https://newsbdc.com/national-district/mvqme71bnj
নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসারে নতুন সিদ্ধান্ত সরকারের
নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের সরঞ্জাম আমদানিতে শুল্ক-কর সুবিধা দেওয়াসহ বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ২০৩০ সালের মধ্যে ১০ হাজার মেগাওয়াট নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের আশাবাদ জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) রাজধানীর বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে আয়োজিত ‘রিনিউয়েবল এনার্জি ফেস্ট ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
আরও পড়ুন
তারেক রহমানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার ঘোষণা তাকাইচির ১ ঘণ্টা আগে
মন্ত্রী জানান, সৌরবিদ্যুতের সরঞ্জাম আমদানিতে শুল্ক-কর কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসারে বিশেষ আইন নিয়েও কাজ চলছে। এ খাতে সরকারের উদ্যোগ বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
বিদ্যুৎ সঞ্চালন ব্যবস্থার আধুনিকায়ন জরুরি
নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসারে বিদ্যুৎ সঞ্চালন ব্যবস্থার সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন মন্ত্রী। তাঁর মতে, দেশের বিদ্যমান গ্রিডকে আধুনিকায়ন করা জরুরি, যাতে পারমাণবিক, জীবাশ্ম জ্বালানি ও নবায়নযোগ্য উৎস থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ কার্যকরভাবে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা যায়।
আরও পড়ুন
দুই দিন পেছাল এইচএসসির ফল, প্রকাশ ৩১ অক্টোবর ১ ঘণ্টা আগে
তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা বাড়ানো গেলে ২০৩০ সালের মধ্যে ১০ হাজার মেগাওয়াট নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যে পৌঁছানো সম্ভব হবে।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের চ্যালেঞ্জ
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের আর্থিক চাপের কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, বেশি দামে বিদ্যুৎ কিনে কম দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। বিদ্যুৎকেন্দ্রের সক্ষমতা ব্যবহার না হলেও ক্যাপাসিটি চার্জ দিতে হচ্ছে। পাশাপাশি বিদ্যুৎ কেনা ও জ্বালানি সরবরাহেও নানা সমস্যা রয়েছে।
তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানির প্রসঙ্গে তিনি আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতার কথা উল্লেখ করেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, সরবরাহে বিঘ্ন ঘটলে বেশি দামে জ্বালানি কিনতে হয়, যা দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে।
আরও পড়ুন
খাদ্যশস্য আত্মসাতের অভিযোগে চার কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুদকের মা/মলা ১ ঘণ্টা আগে
মন্ত্রী আরও বলেন, দেশীয় জ্বালানি সম্পদের অনুসন্ধান ও ব্যবস্থাপনায় অতীতের সীমাবদ্ধতার প্রভাব দীর্ঘদিন ধরে বহন করতে হতে পারে।
জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানোর আহ্বান
অনুষ্ঠানে বুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক একরামুল হক বলেন, দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত বর্তমানে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি অর্থনীতির ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। এ পরিস্থিতিতে নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
আরও পড়ুন
ডেঙ্গুতে ৪০০ মৃত্যু, অক্টোবরের ২৭ দিনেই ঝরেছে ১৫৫ প্রাণ ১ ঘণ্টা আগে
একশনএইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ কবির বলেন, জ্বালানি খাতে নতুন গবেষণা ও প্রযুক্তির উন্নয়ন জরুরি। জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা এবং আমদানিনির্ভরতা কমাতে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো প্রয়োজন।
নবায়নযোগ্য জ্বালানি নিয়ে তিন দিনের উৎসব
‘একটি ন্যায্য, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সবুজ জ্বালানি রূপান্তর’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত এ উৎসবে তরুণ, নারী, শ্রমিক, নাগরিক সংগঠন, গবেষক, বিনিয়োগকারী ও উন্নয়ন সহযোগীদের প্রতিনিধিরা অংশ নিচ্ছেন।
আরও পড়ুন
ডেঙ্গুতে এক দিনে সর্বোচ্চ ১১ মৃত্যু, প্রাণহানি ছাড়াল ৪০০ ১ ঘণ্টা আগে
একশনএইড বাংলাদেশ, বুয়েট, জাস্ট এনার্জি ট্রানজিশন নেটওয়ার্ক বাংলাদেশ (জেটনেট-বিডি) এবং বুয়েটের ইনস্টিটিউট অব এনার্জি অ্যান্ড সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্টের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এ উৎসবের লক্ষ্য নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসারে নীতিনির্ধারণ, বিনিয়োগ ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা বাড়ানো।
আয়োজকেরা আশা করছেন, উৎসবের আলোচনার মধ্য দিয়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসারে সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের পথ তৈরি হবে।
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন।