https://newsbdc.com/lifestyle/mvp0q3p2la
শিশুর শরীরে প্রোটিনের ঘাটতি, যে লক্ষণগুলো অবহেলা করবেন না
শিশুর শারীরিক ও মানসিক বিকাশে প্রোটিনের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শরীরের কোষ ও পেশি গঠন, ক্ষত নিরাময় এবং রোগ প্রতিরোধব্যবস্থার স্বাভাবিক কার্যক্রমে প্রোটিন প্রয়োজন। কিন্তু প্রতিদিনের খাবারে পর্যাপ্ত প্রোটিন না থাকলে শিশুর স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হতে পারে। সমস্যা হলো, প্রাথমিক পর্যায়ে প্রোটিনের ঘাটতি সব সময় স্পষ্টভাবে বোঝা যায় না। কিছু লক্ষণ দেখে পুষ্টির ঘাটতির বিষয়ে সতর্ক হওয়া সম্ভব।
শিশুর বয়স, ওজন, শারীরিক সক্রিয়তা ও সামগ্রিক স্বাস্থ্য অনুযায়ী প্রোটিনের চাহিদা ভিন্ন হয়। তাই সব শিশুর জন্য একই পরিমাণ প্রোটিন প্রয়োজন হয় না। বয়স অনুযায়ী সুষম খাদ্য নিশ্চিত করার পাশাপাশি শিশুর উচ্চতা ও ওজন নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করাও জরুরি।
আরও পড়ুন
পরিবারে ক্যানসারের ইতিহাস থাকলে যে ৩ পরীক্ষা জরুরি ২৫ অক্টোবর ২০২৬
যেসব লক্ষণে সতর্ক হবেন
বারবার ক্ষুধা লাগা: শিশু মূল খাবার খাওয়ার পরও ঘন ঘন ক্ষুধার কথা বলতে পারে। বারবার বিস্কুট, চিপস বা অন্যান্য নাশতা খেতে চাওয়ার পেছনে অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস কিংবা খাবারে পর্যাপ্ত পুষ্টি না থাকাও কারণ হতে পারে। তবে শুধু ঘন ঘন ক্ষুধা লাগলেই প্রোটিনের ঘাটতি হয়েছে, এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক নয়। শিশুর খাবারে ডাল, ডিম, দুধ, দই, মাছ, মাংস, ছোলা ও অন্যান্য প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার রাখা প্রয়োজন।
দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়া: খেলাধুলার সময় শিশু যদি স্বাভাবিকের তুলনায় দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়ে বা আগের মতো সক্রিয় না থাকে, তাহলে তার খাদ্যাভ্যাসের দিকে নজর দেওয়া উচিত। প্রোটিনের পাশাপাশি মোট ক্যালরি, আয়রনসহ অন্যান্য পুষ্টি উপাদানের ঘাটতিও দুর্বলতা ও ক্লান্তির কারণ হতে পারে। সমস্যা দীর্ঘস্থায়ী হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
আরও পড়ুন
ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে বাস দুর্ঘটনা, নিহত ৩ ও আহত ১৬ ২৪ অক্টোবর ২০২৬
ওজন ও উচ্চতা না বাড়া: শিশুর বয়স অনুযায়ী ওজন বা উচ্চতা প্রত্যাশিত হারে না বাড়লে তা অপুষ্টির একটি গুরুত্বপূর্ণ সংকেত হতে পারে। পর্যাপ্ত প্রোটিন ও ক্যালরি না পাওয়া এর অন্যতম কারণ। তবে দীর্ঘমেয়াদি অসুস্থতা, হরমোনজনিত সমস্যা কিংবা অন্যান্য কারণেও শিশুর বৃদ্ধি ব্যাহত হতে পারে। তাই নিয়মিত ওজন ও উচ্চতা মেপে বৃদ্ধির ধারাবাহিকতা পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন।
ঘন ঘন অসুস্থ হওয়া: প্রোটিন শরীরের রোগ প্রতিরোধব্যবস্থার বিভিন্ন উপাদান তৈরিতে ভূমিকা রাখে। পুষ্টির ঘাটতি থাকলে সংক্রমণের বিরুদ্ধে শরীরের স্বাভাবিক প্রতিরোধক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। শিশু বারবার অসুস্থ হলে কিংবা অসুস্থতা থেকে সেরে উঠতে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি সময় নিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। তবে এসব লক্ষণের পেছনে অন্য কারণও থাকতে পারে।
আরও পড়ুন
শিশুর ভয়কে অবহেলা নয়, কাটিয়ে উঠতে সাহায্য করুন ২৩ অক্টোবর ২০২৬
পেশির দুর্বলতা ও ক্ষত সারতে দেরি: প্রোটিনের ঘাটতি গুরুতর হলে পেশির পরিমাণ ও শক্তি কমে যেতে পারে। ক্ষত সারতেও দেরি হতে পারে। শিশুর ওজন কমে যাওয়া, শরীর ক্রমেই দুর্বল হয়ে পড়া কিংবা পেশি শুকিয়ে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
শিশুর দৈনিক প্রোটিনের চাহিদা কত?
আরও পড়ুন
পা নরম ও কোমল রাখতে ঘরেই করুন ৫ সহজ যত্ন ২৩ অক্টোবর ২০২৬
শিশুর বয়স ও ওজন অনুযায়ী প্রোটিনের প্রয়োজন নির্ধারণ করা হয়। ভারতীয় পুষ্টি সংস্থা আইসিএমআর-এনআইএন-এর তথ্য অনুযায়ী, এক থেকে তিন বছর বয়সী শিশুর প্রতি কেজি ওজনের জন্য দৈনিক প্রায় ১.০৫ গ্রাম, চার থেকে ১৩ বছর বয়সীদের জন্য প্রায় ০.৯৫ গ্রাম এবং ১৪ থেকে ১৮ বছর বয়সীদের জন্য প্রায় ০.৮৫ গ্রাম প্রোটিনের চাহিদার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
এই হিসাব নির্দিষ্ট পুষ্টিনির্দেশিকার ভিত্তিতে দেওয়া। শিশুর স্বাস্থ্য, পুষ্টিগত অবস্থা ও ব্যক্তিগত প্রয়োজন অনুযায়ী চাহিদা ভিন্ন হতে পারে। তাই নির্দিষ্ট পরিমাণ প্রোটিন নিশ্চিত করতে শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া ভালো।
খাদ্যতালিকায় রাখুন প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার
আরও পড়ুন
ভিটামিন সি পেতে প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় রাখুন ৫ খাবার ২৩ অক্টোবর ২০২৬
শিশুর প্রতিদিনের খাবারে ডাল, ডিম, দুধ, দই, মাছ, মাংস, ছোলা, মটরশুঁটি ও অন্যান্য ডালজাতীয় খাবার রাখা যেতে পারে। পরিবারের খাদ্যাভ্যাস ও সামর্থ্য অনুযায়ী এসব খাবারের সমন্বয়ে সুষম খাদ্যতালিকা তৈরি করা সম্ভব। শুধু প্রোটিন নয়, শিশুর স্বাভাবিক বিকাশের জন্য পর্যাপ্ত ক্যালরি, শাকসবজি, ফল, শস্যজাতীয় খাবার এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদানও নিশ্চিত করতে হবে।
মনে রাখতে হবে, ক্লান্তি, ঘন ঘন ক্ষুধা, দুর্বলতা কিংবা ওজন না বাড়ার মতো লক্ষণ শুধু প্রোটিনের ঘাটতির কারণে হয় না। এসব লক্ষণ দেখা দিলে নিজে থেকে প্রোটিন সাপ্লিমেন্ট বা ওষুধ না দিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। শিশুর ওজন দ্রুত কমতে থাকলে, শরীর অস্বাভাবিকভাবে ফুলে গেলে কিংবা খাওয়া ও স্বাভাবিক কার্যক্রমে গুরুতর সমস্যা দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নিতে হবে।
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন।