https://newsbdc.com/business-economy/mvqn5lqwy7
পাটকাঠি থেকে চারকোল, ফরিদপুরের কৃষকদের আয়ের নতুন সম্ভাবনা
একসময় পাটকাঠি ছিল কৃষকের কাছে প্রায় ফেলনা। জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার কিংবা ঘরের বেড়া ও ছাউনি তৈরির কাজেই সীমাবদ্ধ ছিল এর ব্যবহার। তবে সময়ের সঙ্গে বদলেছে সেই চিত্র। পাটকাঠি থেকে চারকোল তৈরি এবং বিদেশে রপ্তানির সম্ভাবনা বাড়ায় ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার কৃষকদের কাছে এটি হয়ে উঠছে বাড়তি আয়ের উৎস।
ফরিদপুরের বিভিন্ন এলাকায় পাটের আবাদ ব্যাপক। পাট থেকে সোনালি আঁশ সংগ্রহের পর কৃষকেরা এখন পাটকাঠিও যত্ন করে শুকিয়ে সংরক্ষণ করছেন। ভালো দাম পাওয়ার আশায় বাড়ির আঙিনা ও খোলা জায়গায় পাটকাঠি স্তূপ করে রাখছেন তাঁরা।
আরও পড়ুন
টিন সার্টিফিকেট বাতিল করতে কোথায় যাবেন, কীভাবে আবেদন করবেন ২ ঘণ্টা আগে
স্থানীয় কৃষকদের ভাষ্য, আগে পাটকাঠির তেমন বাজারমূল্য ছিল না। অনেক সময় বাড়ির আঙিনায় পড়ে থেকে নষ্ট হতো। এখন চাহিদা বাড়ায় ব্যবসায়ীরা গ্রামে গ্রামে গিয়ে পাটকাঠি কিনে নিচ্ছেন। পাটের ন্যায্যমূল্য না পেলেও পাটকাঠি বিক্রির আয় দিয়ে সেই ঘাটতি কিছুটা পুষিয়ে নেওয়া যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন কেউ কেউ।
উপজেলার পূর্ব আড়পাড়া গ্রামের পাটচাষি আকরাম শেখ বলেন, কয়েক বছর আগেও বাড়ির আঙিনায় পাটকাঠি পড়ে থেকে নষ্ট হতো। এখন এর চাহিদা বেড়েছে। ব্যবসায়ীরা গ্রামে এসে পাটকাঠি কিনে নিয়ে যান, দামও পাওয়া যাচ্ছে ভালো।
আরও পড়ুন
মাথাপিছু জিডিপিতে ভারতকে ছাড়িয়ে যাওয়ার পূর্বাভাস বাংলাদেশের: আইএমএফ ৩ ঘণ্টা আগে
কলাইকান্দা গ্রামের কৃষক আনন্দের ভাষ্য, আগে অবহেলায় ফেলে রাখা পাটকাঠি এখন তাঁদের আয়ের অন্যতম উৎস হয়ে উঠেছে।
পাটকাঠি থেকে চারকোল, তৈরি হচ্ছে নানা পণ্য
স্থানীয় সাংবাদিক মো. মফিজুর রহমান জানান, মধুখালী উপজেলার রায়পুর ও গাজনা ইউনিয়নে পাটকাঠি থেকে চারকোল তৈরির কারখানা গড়ে উঠেছে। এসব কারখানায় পাটকাঠি প্রক্রিয়াজাত করে কার্বনসমৃদ্ধ উপাদান তৈরি করা হয়, যা বিভিন্ন শিল্পে কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
আরও পড়ুন
প্রযুক্তি ও টেকসই উৎপাদনে বাংলাদেশের পোশাকশিল্পে এমএএসের উদ্যোগ ৬ ঘণ্টা আগে
তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, পাটকাঠি থেকে তৈরি চারকোল বা কার্বনসমৃদ্ধ উপাদান প্রিন্টার ও ফটোকপির কালি, আতশবাজি, ব্যাটারি, প্রসাধনসামগ্রী, কিছু ওষুধ ও সার উৎপাদনসহ বিভিন্ন কাজে ব্যবহৃত হয়। এ উপাদান বিদেশে রপ্তানির সুযোগ তৈরি হওয়ায় পাটকাঠির বাজারেও নতুন সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।
পাট চাষ বাড়াতে প্রয়োজন সহায়তা
কৃষিসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, পাট চাষে সরকারি প্রণোদনা, উন্নতমানের বীজ সরবরাহ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ এবং বাজারে ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা গেলে মধুখালীতে পাটের আবাদ আরও বাড়তে পারে। এতে পাট ও পাটকাঠি—দুই উৎস থেকেই কৃষকের আয় বাড়ার পাশাপাশি দেশের রপ্তানি আয়ে অবদান রাখার সুযোগ তৈরি হবে।
আরও পড়ুন
বিদেশি সহায়তার প্রতিশ্রুতি বেড়েছে ৪০ শতাংশ ৬ ঘণ্টা আগে
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মাহবুব ইলাহী জানান, চলতি মৌসুমে মধুখালীর ১১টি ইউনিয়নে মোট ৮ হাজার ৬৫৫ হেক্টর জমিতে পাটের চাষ হয়েছে। এ বছর লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৮ হাজার ৬৫০ হেক্টর। অর্থাৎ লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৫ হেক্টর বেশি জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে।
পাটকাঠির বহুমুখী ব্যবহার ও চারকোল তৈরির সম্ভাবনাকে কাজে লাগানো গেলে ফরিদপুরের কৃষকদের জন্য এটি বাড়তি আয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হয়ে উঠতে পারে।
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন।