https://newsbdc.com/lifestyle-wellness/mvt5dpl7mo
ব্যস্ত জীবনে বিরতি নেওয়া মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য কেন প্রয়োজন
ব্যস্ত জীবনে কাজ, পড়াশোনা ও নানা দায়িত্ব সামলাতে গিয়ে অনেকেই নিজের জন্য সময় বের করতে পারেন না। সারাক্ষণ কাজের মধ্যে থাকা কিংবা ফোনের নোটিফিকেশন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সময় কাটানোর ফলে মানসিক ক্লান্তি তৈরি হতে পারে। এ কারণে দিনের কিছুটা সময় কোনো নির্দিষ্ট কাজ ছাড়াই কাটানো শরীর ও মনের জন্য উপকারী হতে পারে।
মনোবিজ্ঞান ও আচরণবিষয়ক আলোচনায় এ অভ্যাসকে বলা হয় ‘দ্য আর্ট অব ডুইং নাথিং’। অর্থাৎ, নির্দিষ্ট কোনো লক্ষ্য পূরণের চেষ্টা না করে কিছুক্ষণ শান্তভাবে বসে থাকা, জানালা দিয়ে আকাশ দেখা কিংবা নীরবে বিশ্রাম নেওয়া।
আরও পড়ুন
ঘরের সৌন্দর্য বাড়ানোর পাশাপাশি সতেজ পরিবেশ দেবে যে ১০ গাছ ১৬ ঘণ্টা আগে
মানসিক চাপ কমাতে সহায়ক
একটানা কাজের চাপ মানসিক ক্লান্তি বাড়াতে পারে। কাজের ফাঁকে বিরতি নেওয়া, ধীরে শ্বাস নেওয়া কিংবা শান্ত পরিবেশে কিছুক্ষণ বসে থাকা মনকে স্বস্তি দিতে সহায়তা করে। প্রতিদিনের ব্যস্ততার মধ্যে ছোট ছোট বিরতি রাখলে চাপ সামলানো সহজ হতে পারে।
সৃজনশীলতা বাড়াতে পারে
সব সময় নির্দিষ্ট কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকলে নতুন ধারণা নিয়ে ভাবার সুযোগ কমে যায়। বিপরীতে, কিছুক্ষণ অবসর কাটানোর সময় মস্তিষ্ক আগের অভিজ্ঞতা ও ভাবনাগুলো নতুনভাবে সাজানোর সুযোগ পেতে পারে। এ কারণেই অনেকের অবসর মুহূর্তে নতুন কোনো ধারণা বা সমাধান মাথায় আসে।
আরও পড়ুন
খেজুরের গুড়ের ঐতিহ্যে দেশজুড়ে পরিচিত যে জেলা ১ নভেম্বর ২০২৬
মনোযোগ ও অনুভূতি বুঝতে সাহায্য করে
ফোনের নোটিফিকেশন ও বারবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম দেখার অভ্যাস মনোযোগে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে। কিছুক্ষণ ডিজিটাল পর্দা থেকে দূরে থাকলে মনকে বিশ্রাম দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।
আরও পড়ুন
এইচএসসির ফল খারাপ হলে শিক্ষার্থীকে যেভাবে সান্ত্বনা দেবেন ৩১ অক্টোবর ২০২৬
এ ছাড়া নিরিবিলি সময় নিজের অনুভূতি বোঝার ক্ষেত্রেও সহায়ক হতে পারে। কেন মন খারাপ লাগছে, কোন বিষয়টি উদ্বেগ তৈরি করছে কিংবা কীভাবে পরিস্থিতি সামলানো যায়—এসব নিয়ে ভাবার সুযোগ পাওয়া যায়।
ঘুমের প্রস্তুতিতেও উপকারী হতে পারে
ঘুমানোর আগে ফোন বা অন্যান্য ডিজিটাল পর্দা থেকে দূরে থাকা এবং শান্ত পরিবেশে সময় কাটানো ঘুমের প্রস্তুতিতে সহায়তা করতে পারে। তবে শুধু কিছুক্ষণ নিষ্ক্রিয় থাকলেই ঘুম গভীর হবে—এমন নিশ্চয়তা নেই। নিয়মিত ঘুমের সময়সূচি ও স্বাস্থ্যকর অভ্যাসও গুরুত্বপূর্ণ।
আরও পড়ুন
গরু নাকি মহিষের ঘি, কোনটি বেশি স্বাস্থ্যকর? ৩০ অক্টোবর ২০২৬
কীভাবে অভ্যাসটি গড়ে তুলবেন
দিনে ১০ থেকে ১৫ মিনিট সময় নিজের জন্য রাখতে পারেন। এ সময় ফোন, ল্যাপটপ ও অন্যান্য কাজ থেকে দূরে থেকে নীরবে বসুন, জানালার বাইরে তাকান কিংবা আরাম করে শুয়ে থাকুন। শুরুতে অস্বস্তি লাগলেও ধীরে ধীরে এই অভ্যাসে স্বাচ্ছন্দ্য আসতে পারে।
মনে রাখতে হবে, কিছুক্ষণ কাজ না করা মানেই অলসতা নয়। বরং প্রয়োজনমতো বিরতি নিয়ে নিজের শরীর ও মনকে বিশ্রাম দেওয়াও সুস্থ জীবনযাপনের একটি অংশ।
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন।