https://newsbdc.com/lifestyle-style/mw0ddhatmc
৬১ বছরেও ফিট শাহরুখ, ধরে রেখেছেন যেসব অভ্যাস
৬১ বছর বয়সেও নিজের ফিটনেস দিয়ে নজর কাড়ছেন শাহরুখ খান। গত ২ নভেম্বর জন্মদিনে প্রকাশিত ‘কিং’ সিনেমার প্রথম গান ‘তু মিল যায়ে’-তে অভিনেতার পেশিবহুল শরীর ও অ্যাবস দেখে মুগ্ধ হয়েছেন ভক্তরা।
গানটিতে দীপিকা পাড়ুকোনের সঙ্গে রোমান্টিক দৃশ্যের পাশাপাশি অ্যাকশন দৃশ্যেও দেখা গেছে তাঁকে। বয়সের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে কীভাবে নিজেকে ফিট রাখছেন বলিউড বাদশাহ? সাধারণ খাবার, নিয়মিত ব্যায়াম থেকে শুরু করে তাঁর ফিটনেস রুটিনের নানা দিক উঠে এসেছে বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে।
দিনে একবার খাবার খান শাহরুখ?
শাহরুখের খাদ্যাভ্যাস নিয়ে আলোচনার অন্যতম বিষয় দিনে একবার খাবার খাওয়ার অভ্যাস। ২০২৪ সালে দ্য গার্ডিয়ানকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অভিনেতা জানিয়েছিলেন, সাধারণত দিনে একবার খাবার খান তিনি।
আরও পড়ুন
ঘরের সৌন্দর্য বাড়ানোর পাশাপাশি সতেজ পরিবেশ দেবে যে ১০ গাছ ২ নভেম্বর ২০২৬
তবে এটি ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং অনুসরণের জন্য নয়, বরং তাঁর ব্যক্তিগত অভ্যাস।
খাবারের তালিকায় থাকে অঙ্কুরিত শস্য, গ্রিলড চিকেন, ব্রকলি ও সামান্য ডাল। রেডিও উপস্থাপক দেবাঙ্গনার সঙ্গে এক আলাপেও সাধারণ ও পরিচিত খাবারের প্রতি নিজের পছন্দের কথা জানিয়েছিলেন তিনি। তবে এর অর্থ এই নয় যে পছন্দের খাবার এড়িয়ে চলেন।
অন্যের বাড়িতে গেলে বিরিয়ানি, রুটি, পরোটা, ঘি-সমৃদ্ধ খাবার ও লাচ্ছিও উপভোগ করেন শাহরুখ।
প্রতিদিন ৩০ মিনিটের ব্যায়াম
আরও পড়ুন
খেজুরের গুড়ের ঐতিহ্যে দেশজুড়ে পরিচিত যে জেলা ১ নভেম্বর ২০২৬
শরীরচর্চার জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা জিমে কাটান না শাহরুখ। দ্য গার্ডিয়ানকে তিনি জানিয়েছিলেন, প্রতিদিন প্রায় ৩০ মিনিট ব্যায়াম করেন। এমনকি গভীর রাতে শুটিং শেষে বাড়ি ফিরেও ব্যায়ামের জন্য সময় বের করেন।
তাঁর ব্যক্তিগত প্রশিক্ষক প্রশান্ত সাওয়ান্ত দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে জানান, তাঁদের ব্যায়ামের সেশন সাধারণত ৪৫ মিনিটের হয়ে থাকে।
সপ্তাহে চার থেকে পাঁচ দিন তাঁরা অনুশীলন করেন। প্রতিদিন শরীরের বিভিন্ন অংশের ব্যায়ামে গুরুত্ব দেওয়া হয়। শরীরচর্চার পাশাপাশি খেলাধুলার মাধ্যমেও ঘাম ঝরাতে পছন্দ করেন শাহরুখ।
করোনাকালে ফিটনেসে বেশি মনোযোগ
আরও পড়ুন
এইচএসসির ফল খারাপ হলে শিক্ষার্থীকে যেভাবে সান্ত্বনা দেবেন ৩১ অক্টোবর ২০২৬
শাহরুখের ফিটনেসের প্রতি মনোযোগ আরও বেড়েছিল করোনাকালে। ২০২৪ সালের সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছিলেন, লকডাউনে কাজের ব্যস্ততা কমে যাওয়ায় শরীরচর্চায় মনোযোগ দেওয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন। তখন নিজের জন্যও ব্যায়ামের অভ্যাস গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নেন।
এরপর ‘পাঠান’ ও ‘জাওয়ান’-এর মতো অ্যাকশনধর্মী সিনেমায় তাঁর শারীরিক পরিবর্তন দর্শকের নজর কাড়ে। সাম্প্রতিক ‘তু মিল যায়ে’ গানেও তাঁর ফিটনেসের ঝলক দেখা গেছে।
দীর্ঘদিনের শরীরচর্চা ও শক্তি বাড়ানোর অনুশীলন
আরও পড়ুন
গরু নাকি মহিষের ঘি, কোনটি বেশি স্বাস্থ্যকর? ৩০ অক্টোবর ২০২৬
শাহরুখের প্রশিক্ষক প্রশান্ত সাওয়ান্তের মতে, প্রায় দুই দশক ধরে ফিটনেসের বিষয়ে শৃঙ্খলা বজায় রেখেছেন অভিনেতা। শরীরের বিভিন্ন অংশের জন্য আলাদা ব্যায়ামের পাশাপাশি চোটের বিষয়টি মাথায় রেখে অনুশীলন ও পুনরুদ্ধারের দিকেও নজর দেওয়া হয়। একই ধরনের ব্যায়াম প্রতিদিন না করে প্রয়োজন অনুযায়ী রুটিনে পরিবর্তন আনা হয়।
তাই তাঁর ফিটনেসের পেছনে কোনো এককালীন পরিবর্তনের চেয়ে দীর্ঘদিনের নিয়মিত অনুশীলনই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
ঘুমের সময় নিয়েও বদলাচ্ছেন অভ্যাস
শাহরুখের ঘুমের সময়সূচি বেশ অস্বাভাবিক। দ্য গার্ডিয়ানকে ২০২৪ সালে তিনি জানিয়েছিলেন, সাধারণত ভোর ৫টার দিকে ঘুমাতে যান। শুটিং শেষে রাত ২টার দিকে বাড়ি ফিরে প্রয়োজনীয় কাজ সেরে ব্যায়াম করে ঘুমাতে যান তিনি।
আরও পড়ুন
ব্যস্ত জীবনে বিরতি নেওয়া মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য কেন প্রয়োজন ২৯ অক্টোবর ২০২৬
তবে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে দুবাইয়ের এক অনুষ্ঠানে অভিনেতা জানান, আগে কখনো কখনো চার ঘণ্টা ঘুমালেও এখন পাঁচ থেকে ছয় ঘণ্টা ঘুমানোর চেষ্টা করছেন। ব্যায়ামের পর পেশির পুনরুদ্ধারের জন্য আরও বিশ্রাম নেওয়ার গুরুত্বও উল্লেখ করেন তিনি। তবে প্রাপ্তবয়স্কদের সাধারণত রাতে সাত থেকে নয় ঘণ্টা ঘুমের পরামর্শ দেওয়া হয়। তাই শাহরুখের অনিয়মিত ঘুমের রুটিন অনুসরণযোগ্য নয়।
সিনেমার চরিত্রের জন্যও ফিটনেস
শাহরুখের শরীরচর্চার সঙ্গে অভিনয়ের প্রস্তুতিরও সম্পর্ক রয়েছে। দ্য গার্ডিয়ানকে তিনি জানিয়েছিলেন, অভিনয়জীবনের শুরু থেকেই অ্যাকশন হিরো হওয়ার স্বপ্ন ছিল তাঁর। সে কারণেই শরীর গঠনের প্রতি আগ্রহ তৈরি হয়। ‘পাঠান’ ও ‘জাওয়ান’-এর মতো সিনেমার অ্যাকশন দৃশ্যের পাশাপাশি আসন্ন সিনেমা ‘কিং’-এর জন্যও শারীরিক প্রস্তুতি গুরুত্বপূর্ণ।
সব মিলিয়ে শাহরুখের ফিটনেস ধরে রাখার পেছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের অনুশীলন, নিয়মিত শরীরচর্চা এবং কাজের ব্যস্ততার মধ্যেও নিজের জন্য সময় বের করার অভ্যাস। দিনে একবার খাওয়া বা কম ঘুমানোর মতো ব্যক্তিগত অভ্যাসকে ফিটনেসের নিয়ম হিসেবে দেখার সুযোগ নেই; বরং ধারাবাহিকতা ও নিজের শরীরের প্রয়োজন অনুযায়ী যত্ন নেওয়াই তাঁর রুটিনের উল্লেখযোগ্য দিক।
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন।