https://newsbdc.com/business/mvql1g23h7
নবম পে স্কেলে বেতন নির্ধারণে জটিলতা, উল্টে যাচ্ছে গ্রেডের হিসাব
নতুন বেতন কাঠামো অনুযায়ী, আগামী ১ নভেম্বর চার মাসের বকেয়াসহ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন দেওয়ার কথা রয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ১৪ লাখ সরকারি কর্মচারী ও ৮ লাখ পেনশনভোগীর মধ্যে সবাই এখনো বেতন নির্ধারণের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারেননি। যাঁদের পে ফিক্সেশন শেষ হয়নি, তাঁরা আপাতত আগের বেতন কাঠামো অনুযায়ী বেতন পাবেন। পরে তাঁদের বকেয়া পাওনা সমন্বয় করে দেওয়ার কথা রয়েছে।
আরও পড়ুন
সূচকের পতনে কমল ডিএসই-সিএসইর লেনদেন ১ ঘণ্টা আগে
গত ১৭ সেপ্টেম্বর নতুন জাতীয় বেতন কাঠামোর প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এরপর ৫ অক্টোবর থেকে বেতন নির্ধারণের কার্যক্রম শুরু হলেও বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও দপ্তরে এখনো এ প্রক্রিয়া শেষ করা সম্ভব হয়নি। সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, নতুন বেতন নির্ধারণ করতে গিয়ে গ্রেডের ধারাবাহিকতা, উচ্চতর গ্রেডের সুবিধা এবং বাড়িভাড়া ভাতার হিসাব নিয়ে জটিলতা দেখা দিচ্ছে। পাশাপাশি আইবাস++ ব্যবস্থার বিভিন্ন সমস্যায় কাজের অগ্রগতিও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
এতে কেউ কেউ প্রাপ্য আর্থিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা করছেন। আবার পদোন্নতির পরও কোনো কোনো কর্মচারীর মোট বেতন কমে যাওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলে অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, নতুন বেতন কাঠামোর প্রজ্ঞাপন প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে অস্পষ্টতা এবং পর্যাপ্ত ধারণার অভাব থেকেই এসব জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে। সমস্যা সমাধানে কাজ চলছে বলে জানা গেছে।
আরও পড়ুন
গুলশানের কিংফিশারে এনবিআরের অভিযান, জব্দ বিপুল অ্যালকোহল ২৬ অক্টোবর ২০২৬
নতুন বেতন কাঠামোর হিসাবেও গ্রেডভিত্তিক বেতনের ব্যবধান উল্টে যাওয়ার চিত্র দেখা যাচ্ছে। ৯ম পে স্কেলে ১১তম গ্রেডের প্রারম্ভিক মূল বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে ২৫ হাজার টাকা। অন্যদিকে ১২তম গ্রেডের প্রারম্ভিক মূল বেতন ২৪ হাজার ৩০০ টাকা। অর্থাৎ প্রারম্ভিক বেতনে ১১তম গ্রেডের কর্মচারীরা ১২তম গ্রেডের কর্মচারীদের চেয়ে ৭০০ টাকা বেশি পাওয়ার কথা।
কিন্তু নতুন কাঠামো অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে বেতন সুবিধা কার্যকরের হিসাব করতে গিয়ে ব্যবধান উল্টো হয়ে যাচ্ছে। ১ জুলাই ২০২৬ থেকে প্রথম পর্যায়ে ৫০ শতাংশ সুবিধা কার্যকর হলে ১১তম গ্রেডের মূল বেতন দাঁড়াবে ৩১ হাজার ২৩০ টাকা এবং ১২তম গ্রেডের ৩১ হাজার ৫৯০ টাকা। এতে ১২তম গ্রেডের কর্মচারীরা ১১তম গ্রেডের কর্মচারীদের চেয়ে ৩৬০ টাকা বেশি পাবেন।
একইভাবে ১ জানুয়ারি ২০২৭ থেকে ৭৫ শতাংশ সুবিধা কার্যকর হলে ১১তম গ্রেডের মূল বেতন হবে ৩৫ হাজার ১৫ টাকা এবং ১২তম গ্রেডের ৩৫ হাজার ৫৯৫ টাকা। তখন দুই গ্রেডের ব্যবধান দাঁড়াবে ৫৮০ টাকা। আর ১ জুলাই ২০২৭ থেকে শতভাগ সুবিধা কার্যকর হলে ১১তম গ্রেডের মূল বেতন হবে ৪০ হাজার ৮০০ টাকা এবং ১২তম গ্রেডের ৪১ হাজার ৬০০ টাকা। সে ক্ষেত্রে ব্যবধান বেড়ে দাঁড়াবে ৮০০ টাকা।
আরও পড়ুন
রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের নেতৃত্বে বেসরকারি ব্যাংকার, ক্ষোভ কর্মকর্তাদের ২৩ অক্টোবর ২০২৬
নতুন প্রজ্ঞাপনের ৫ ও ৯ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, ১ জুলাই ২০২৬ তারিখে বেতন নির্ধারণ করে নতুন নির্ধারিত বেতন ও বর্তমান বেতনের পার্থক্যের ভিত্তিতে পর্যায়ক্রমে ৫০, ৭৫ ও ১০০ শতাংশ সুবিধা কার্যকরের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। কর্মচারীদের অভিযোগ, এই পদ্ধতিতে বেতন নির্ধারণের সময়ই গ্রেডভিত্তিক বেতনের স্বাভাবিক ক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
বেতন নির্ধারণের একটি উদাহরণেও বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে। ১১তম গ্রেডের এক কর্মচারীর ২০১৫ সালে প্রারম্ভিক মূল বেতন ছিল ১২ হাজার ৫০০ টাকা। গত ৩০ জুন তাঁর মূল বেতন বেড়ে দাঁড়ায় ২৩ হাজার ৬৬০ টাকা। অর্থাৎ আগের বেতন কাঠামোয় তাঁর মূল বেতন বেড়েছিল ১১ হাজার ১৬০ টাকা। নতুন কাঠামোর ২৫ হাজার টাকা মূল বেতনের সঙ্গে এই বৃদ্ধির পরিমাণ যোগ করলে দাঁড়ায় ৩৬ হাজার ১৬০ টাকা। কিন্তু নতুন কাঠামোয় এই অঙ্কের নির্দিষ্ট ধাপ না থাকায় পরবর্তী ধাপ অনুযায়ী তাঁর মূল বেতন নির্ধারণ করা হচ্ছে ৩৭ হাজার টাকা।
আরও পড়ুন
আটোয়ারীতে চারটি লাউ এক টাকা, বাম্পার ফলনেও লোকসানে কৃষক ২৩ অক্টোবর ২০২৬
অন্যদিকে, ১২তম গ্রেডের এক কর্মচারীর ২০১৫ সালে প্রারম্ভিক মূল বেতন ছিল ১১ হাজার ৩০০ টাকা। গত ৩০ জুন তাঁর মূল বেতন দাঁড়ায় ২৩ হাজার ৫৮০ টাকা। আগের কাঠামোয় তাঁর মূল বেতন বেড়েছিল ১২ হাজার ২৮০ টাকা। নতুন কাঠামোর ২৪ হাজার ৩০০ টাকা মূল বেতনের সঙ্গে এই বৃদ্ধির পরিমাণ যোগ করলে দাঁড়ায় ৩৬ হাজার ৫৮০ টাকা। পরবর্তী ধাপ অনুযায়ী তাঁর নতুন মূল বেতন নির্ধারণ করা হচ্ছে ৩৭ হাজার ৭০০ টাকা।
এ হিসাবে নতুন কাঠামোয় ১১তম গ্রেডের ওই কর্মচারীর মূল বেতন হচ্ছে ৩৭ হাজার টাকা, আর ১২তম গ্রেডের কর্মচারীর ৩৭ হাজার ৭০০ টাকা। অর্থাৎ প্রারম্ভিক বেতনে ৭০০ টাকা এগিয়ে থাকা ১১তম গ্রেডের কর্মচারী পে ফিক্সেশনের পর একই পরিমাণে পিছিয়ে পড়ছেন। এ কারণে গ্রেডভিত্তিক বেতনের স্বাভাবিক ক্রম বজায় রাখা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
আরও পড়ুন
ডিজিটাল ব্যাংকিং সেবায় গ্রাহক বাড়ছে, নতুন অ্যাপে সহজ লেনদেন ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
এর আগে গত ৩১ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে নবম জাতীয় বেতন স্কেল অনুমোদন দেওয়া হয়। পরে ১৯ সেপ্টেম্বর অর্থ বিভাগ থেকে ‘চাকরি (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ ২০২৬’ প্রকাশ করা হয়। এতে নতুন বেতন কাঠামো ১ জুলাই থেকে কার্যকর হওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়।
এদিকে, গত ১৯ অক্টোবর অর্থ বিভাগের এক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত যেসব প্রচলিত ভাতা মূল বেতনের শতাংশের ভিত্তিতে দেওয়া হয়, সেগুলো ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে প্রাপ্ত মূল বেতনের ভিত্তিতে নির্ধারণ ও প্রদান করতে হবে। নতুন বেতন কাঠামোর সুবিধা পর্যায়ক্রমে কার্যকর করার প্রক্রিয়ার মধ্যেই পে ফিক্সেশনের এসব অসংগতি দূর করা এখন সংশ্লিষ্টদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
ব্যবসা-বাণিজ্য থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন।