পড়ুন
নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসারে নতুন সিদ্ধান্ত সরকারের ১৫ মিনিট আগে
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৮৯৯ জন ঢাকা বিভাগের। এ ছাড়া খুলনা বিভাগে ২৫০ জন, চট্টগ্রামে ২৪১, রাজশাহীতে ২২৯, বরিশালে ২১৭, রংপুরে ১১২, ময়মনসিংহে ৯৭ এবং সিলেট বিভাগে ২৬ জন ভর্তি হয়েছেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মাসভিত্তিক তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, বছরের প্রথম দিকে ডেঙ্গুতে মৃত্যুর সংখ্যা তুলনামূলক কম ছিল। জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে দুজন করে মারা যান। মার্চ ও এপ্রিলে কোনো মৃত্যুর তথ্য পাওয়া যায়নি। মে মাসে মারা যান একজন। জুনে মৃত্যু বেড়ে দাঁড়ায় ১৩ জনে। জুলাইয়ে ৩৬ এবং আগস্টে ৪৩ জনের মৃত্যু হয়। সেপ্টেম্বরে প্রাণহানি বেড়ে দাঁড়ায় ১৪৮ জনে। আর অক্টোবরের ২৭ দিনেই মারা গেছেন ১৫৫ জন।
আরও পড়ুন
তারেক রহমানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার ঘোষণা তাকাইচির ৪৫ মিনিট আগে
চলতি বছরের মোট মৃত্যুর বড় অংশ ঘটেছে সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরে। এই দুই মাসে ডেঙ্গুতে মারা গেছেন ৩০৩ জন, যা বছরের মোট মৃত্যুর ৭৫ শতাংশের বেশি। বিপরীতে, বছরের প্রথম আট মাসে মৃত্যু হয়েছিল ৯৭ জনের। অর্থাৎ, বছরের শেষ দুই মাসে ডেঙ্গুতে প্রাণহানি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। অক্টোবরের ২৭ দিনেই মৃত্যুর সংখ্যা সেপ্টেম্বরের পুরো মাসের মৃত্যুকে ছাড়িয়ে গেছে।
এক দিনের মৃত্যুর হিসাবেও নতুন রেকর্ড হয়েছে। এর আগে গত ৬ ও ১৫ অক্টোবর ডেঙ্গুতে এক দিনে সর্বোচ্চ ১০ জন করে মারা যান। মঙ্গলবারের বিজ্ঞপ্তিতে ১১ জনের মৃত্যুর তথ্য জানানো হয়েছে, যা চলতি বছরের এক দিনে সর্বোচ্চ প্রাণহানি।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, ১ জানুয়ারি থেকে ২৭ অক্টোবর সকাল ৮টা পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ লাখ ২৮ হাজার ২৩৭ জন। তাঁদের মধ্যে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ১ লাখ ২২ হাজার ৪২২ জন। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৬ হাজার ৪১৫ জন।
আরও পড়ুন
দুই দিন পেছাল এইচএসসির ফল, প্রকাশ ৩১ অক্টোবর ৪৬ মিনিট আগে
ডেঙ্গু প্রতিরোধে এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস এবং প্রাপ্তবয়স্ক মশা নিধনের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. এ বি এম আবদুল্লাহ। তিনি বলেন, প্রশাসনকে নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানোর পাশাপাশি ব্যক্তিগত পর্যায়েও মশার কামড় থেকে সুরক্ষার ব্যবস্থা নিতে হবে।
তিনি বলেন, ডেঙ্গুতে আক্রান্ত কিছু রোগীর শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হচ্ছে। কেউ কেউ এক থেকে দুই দিনের মধ্যেই গুরুতর অসুস্থ হয়ে শকের পর্যায়ে চলে যাচ্ছেন। এ কারণে জ্বর হলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
আরও পড়ুন
খাদ্যশস্য আত্মসাতের অভিযোগে চার কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুদকের মা/মলা ১ ঘণ্টা আগে
শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি, গর্ভবতী নারী এবং ক্যানসার ও যকৃতের রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জ্বর হলে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেন তিনি। ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হলে পর্যাপ্ত তরল খাবার গ্রহণের পাশাপাশি শারীরিক অবস্থার পরিবর্তনের দিকে নজর রাখার কথাও বলেন এই বিশেষজ্ঞ।
ডা. আবদুল্লাহর পরামর্শ, বমি, খাবার গ্রহণে অসুবিধা কিংবা পাতলা পায়খানা হলে দেরি না করে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে। জ্বর হলে নিজের ইচ্ছামতো ফার্মেসি থেকে ব্যথানাশক ওষুধ খাওয়া এড়িয়ে চলতে হবে। রোগের প্রাথমিক পর্যায়ে চিকিৎসা শুরু করা গেলে সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে। তবে চিকিৎসায় দেরি হলে বা রোগীর অবস্থা গুরুতর হয়ে শক দেখা দিলে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন হতে পারে।
আরও পড়ুন
ডেঙ্গুতে এক দিনে সর্বোচ্চ ১১ মৃত্যু, প্রাণহানি ছাড়াল ৪০০ ১ ঘণ্টা আগে
মুগদা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. মুহাম্মদ নূরুল ইসলাম বলেন, প্রতিবছরই মানুষ ডেঙ্গু ভাইরাসের নতুন ধরনে আক্রান্ত হচ্ছেন। শিশুদের শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতির পেছনে দ্বিতীয়বার ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি একটি সম্ভাব্য কারণ হতে পারে।
তিনি বলেন, ডেঙ্গু শনাক্ত হওয়ার পরই শুধু নয়, উপসর্গ দেখা দিলেও গুরুত্ব দিতে হবে। আক্রান্ত ব্যক্তির শারীরিক অবস্থার ওপর নিবিড় নজর রাখার পাশাপাশি চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ গ্রহণ ও প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করানো জরুরি।
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন।