https://newsbdc.com/sara-desh/mvp0hp1zvk
দাদুড়িয়া বিলে পলো-উচা উৎসব, মাছ ধরতে মানুষের ঢল
ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার দাদুড়িয়া বিলে পলো ও উচা দিয়ে মাছ ধরার উৎসবে মেতে উঠেছেন পাঁচ শতাধিক মানুষ। হারিয়ে যেতে বসা গ্রামবাংলার ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনার প্রত্যাশায় সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকাল থেকে উপজেলার চতুল ও শেখর ইউনিয়নে অবস্থিত বিলে জড়ো হন নানা বয়সী মানুষ। কারও হাতে বাঁশের তৈরি পলো, কারও হাতে উচা ও জাল। মাছ ধরার পাশাপাশি উৎসবের আনন্দ ভাগাভাগি করাই ছিল অনেকের কাছে বড় প্রাপ্তি।
একসময় বর্ষা মৌসুম শেষে গ্রামাঞ্চলের নদী, খাল-বিল ও জলাশয়ে সারিবদ্ধভাবে পলো দিয়ে মাছ ধরার দৃশ্য ছিল পরিচিত। বাঁশের তৈরি পলো হাতে দল বেঁধে জলাশয়ে নামতেন গ্রামের মানুষ। সেই দৃশ্য দেখতে ভিড় করতেন নানা বয়সী দর্শনার্থী। সময়ের পরিবর্তনে গ্রামবাংলার এই ঐতিহ্য এখন অনেকটাই হারিয়ে যেতে বসেছে।
আরও পড়ুন
কেরানীগঞ্জে প্লাস্টিক কারখানায় আগুন, প্রাণ গেল একজনের ৩১ মিনিট আগে
সোমবার সকাল ৭টার দিকে দাদুড়িয়া বিলে শুরু হয় মাছ ধরার উৎসব। দূর-দূরান্ত থেকে পলো, উচা ও জাল নিয়ে হেঁটে বিলে আসেন অনেকে। দীর্ঘদিন পর একসঙ্গে এত মানুষের মাছ ধরার দৃশ্য স্থানীয়দের মধ্যে বাড়তি উৎসাহ তৈরি করে।
মাছ ধরতে আসা স্বপন বলেন, গ্রামবাংলার ঐতিহ্য হারিয়ে যেতে বসেছে। ছোটবেলায় পলো দিয়ে মাছ ধরতেন তিনি। মাইকিং শুনে বহু বছর পর পলো নিয়ে দাদুড়িয়া বিলে এসেছেন। মাছ না পেলেও উৎসবে অংশ নিয়ে অনেক আনন্দ পেয়েছেন বলে জানান তিনি।
আরও পড়ুন
‘সাঈদী আল্লাহর ওলি ছিলেন, ভাই কেন সাক্ষ্য দিয়েছেন তিনিই জানেন’ ৩৬ মিনিট আগে
ফারুক মিয়া বলেন, মাইকিং শুনে পলো নিয়ে বিলে এসেছেন। অনেক মানুষ একসঙ্গে মাছ ধরতে আসায় তাঁর ভালো লেগেছে। দীর্ঘদিন পর এমন আয়োজন হয়েছে উল্লেখ করে তিনি প্রতিবছর এ ধরনের উৎসব আয়োজনের প্রত্যাশা জানান।
কয়েক কিলোমিটার পথ হেঁটে বিলে আসেন সুমন। তিনি বলেন, ছোটবেলায় বাপ-দাদাদের পলো দিয়ে মাছ ধরতে দেখেছেন। তবে এত মানুষের সঙ্গে পলো ও উচা দিয়ে মাছ ধরার দৃশ্য এবারই প্রথম দেখলেন। আয়োজনটি তাঁর কাছে বেশ উপভোগ্য মনে হয়েছে।
আরও পড়ুন
বালাইনাশক প্রয়োগের পর পুড়ল করলাখেত, ক্ষতির মুখে কৃষক ৪৩ মিনিট আগে
পলো নিয়ে মাছ ধরতে আসা সমীর সাহা জানান, মাছ ধরার খবর শুনে আগের দিন পলো কিনেছেন। এখন সচরাচর পলো পাওয়া যায় না বলেও উল্লেখ করেন তিনি। তবে মাছ না পেয়ে খালি হাতে ফিরতে হয়েছে তাঁকে।
আরও পড়ুন
কেন্দুয়ায় মাসিক আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত ৪৮ মিনিট আগে
সমীর সাহার অভিযোগ, চায়না দুয়ারি জালের কারণে খাল-বিলে দেশি মাছ পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। এ ধরনের জাল বন্ধে আইন থাকলেও কার্যকর প্রয়োগের অভাব রয়েছে বলে মনে করেন তিনি। তারপরও দীর্ঘদিন পর এমন উৎসবে অংশ নিতে পেরে আনন্দিত তিনি।
উৎসবের আয়োজক ইমরান মোল্লা বলেন, এক দিন আগে মাইকিং করে পলো ও উচা দিয়ে মাছ ধরার উৎসবের কথা জানানো হয়। হারিয়ে যেতে বসা ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতেই তাঁদের এই উদ্যোগ। মাছ ধরাই এ আয়োজনের একমাত্র উদ্দেশ্য নয়; বরং গ্রামবাংলার পুরোনো সংস্কৃতিকে নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরাও এর লক্ষ্য।
আরও পড়ুন
শের-ই-বাংলার জন্মভবন জরাজীর্ণ, হারিয়ে যাচ্ছে স্মৃতিচিহ্ন ৪৮ মিনিট আগে
ইমরান মোল্লার দাবি, বিলে কারেন্ট জাল ও চায়না দুয়ারি ব্যবহার করে মাছ ধরার কারণে দেশি প্রজাতির মাছ কমে যাচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসন কঠোরভাবে এসব জালের ব্যবহার বন্ধে উদ্যোগ নিলে দেশি মাছ রক্ষা করা সম্ভব হবে। এতে খাল-বিলগুলো আবারও দেশি মাছে সমৃদ্ধ হয়ে উঠতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
দাদুড়িয়া বিলের এই আয়োজন গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী মাছ ধরার সংস্কৃতিকে ঘিরে মানুষের আগ্রহের প্রতিফলন। আয়োজকদের প্রত্যাশা, নিয়মিত এমন উৎসব আয়োজনের পাশাপাশি অবৈধ ও ক্ষতিকর জালের ব্যবহার বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হলে দেশি মাছ সংরক্ষণ এবং গ্রামীণ ঐতিহ্য ধরে রাখা—দুই লক্ষ্যেই অগ্রগতি সম্ভব হবে।
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন।