https://newsbdc.com/sara-desh/mvetnbnj0f
গলাচিপায় ইলিশ শিকার বন্ধে অভিযান, তবু চলছে কেনাবেচা
মা ইলিশ সংরক্ষণে সরকারি নিষেধাজ্ঞা চললেও পটুয়াখালীর গলাচিপায় থামছে না ইলিশ শিকার ও বেচাকেনা। স্থানীয় সূত্র ও সরেজমিন অনুসন্ধানের বরাতে জানা গেছে, উপজেলার অন্তত ১৮টি স্থানে প্রশাসনের নজর এড়িয়ে ইলিশ বিক্রি হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি ও একটি সংঘবদ্ধ চক্রের ছত্রছায়ায় এসব কার্যক্রম চলছে।
রোববার সকালে ইলিশের ক্রেতা সেজে চরবিশ্বাস ইউনিয়নের এক জেলের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি মাছ নিতে দুপুরে স্থানীয় চরআগস্তি বাজারে যেতে বলেন। একই এলাকার আরেক ব্যক্তির কাছে ইলিশ চাইলে তিনি ক্রেতার পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা করেন এবং বিভিন্ন আকারের মাছের দাম জানান।
আরও পড়ুন
পর্যটকদের জন্য খুলছে সেন্টমার্টিন, আরও যেসব সিদ্ধান্ত ৫৪ মিনিট আগে
তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এক কেজি ওজনের ইলিশের দাম দেড় হাজার টাকা। এক কেজির কম ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা দরে। ছোট আকারের মাছের দাম কেজিপ্রতি ৪০০ টাকা। তবে সরাসরি মাছ হস্তান্তরে রাজি না হয়ে তিনি চরকাজল এলাকার একটি ওয়ার্কশপে টাকা রেখে মাছ সংগ্রহের ব্যবস্থা করতে বলেন।
আরও পড়ুন
টেকনাফে যৌথ বাহিনীর অভিযান, জব্দ ৩ কোটি টাকার কারেন্ট জাল ৫ ঘণ্টা আগে
শনিবার (১৭ অক্টোবর) ও রোববার সরেজমিন অনুসন্ধানে উপজেলার অন্তত ১৮টি স্থানে ইলিশ কেনাবেচার তথ্য পাওয়া গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব স্থানের মধ্যে রয়েছে চরকাজল ইউনিয়নের লঞ্চঘাট, চরশিবা লঞ্চঘাট ও বড় শিবা; চরবিশ্বাস ইউনিয়নের চরআগস্তি, জিমতলা, নোমোর স্লুইসগেট, আমড়াগাছিয়া, চরবাংলা খেয়াঘাট ও চরবাংলা; রতনদী তালতলী ইউনিয়নের বন্যাতলী ও পাতাবুনিয়া স্লুইসগেট। এ ছাড়া সদর ইউনিয়নের চরকারফারমা, পানপট্টি লঞ্চঘাট, বোয়ালিয়া স্লুইসগেট, পক্ষিয়া স্লুইসগেট, লঞ্চঘাট, লোন্দা স্লুইসগেট এবং গলাচিপা-পাটুয়া খেয়াঘাট এলাকায়ও ইলিশ শিকার ও বিক্রির অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের মাধ্যমে মাছের অর্ডার নেওয়া হয়। ক্রেতার পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর ব্যাগে করে মাছ পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থাও রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
আরও পড়ুন
পর্যটন কার্নিভাল শেষে কুয়াকাটা সৈকত পরিচ্ছন্নতায় ছাত্রদলের দুই শতাধিক নেতাকর্মী ৫ ঘণ্টা আগে
স্থানীয় সূত্রের অভিযোগ, প্রশাসন অভিযান চালালে অন্যদিকে ইলিশ শিকার চলতে থাকে। চরবিশ্বাস ইউনিয়নের নোমোর স্লুইস এলাকায় অভিযান চলাকালে প্রশাসনের ট্রলারকে ধাওয়া দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দার ভাষ্য, অবৈধ শিকার ও বিক্রির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা প্রভাবশালী হওয়ায় তাঁদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কথা বলতে অনেকে ভয় পান।
স্থানীয় সূত্র আরও জানায়, রামনাবাদ নদী, চিকনিকান্দির দয়াময়ী মন্দিরসংলগ্ন তেঁতুলিয়া পয়েন্ট, বন্যাতলীর তেঁতুলিয়া পয়েন্ট এবং পানপট্টি লঞ্চঘাটসংলগ্ন আগুনমুখা মোহনায় রাতের আঁধারে জাল ফেলার অভিযোগ রয়েছে। প্রশাসনের নৌযান দেখলে জেলেরা আশপাশের সংরক্ষিত বনে আশ্রয় নেন বলেও দাবি করা হয়েছে।
আরও পড়ুন
সাঈদীর মামলার বাদীর মুক্তিযোদ্ধা পরিচয় নিয়ে তদন্ত দাবি মাসুদ সাঈদীর ৬ ঘণ্টা আগে
গলাচিপা উপজেলা মৎস্য অফিসের তথ্য অনুযায়ী, গত ১১ দিনে ৩৪টি অভিযান চালানো হয়েছে। এসব অভিযানে ২৮৫ মেট্রিক টন ইলিশ জব্দের তথ্য দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া জাল জব্দ, মামলা, জেলেদের সাজা ও জরিমানার কথাও জানিয়েছে মৎস্য অফিস।
আরও পড়ুন
রংপুরে অটোরিকশা চুরির অভিযোগে গণপিটুনিতে নিহত ২ ৮ ঘণ্টা আগে
উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা ভিক্টর বাইন বলেন, মৎস্য অফিসসহ সরকারের বিভিন্ন বিভাগের সমন্বয়ে যৌথ অভিযান অব্যাহত রয়েছে। প্রতিদিন একাধিক অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। দুর্গম ও প্রত্যন্ত এলাকা হওয়ায় সব জায়গায় দ্রুত পৌঁছানো সম্ভব না হলেও সেসব এলাকাতেও অভিযান চালানো হচ্ছে।
চরবিশ্বাসের নোমোর স্লুইস এলাকায় অভিযানের সময় হামলার চেষ্টার বিষয়ে তিনি বলেন, ওই এলাকায় অভিযান চলাকালে সংঘবদ্ধ একটি চক্র তাঁদের ওপর হামলার চেষ্টা করে। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।
সারা দেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন।