https://newsbdc.com/sara-desh/mvp0nwpxpu
শের-ই-বাংলার জন্মভবন জরাজীর্ণ, হারিয়ে যাচ্ছে স্মৃতিচিহ্ন
বাংলার অবিসংবাদিত নেতা ও অবিভক্ত বাংলার সাবেক মুখ্যমন্ত্রী শের-ই-বাংলা এ কে ফজলুল হকের জন্মস্থান আজও অবহেলায় পড়ে আছে। ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার সাতুরিয়ার মিয়া বাড়িতে তাঁর জন্মভবন জরাজীর্ণ অবস্থায় দাঁড়িয়ে থাকলেও সংরক্ষিত হয়নি তাঁর ব্যবহৃত বহু স্মৃতিচিহ্ন। জন্মের ১৫৩ বছর পেরিয়ে গেলেও সেখানে গড়ে ওঠেনি কোনো পূর্ণাঙ্গ স্মৃতি জাদুঘর কিংবা সমৃদ্ধ গ্রন্থাগার। ফলে ইতিহাসের এই গুরুত্বপূর্ণ স্থানে এসে হতাশ হয়ে ফিরছেন দর্শনার্থীরা।
আজ ২৬ অক্টোবর শের-ই-বাংলা এ কে ফজলুল হকের ১৫৩তম জন্মবার্ষিকী। ১৮৭৩ সালের এই দিনে ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার সাতুরিয়া গ্রামে তাঁর মাতুলালয়ে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। বাবা ওয়াজেদ আলী ছিলেন প্রখ্যাত আইনজীবী, মা বেগম সৈয়দুন্নেছা ছিলেন গৃহিণী। শৈশবের উল্লেখযোগ্য সময় কেটেছে সাতুরিয়ার এই বাড়িতেই।
আরও পড়ুন
কেরানীগঞ্জে প্লাস্টিক কারখানায় আগুন, প্রাণ গেল একজনের ৩২ মিনিট আগে
বরিশাল-খুলনা আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে অবস্থিত সাতুরিয়ার মিয়া বংশের জমিদার বাড়িটি একসময় শের-ই-বাংলার স্মৃতিবিজড়িত স্থান হিসেবে পরিচিত ছিল। বাড়ির পুকুর, পাশের নদী এবং পুরোনো দালান ঘিরে রয়েছে তাঁর শৈশবের নানা স্মৃতি। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই ঐতিহাসিক বাড়ির অবস্থা ক্রমেই নাজুক হয়েছে। জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে জন্মভবনের দালান। কয়েক বছর আগেও সেখানে শের-ই-বাংলার ব্যবহৃত বিভিন্ন আসবাবপত্র দেখা যেত বলে স্থানীয়রা জানান। এখন সেসব মূল্যবান স্মৃতিচিহ্নের অনেক কিছুই আর দেখা যায় না।
শের-ই-বাংলার জন্মস্থান ঘিরে ইতিহাস ও ঐতিহ্য সংরক্ষণের যে সম্ভাবনা রয়েছে, তারও যথাযথ বিকাশ ঘটেনি। তাঁর স্মৃতিবিজড়িত সাতুরিয়া মেহেরুন্নেছা মেমোরিয়াল মাধ্যমিক বিদ্যালয়টিও নানা সমস্যায় জর্জরিত। ভবন ও বেঞ্চের সংকটসহ বিভিন্ন সমস্যার কারণে বিদ্যালয়টির স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলে জানা গেছে।
আরও পড়ুন
‘সাঈদী আল্লাহর ওলি ছিলেন, ভাই কেন সাক্ষ্য দিয়েছেন তিনিই জানেন’ ৩৮ মিনিট আগে
শিক্ষাজীবন শেষে রাজনীতিতে প্রবেশ করে এ কে ফজলুল হক বাংলার রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান তৈরি করেন। অবিভক্ত বাংলার মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি কৃষক ও সাধারণ মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় তাঁর ভূমিকা তাঁকে ‘শের-ই-বাংলা’ উপাধিতে পরিচিত করে তোলে। জমিদারি শোষণের বিরুদ্ধে অবস্থান এবং শিক্ষার প্রসারে তাঁর উদ্যোগ বাংলার ইতিহাসে বিশেষভাবে স্মরণীয়।
তাঁর জীবন ও কর্ম সম্পর্কে জানতে এবং জন্মস্থান দেখতে প্রতিবছর দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে পর্যটক ও শিক্ষার্থীরা সাতুরিয়ায় আসেন। কিন্তু জন্মভবনের জরাজীর্ণ অবস্থা এবং স্মৃতিচিহ্ন সংরক্ষণের ঘাটতি তাঁদের হতাশ করছে।
আরও পড়ুন
বালাইনাশক প্রয়োগের পর পুড়ল করলাখেত, ক্ষতির মুখে কৃষক ৪৪ মিনিট আগে
ঢাকার মিরপুর থেকে আসা পর্যটক ফজলে রাব্বি ও স্নিগ্ধা সুলতানা পিংকী জানান, শের-ই-বাংলার জীবন ও ইতিহাস সম্পর্কে জানতে এবং তাঁর জন্মস্থান দেখতে তাঁরা দূর থেকে এসেছেন। কিন্তু মহান এই নেতার জন্মভবনের বর্তমান অবস্থা দেখে তাঁরা হতাশ হয়েছেন।
আরও পড়ুন
কেন্দুয়ায় মাসিক আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত ৪৯ মিনিট আগে
তবে সংরক্ষণের উদ্যোগ একেবারেই নেওয়া হয়নি, এমন নয়। প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর ভবনটি তালিকাভুক্ত করেছে। প্রায় সাত বছর আগে শের-ই-বাংলার জন্মগ্রহণের কক্ষ হিসেবে পরিচিত আঁতুরঘরের ভেতরের কিছু অংশ সংস্কার করা হয়। ভবনের সামনেও নির্মাণ করা হয়েছে একটি স্মৃতিস্তম্ভ, যেখানে তাঁর জীবনের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি তুলে ধরা হয়েছে। কিন্তু এসব উদ্যোগের পরও পুরো জন্মভবনের সংস্কার ও স্মৃতিচিহ্ন সংরক্ষণে দৃশ্যমান অগ্রগতি নিয়ে প্রশ্ন রয়ে গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকদের দাবি, জন্মভবনটি যথাযথভাবে সংস্কার করে সেখানে শের-ই-বাংলার নামে একটি স্মৃতি জাদুঘর, গ্রন্থাগার এবং দর্শনার্থীদের জন্য শৌচাগার নির্মাণ করা হোক। তাঁদের মতে, এসব সুবিধা গড়ে তোলা গেলে একদিকে যেমন ঐতিহাসিক স্মৃতিচিহ্ন সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে, অন্যদিকে নতুন প্রজন্মও তাঁর জীবন, কর্ম ও রাজনৈতিক অবদান সম্পর্কে জানার সুযোগ পাবে।
আরও পড়ুন
দাদুড়িয়া বিলে পলো-উচা উৎসব, মাছ ধরতে মানুষের ঢল ৫৫ মিনিট আগে
রাজাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিফাত আরা মৌরী বলেন, শের-ই-বাংলা এ কে ফজলুল হকের জন্মস্মৃতি সংরক্ষণ, জাদুঘর নির্মাণসহ আরও কিছু স্থাপনা গড়ে তোলার দাবি রয়েছে স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকদের। প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর ইতিমধ্যে ভবনটি তালিকাভুক্ত করেছে। শের-ই-বাংলার জন্মকক্ষের আঁতুরঘর সংস্কার করা হয়েছে এবং জন্মভবনের সামনে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে অন্যান্য কাজও করা হবে বলে জানান তিনি।
শের-ই-বাংলার জন্মভবন শুধু একটি পুরোনো দালান নয়; এটি বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ স্মারক। তাই ভবনটির কাঠামোগত সংস্কার, হারিয়ে যাওয়া স্মৃতিচিহ্নের অনুসন্ধান ও সংরক্ষণ, তথ্যসমৃদ্ধ জাদুঘর প্রতিষ্ঠা এবং দর্শনার্থীদের প্রয়োজনীয় সুবিধা নিশ্চিত করা জরুরি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পরিকল্পিত ও কার্যকর উদ্যোগই পারে সাতুরিয়ার এই ঐতিহাসিক স্থানকে নতুন প্রজন্মের কাছে অর্থবহ করে তুলতে।
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন।