https://newsbdc.com/business-economy/mvqjpaqnsj
টিন সার্টিফিকেট বাতিল করতে কোথায় যাবেন, কীভাবে আবেদন করবেন
ব্যাংক হিসাব খোলা, ঋণ নেওয়া কিংবা অনলাইনে আয় করার প্রয়োজনে অনেকেই ই-টিন (e-TIN) সার্টিফিকেট করেছেন। পরে আয় বন্ধ হয়ে গেলে বা টিআইএন ব্যবহারের প্রয়োজন না থাকলেও করদাতা নিবন্ধন বাতিলের নিয়ম না জানায় অনেকে সমস্যায় পড়েন। তবে নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ সাপেক্ষে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কাছে টিআইএন বাতিলের আবেদন করা যায়।
আয়কর আইন, ২০২৩-এর ২৬২ ধারা অনুযায়ী, নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে করদাতা নিবন্ধন বাতিলের সুযোগ রয়েছে। তবে শুধু আয় করযোগ্য সীমার নিচে নেমে গেলেই টিআইএন স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয় না। আবেদন যাচাই করে কর কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়।
কোন পরিস্থিতিতে টিআইএন বাতিলের আবেদন করা যায়?
ব্যবসা বা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হলে
ব্যবসা স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে গেলে এবং সংশ্লিষ্ট নিবন্ধন আর প্রয়োজন না থাকলে বাতিলের আবেদন করা যেতে পারে।
ভুল করে একাধিক টিআইএন হলে
আরও পড়ুন
মাথাপিছু জিডিপিতে ভারতকে ছাড়িয়ে যাওয়ার পূর্বাভাস বাংলাদেশের: আইএমএফ ১ ঘণ্টা আগে
একই ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নামে একাধিক টিআইএন তৈরি হলে প্রয়োজনীয় নিবন্ধনটি রেখে অতিরিক্ত নিবন্ধন বাতিলের আবেদন করা যায়।
করযোগ্য আয় না থাকলে
করযোগ্য আয় না থাকা এবং ভবিষ্যতেও করযোগ্য আয় হওয়ার সম্ভাবনা না থাকার মতো পরিস্থিতিতে আইন অনুযায়ী বাতিলের আবেদন করা যেতে পারে। তবে এ ক্ষেত্রে প্রযোজ্য শর্ত পূরণ করতে হবে।
বিদেশে স্থায়ীভাবে চলে গেলে
আরও পড়ুন
প্রযুক্তি ও টেকসই উৎপাদনে বাংলাদেশের পোশাকশিল্পে এমএএসের উদ্যোগ ৪ ঘণ্টা আগে
কেউ স্থায়ীভাবে বাংলাদেশ ত্যাগ করলে এবং দেশে আয় উপার্জনকারী কোনো কার্যক্রম না চালালে টিআইএন বাতিলের আবেদন করতে পারেন।
করদাতার মৃত্যু হলে
করদাতার মৃত্যু হলে তাঁর নিবন্ধন বাতিলের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ আবেদন করা যেতে পারে। তবে কোনো ব্যবসা বা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে টিআইএন যুক্ত থাকলে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো আগে যাচাই করা জরুরি।
এ ছাড়া ভুলবশত নিবন্ধন নেওয়া, আইনি মর্যাদা পরিবর্তন কিংবা অন্য কোনো আইনসংগত কারণেও বাতিলের আবেদন করার সুযোগ রয়েছে।
কোথায় আবেদন করবেন?
টিআইএন সার্টিফিকেটে উল্লেখ করা সংশ্লিষ্ট কর অঞ্চল বা ট্যাক্স সার্কেলের উপকর কমিশনারের কার্যালয়ে যোগাযোগ করতে হবে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট সার্কেলের উপকর কমিশনার বরাবর বাতিলের কারণ ব্যাখ্যা করে লিখিত আবেদন করা যায়। আবেদনের পদ্ধতি ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর অফিস থেকে নিশ্চিত হওয়া ভালো।
আরও পড়ুন
বিদেশি সহায়তার প্রতিশ্রুতি বেড়েছে ৪০ শতাংশ ৫ ঘণ্টা আগে
টিআইএন বাতিলের আবেদন করার ধাপ
১. লিখিত আবেদন তৈরি করুন
আবেদনে টিআইএন নম্বর, নিবন্ধনের সময়, নিবন্ধন নেওয়ার কারণ এবং কেন তা বাতিল করতে চান—এসব তথ্য উল্লেখ করুন।
২. প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত করুন
সাধারণত নিচের কাগজপত্রগুলো প্রয়োজন হতে পারে—
আরও পড়ুন
পাঁচ বছরে বাংলাদেশে ৬.৩৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের ঘোষণা জাপানের ৫ ঘণ্টা আগে
- ই-টিন সার্টিফিকেটের কপি
- জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) ফটোকপি
- বাতিলের কারণের সমর্থনে প্রয়োজনীয় প্রমাণপত্র
- প্রযোজ্য ক্ষেত্রে ব্যবসা বন্ধের কাগজপত্র বা মৃত্যুসনদ
- কর রিটার্ন দাখিলের প্রমাণপত্র, যদি প্রযোজ্য হয়
৩. সংশ্লিষ্ট কর অফিসে আবেদন জমা দিন
আবেদন ও কাগজপত্র জমা দেওয়ার পর কর কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই করতে পারে। প্রয়োজনে শুনানি বা অতিরিক্ত তথ্যও চাইতে পারে।
৪. করসংক্রান্ত বকেয়া ও চলমান বিষয় যাচাই করুন
আবেদন নিষ্পত্তির আগে কর কর্তৃপক্ষ বকেয়া কর, চলমান কর নির্ধারণ এবং আয়করসংক্রান্ত বিরোধের বিষয়গুলো যাচাই করতে পারে। সব শর্ত পূরণ হলে কর্তৃপক্ষ নিবন্ধন বাতিলের সিদ্ধান্ত নিতে পারে।
৫. বাতিলের সিদ্ধান্ত নিশ্চিত করুন
আরও পড়ুন
বৈদেশিক সহায়তার দ্বিগুণের বেশি ঋণ পরিশোধ করেছে বাংলাদেশ ২৬ অক্টোবর ২০২৬
আবেদন জমা দিলেই টিআইএন বাতিল হয়ে যায় না। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন এবং বাতিলের সিদ্ধান্ত নিশ্চিত হওয়ার পরই নিবন্ধন বাতিল হয়েছে বলে গণ্য করতে হবে।
পরপর তিন বছর শূন্য আয় দেখালেই কি টিআইএন বাতিল হবে?
না। আয়কর আইন, ২০২৩-এর ২৬২ ধারায় পরপর তিন বছর করযোগ্য আয় শূন্য থাকা এবং ভবিষ্যতেও নির্দিষ্ট কারণে করযোগ্য আয় শূন্য থাকার পরিস্থিতিকে বাতিলের একটি ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এটি সবার জন্য একইভাবে প্রযোজ্য কোনো স্বয়ংক্রিয় নিয়ম নয়। সংশ্লিষ্ট কর কর্তৃপক্ষ আবেদন ও অন্যান্য শর্ত যাচাই করে সিদ্ধান্ত নেবে।
টিআইএন বাতিলের আগে নিজের রিটার্ন দাখিলের বাধ্যবাধকতা, বকেয়া কর এবং ভবিষ্যতে টিআইএন প্রয়োজন হতে পারে কি না, তা যাচাই করা জরুরি।
বিস্তারিত তথ্যের জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের অফিশিয়াল ওয়েবসাইট এবং আয়কর আইন, ২০২৩-এর ২৬২ ধারা দেখা যেতে পারে।
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন।