ছবি ভিডিও মতামত
সর্বশেষ
নির্বাচনের ফল মেনে নিতে প্রস্তুত, ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে কাজ করতে চান ট্রাম্প ভয়াবহ রেল দুর্ঘটনার ছয় দিন পর পদত্যাগ করলেন স্পেনের পরিবহনমন্ত্রী হাইতিতে ৫২৫ পুলিশ সদস্য পাঠানোর উদ্যোগ, জাতিসংঘ মিশনে বাড়ছে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে স্মারক ডাকটিকিট অবমুক্ত করলেন প্রধানমন্ত্রী মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে সিনেটে ৫১ আসনে ডেমোক্র্যাটরা, কংগ্রেসেও এগিয়ে জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা জানালেন চীনা মন্ত্রী পোশাকশ্রমিকদের নতুন মজুরি নির্ধারণে বোর্ডের প্রথম সভা সকাল ১১টায় ষষ্ঠ দিনেও মহাসড়ক অবরোধ, পুলিশের সঙ্গে দুষ্কৃতিকারী ও শ্রমিকদের সংঘর্ষ রাজধানীর কল্যাণপুরে বাসের ধাক্কায় অটোরিকশার ৪ যাত্রী নি/হত গাজীপুরে খুলেছে বেশির ভাগ কারখানা, সতর্ক আইনশৃঙ্খলা বাহিনী
খেলা

‘হ্যান্ড অব গড’ থেকে শতাব্দীর সেরা গোল, জন্মদিনে স্মরণে ম্যারাডোনা

প্রকাশ: ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১৪: ২৯
‘হ্যান্ড অব গড’ থেকে শতাব্দীর সেরা গোল, জন্মদিনে স্মরণে ম্যারাডোনা
সংগৃহীত

ফুটবল ইতিহাসে কিছু মুহূর্ত কখনো পুরোনো হয় না। সময়ের সঙ্গে সেসব মুহূর্ত নতুন করে আলোচনায় আসে, প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে ছড়িয়ে পড়ে। আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি দিয়েগো আরমান্দো ম্যারাডোনার নাম উঠলে এমন দুটি মুহূর্তের কথা সবার আগে মনে পড়ে। একটি বিতর্কিত ‘হ্যান্ড অব গড’, অন্যটি অবিশ্বাস্য শৈল্পিক সৌন্দর্যে ভরা ‘গোল অব দ্য সেঞ্চুরি’। ১৯৮৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে মাত্র চার মিনিটের ব্যবধানে করা গোল দুটি ফুটবল ইতিহাসে স্থায়ী জায়গা করে নিয়েছে।


আজ ৩০ অক্টোবর ম্যারাডোনার জন্মদিন। ১৯৬০ সালের এই দিনে আর্জেন্টিনার বুয়েনস এইরেসের কাছে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। বেঁচে থাকলে আজ ৬৬ বছরে পা দিতেন এই ফুটবল কিংবদন্তি। ২০২০ সালের ২৫ নভেম্বর ৬০ বছর বয়সে পৃথিবী ছেড়ে গেলেও ফুটবলপ্রেমীদের স্মৃতিতে এখনো জীবন্ত তিনি। বলের ওপর অসাধারণ নিয়ন্ত্রণ, প্রতিপক্ষকে বোকা বানানোর দক্ষতা এবং মাঠে নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষমতা তাকে সর্বকালের সেরাদের একজন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।


১৯৮৬ সালের ২২ জুন। মেক্সিকো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে মেক্সিকো সিটির অ্যাজটেকা স্টেডিয়ামে মুখোমুখি আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড। ফকল্যান্ড যুদ্ধের ক্ষত তখনো দুই দেশের মানুষের মনে তাজা। ফলে ফুটবল মাঠের লড়াই পেয়েছিল বাড়তি আবেগ ও উত্তেজনা।


আরও পড়ুন

নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের দ্বিতীয় আসরে ১৬ লাখের বেশি প্রতিযোগী ২০ ঘণ্টা আগে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের দ্বিতীয় আসরে ১৬ লাখের বেশি প্রতিযোগী

দ্বিতীয়ার্ধের ষষ্ঠ মিনিটে ইংল্যান্ডের গোলরক্ষক পিটার শিলটনের সঙ্গে বলের দখল নিতে লাফ দেন ম্যারাডোনা। তবে মাথার বদলে বাঁ হাত দিয়ে বল জালে পাঠান তিনি। রেফারি আলি বিন নাসের গোলটি বৈধ মনে করে অনুমোদন দেন। ইংল্যান্ডের খেলোয়াড়রা প্রতিবাদ জানালেও সিদ্ধান্ত পরিবর্তন হয়নি।


পরে গোলটির ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে ম্যারাডোনা বলেছিলেন, বলটি তার মাথার সামান্য অংশ এবং ঈশ্বরের হাতের স্পর্শে জালে গিয়েছিল। সেখান থেকেই গোলটির নাম হয়ে যায় ‘হ্যান্ড অব গড’ বা ‘ঈশ্বরের হাত’। গোলটি নিয়ে বিতর্ক বহু বছর ধরেই চলছে। ভিডিও প্রযুক্তি বা ভিএআর থাকলে গোলটি বাতিল হতো—এমন কথাও পরে স্বীকার করেছিলেন ম্যারাডোনা।


তবে ওই ম্যাচে ম্যারাডোনার অসাধারণত্বের সবচেয়ে বড় প্রদর্শনী তখনো বাকি ছিল। প্রথম গোলের মাত্র চার মিনিট পর, ম্যাচের ৫৫ মিনিটে নিজেদের অর্ধ থেকে বল নিয়ে এগিয়ে যান তিনি। একের পর এক ইংলিশ খেলোয়াড়কে কাটিয়ে ঢুকে পড়েন প্রতিপক্ষের পেনাল্টি বক্সে। এরপর গোলরক্ষক শিলটনকেও পরাস্ত করে বল পাঠিয়ে দেন জালে।


আরও পড়ুন

নিরাপত্তা শঙ্কায় সৌদি আরবে এশিয়ান কাপ পিছিয়ে দিল এএফসি ২১ ঘণ্টা আগে নিরাপত্তা শঙ্কায় সৌদি আরবে এশিয়ান কাপ পিছিয়ে দিল এএফসি

প্রায় ৬০ মিটার দূরত্ব অতিক্রম করে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে একাধিক প্রতিপক্ষকে কাটিয়ে করা গোলটি পরে ‘গোল অব দ্য সেঞ্চুরি’ হিসেবে পরিচিতি পায়। ফিফার বর্ণনায়, এটি বিশ্বকাপের ইতিহাসে ব্যক্তিগত নৈপুণ্যের অন্যতম সেরা উদাহরণ। দুটি গোল যেন ম্যারাডোনার দুই বিপরীত পরিচয় তুলে ধরে—প্রথমটি তাকে বিতর্কের কেন্দ্রে রেখেছে, দ্বিতীয়টি দিয়েছে ফুটবলীয় মহত্ত্বের অনন্য স্বীকৃতি।


ম্যাচটি শেষ পর্যন্ত ২-১ গোলে জেতে আর্জেন্টিনা। ইংল্যান্ডের হয়ে গ্যারি লিনেকার একটি গোল করলেও তা দলকে পরাজয় থেকে বাঁচাতে পারেনি। ওই ম্যাচে ম্যারাডোনার অবদান শুধু গোল করাতেই সীমাবদ্ধ ছিল না; পুরো খেলায় তার প্রভাব ছিল অসাধারণ।


১৯৮৬ বিশ্বকাপ ছিল ম্যারাডোনার ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা অধ্যায়। অধিনায়ক হিসেবে আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ জেতানোর পথে তিনি ছিলেন দলের প্রধান চালিকাশক্তি। গোল করা, সতীর্থদের দিয়ে গোল করানো এবং প্রতিপক্ষের রক্ষণ ভেঙে দেওয়ার দক্ষতায় পুরো আসরে নিজের শ্রেষ্ঠত্বের ছাপ রাখেন তিনি।


পরিসংখ্যান বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান অপ্টার হিসাবে, ওই বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার করা ১৪টি গোলের ১০টিতে সরাসরি অবদান ছিল ম্যারাডোনার। তিনি নিজে পাঁচটি গোল করেন এবং সতীর্থদের দিয়ে আরও পাঁচটি গোল করান। এক বিশ্বকাপে গোল ও গোলে সহায়তা—দুই ক্ষেত্রেই পাঁচ বা তার বেশি অবদান রাখার কীর্তি তাকে বিশেষভাবে স্মরণীয় করে রেখেছে।

আরও পড়ুন

ইয়ামাল নয়, লামিনে ইয়ামালই পুরো নাম: জানালেন বাবা ২১ ঘণ্টা আগে ইয়ামাল নয়, লামিনে ইয়ামালই পুরো নাম: জানালেন বাবা


ইংল্যান্ডের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালের পর সেমিফাইনালে বেলজিয়ামের বিপক্ষেও দুটি গোল করেন ম্যারাডোনা। ফাইনালে পশ্চিম জার্মানির বিপক্ষে নিজে গোল না পেলেও জর্জে বুরুচাগার জয়সূচক গোলে সহায়তা করেন। আর্জেন্টিনা ৩-২ গোলে জিতে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ শিরোপা ঘরে তোলে। টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড় হিসেবে ম্যারাডোনা জেতেন গোল্ডেন বল।


ম্যারাডোনার ফুটবলযাত্রা শুরু হয়েছিল আর্জেন্টিনার একটি দরিদ্র পরিবারে বেড়ে ওঠার মধ্য দিয়ে। মাত্র আট বছর বয়সে আর্জেন্টিনোস জুনিয়র্সের যুব দল লস সেবোলিতাসে যোগ দেন তিনি। সেখানেই তার প্রতিভা সবার নজর কাড়ে। মাত্র ১৫ বছর বয়সে পেশাদার ফুটবলে অভিষেক হয় তার। পরবর্তী সময়ে বোকা জুনিয়র্স, বার্সেলোনা ও নাপোলির হয়ে খেলেছেন এই তারকা।


বিশেষ করে নাপোলিতে তার সময়টি ক্লাবটির ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে আছে। ১৯৮৪ সালে ইতালির ক্লাবটিতে যোগ দেওয়ার পর ১৯৮৬-৮৭ ও ১৯৮৯-৯০ মৌসুমে সিরি আ শিরোপা জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি। ১৯৮৭ সালে নাপোলি জেতে কোপা ইতালিয়াও। ইতালির ফুটবলে ঐতিহ্যগতভাবে শক্তিশালী ক্লাবগুলোর আধিপত্যের মধ্যে নাপোলিকে সাফল্যের শিখরে নিয়ে যাওয়ায় শহরটির মানুষের আবেগের অংশ হয়ে ওঠেন ম্যারাডোনা।

আরও পড়ুন

দুধ-দুগ্ধজাত খাবার ছুঁয়েও দেখেন না রোনালদো, জানালেন সাবেক শেফ ২২ ঘণ্টা আগে দুধ-দুগ্ধজাত খাবার ছুঁয়েও দেখেন না রোনালদো, জানালেন সাবেক শেফ


আর্জেন্টিনায় ফিরে বোকা জুনিয়র্সের হয়েও খেলেছেন তিনি। ১৯৯৭ সালে পেশাদার ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দেন। পরে কোচ হিসেবেও আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের দায়িত্ব পালন করেন। ২০১০ বিশ্বকাপে তার অধীনে কোয়ার্টার ফাইনালে জার্মানির কাছে ৪-০ গোলে হেরে বিদায় নেয় আর্জেন্টিনা।


তবে ম্যারাডোনার জীবন কেবল সাফল্য ও গৌরবের গল্প নয়। মাঠের বাইরের নানা বিতর্ক, মাদকাসক্তির সঙ্গে লড়াই এবং শারীরিক অসুস্থতা তার জীবনকে বারবার কঠিন করে তুলেছে। ১৯৯১ সালে কোকেন পরীক্ষায় পজিটিভ হওয়ার পর ১৫ মাসের নিষেধাজ্ঞা পান তিনি। ১৯৯৪ বিশ্বকাপেও নিষিদ্ধ পদার্থের পরীক্ষায় পজিটিভ হওয়ার কারণে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিতে হয় তাকে।


এসব বিতর্ক সত্ত্বেও ফুটবলীয় অর্জন ও প্রভাবের কারণে ম্যারাডোনার অবস্থান অক্ষুণ্ন রয়েছে। আর্জেন্টিনার মানুষের কাছে তিনি ছিলেন এমন এক নায়ক, যিনি সাধারণ পরিবার থেকে উঠে এসে বিশ্বমঞ্চে দেশের নাম উজ্জ্বল করেছিলেন। নাপোলির সমর্থকদের কাছেও তার অবস্থান বিশেষ। শহরটির ফুটবল সংস্কৃতিতে আজও গভীরভাবে জড়িয়ে আছে তার নাম।

আরও পড়ুন

বিশ্বকাপের স্বত্ব বিক্রির নথি দেখাতে রাজি ফিফা ২২ ঘণ্টা আগে বিশ্বকাপের স্বত্ব বিক্রির নথি দেখাতে রাজি ফিফা


২০২০ সালের ২৫ নভেম্বর হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে ৬০ বছর বয়সে মারা যান ম্যারাডোনা। তার মৃত্যুর পরও বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীরা তাকে স্মরণ করে আসছেন। বিশেষ করে ১৯৮৬ বিশ্বকাপের সেই দুটি গোল বারবার মনে করিয়ে দেয়, ফুটবল কখনো কখনো একজন খেলোয়াড়ের প্রতিভা, সাহস, বিতর্ক ও সৌন্দর্যকে একই মুহূর্তে ধারণ করতে পারে।


ম্যারাডোনাকে নিয়ে বিতর্কের শেষ নেই। কেউ তাকে অসাধারণ প্রতিভার প্রতীক মনে করেন, কেউ স্মরণ করিয়ে দেন তার ভুল ও সীমাবদ্ধতার কথা। তবে ফুটবলের ইতিহাসে তার প্রভাব অনস্বীকার্য। ‘হ্যান্ড অব গড’ গোলটি যেমন ফুটবলের নিয়ম, নৈতিকতা ও প্রযুক্তি নিয়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে, তেমনি ‘গোল অব দ্য সেঞ্চুরি’ দেখিয়েছে বল পায়ে একজন খেলোয়াড়ের কল্পনাশক্তি কত দূর যেতে পারে।


আজ তার জন্মদিনে ম্যারাডোনাকে স্মরণ করা মানে শুধু একজন বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ককে স্মরণ করা নয়, ফুটবলের এমন এক শিল্পীকে স্মরণ করা, যার প্রতিভা মাঠের সীমানা ছাড়িয়ে কিংবদন্তিতে পরিণত হয়েছে। নতুন তারকারা আসবেন, নতুন গোল ইতিহাস গড়বে; তবু ম্যারাডোনার বাঁ পায়ের জাদু ফুটবলপ্রেমীদের মনে অমলিন হয়ে থাকবে।

খেলা থেকে আরও পড়ুন

মন্তব্য (০)

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন।

Football নিয়ে আরও পড়ুন