https://newsbdc.com/sports/mvql6qwv46
ব্যালন ডি’অর জিতলেই কি কোটিপতি হন ফুটবলাররা?
ফরাসি সাময়িকী ‘ফ্রান্স ফুটবল’ ১৯৫৬ সালে ব্যালন ডি’অর পুরস্কারের প্রচলন করে। শুরুতে ইউরোপের সেরা ফুটবলারদের মধ্য থেকে বিজয়ী নির্বাচন করা হতো। পরে নিয়ম পরিবর্তনের মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের খেলোয়াড়দের জন্য পুরস্কারটি উন্মুক্ত করা হয়। বর্তমানে পুরুষ ও নারী—উভয় বিভাগের ফুটবলারদের এই সম্মাননা দেওয়া হয়।
আরও পড়ুন
অভিষেকের ৩৮ বলে ১১৩, নিউজিল্যান্ডকে উড়িয়ে সিরিজ জিতল ভারত ১ ঘণ্টা আগে
ব্যালন ডি’অর বিজয়ী খেলোয়াড়ের হাতে তুলে দেওয়া হয় সোনালি ট্রফি। তবে ট্রফি জয়ের জন্য নির্দিষ্ট অঙ্কের নগদ অর্থ দেয় না আয়োজক কর্তৃপক্ষ। পুরস্কারটির আর্থিক সুবিধা মূলত আসে খেলোয়াড়ের ক্লাবের সঙ্গে চুক্তি, স্পনসর প্রতিষ্ঠানের বোনাস এবং বাড়তি বাণিজ্যিক সুযোগ থেকে।
আরও পড়ুন
শ্রীলঙ্কার বোলিং তোপে ১১০ রানেই অলআউট পাকিস্তান ১ ঘণ্টা আগে
ক্লাবের সঙ্গে চুক্তিতে ব্যালন ডি’অর জয়ের জন্য বিশেষ বোনাসের শর্ত থাকলে একজন ফুটবলার বড় অঙ্কের অর্থ পেতে পারেন। তবে এই বোনাসের পরিমাণ নির্ভর করে চুক্তির শর্তের ওপর। সব খেলোয়াড়ের চুক্তিতে এমন সুবিধা থাকে না। আবার যাঁদের চুক্তিতে এই শর্ত রয়েছে, তাঁদের বোনাসের অঙ্কও এক রকম নয়।
স্পনসর প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তিও ফুটবলারদের বাড়তি আয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস। ব্যালন ডি’অর জয়ের পর একজন খেলোয়াড়ের আন্তর্জাতিক পরিচিতি ও বাণিজ্যিক মূল্য বাড়তে পারে। এর ফলে নতুন বিজ্ঞাপনী চুক্তি, স্পনসরশিপ এবং বিভিন্ন প্রচারণামূলক কার্যক্রমে অংশ নিয়ে আয়ের সুযোগ তৈরি হয়। তবে এসব সুবিধা নির্ভর করে খেলোয়াড়ের জনপ্রিয়তা, বাজারমূল্য ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তির ওপর।
আরও পড়ুন
মাও সে তুংকে নিয়ে বিতর্ক, চীনা ব্র্যান্ড হারাচ্ছেন এমবাপ্পে? ১ ঘণ্টা আগে
২০১৮ সালে ব্যালন ডি’অর জয়ের পর ক্রোয়েশিয়ার তারকা লুকা মদ্রিচ তাঁর স্পনসর প্রতিষ্ঠান নাইকির কাছ থেকে প্রায় আট লাখ ইউরো বোনাস পেয়েছিলেন বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। তবে এই অর্থ ব্যালন ডি’অরের আয়োজকদের দেওয়া পুরস্কার ছিল না; স্পনসর প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তির আওতায় পাওয়া বোনাস হিসেবে এর উল্লেখ করা হয়েছিল।
আরও পড়ুন
মুশফিকের আঙুলে চোট, প্রথম টেস্টের আগে দুশ্চিন্তায় বাংলাদেশ ২ ঘণ্টা আগে
ব্যালন ডি’অর জয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আরেকটি আকর্ষণীয় বিষয় হলো ট্রফিটির নির্মাণপ্রক্রিয়া। সোনালি রঙের ট্রফিটি দেখতে পুরোপুরি সোনার তৈরি মনে হলেও বাস্তবে তা নয়। ফরাসি গহনা নির্মাতা প্রতিষ্ঠান মেলেরিও ট্রফিটি হাতে তৈরি করে। এর বলের মতো মূল অংশটি পিতল দিয়ে তৈরি, যার ওপর সোনার প্রলেপ দেওয়া হয়। ট্রফির নিচের অংশে ব্যবহার করা হয় পাইরাইট পাথরের ভিত্তি।
বিভিন্ন সূত্রে ট্রফিটি তৈরিতে প্রায় ১০০ ঘণ্টা সময় লাগার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এর নির্মাণমূল্য প্রায় তিন হাজার ইউরো বলে একটি হিসাব প্রচলিত রয়েছে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় চার লাখ টাকার সমান। তবে আয়োজক বা নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ট্রফিটির নির্দিষ্ট মূল্য আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেনি। ফলে এই অঙ্ককে নিশ্চিত মূল্য হিসেবে বিবেচনা করা যায় না।
আরও পড়ুন
এবিজি ইউনিভার্সিটি কাপে আজ ক্রিকেট-ফুটবলে পাঁচ ম্যাচ ৫ ঘণ্টা আগে
সব মিলিয়ে, ব্যালন ডি’অর জয়ের জন্য সরাসরি নগদ অর্থ না মিললেও এই পুরস্কার একজন ফুটবলারের ক্যারিয়ার ও বাণিজ্যিক সম্ভাবনায় বড় প্রভাব ফেলতে পারে। ক্লাবের চুক্তিভিত্তিক বোনাস, স্পনসরশিপ এবং বিজ্ঞাপনী কার্যক্রমের মাধ্যমে আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। অর্থাৎ সোনালি ট্রফিটির মূল্য শুধু নির্মাণব্যয়ে সীমাবদ্ধ নয়; একজন ফুটবলারের পরিচিতি ও বাজারমূল্য বৃদ্ধির ক্ষেত্রেও এর ভূমিকা রয়েছে।
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন।