https://newsbdc.com/national-capital/mvnhhttdnc
রাজউকের অনলাইন পারমিট সেবায় ৭ মাসে প্রায় ১১ হাজার আবেদন
রাজধানীতে ভবন নির্মাণ ও ভূমি ব্যবহারের অনুমোদন প্রক্রিয়াকে সহজ করতে অনলাইন সেবা চালু করেছে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)। সংস্থাটির আওতাধীন আটটি জোনে প্লানিং পারমিট ও কনস্ট্রাকশন পারমিটের আবেদন এবং অনুমোদন কার্যক্রম অনলাইনে পরিচালিত হচ্ছে। এতে সেবাগ্রহীতাদের দাপ্তরিক দৌড়ঝাঁপ কমার পাশাপাশি আবেদন নিষ্পত্তিতে নির্ধারিত সময়সীমা অনুসরণের সুযোগ তৈরি হয়েছে।
রাজউকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের মার্চ থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সাত মাসে প্লানিং পারমিট ও কনস্ট্রাকশন পারমিটের জন্য মোট ১০ হাজার ৯৮৫টি আবেদন জমা পড়ে। এর মধ্যে ৭ হাজার ৯৯৩টি আবেদন অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
এই সময়ে প্লানিং পারমিটের জন্য ৭ হাজার ৫৫টি আবেদন জমা পড়ে। এর মধ্যে অনুমোদন পেয়েছে ৫ হাজার ৩৯৩টি। অন্যদিকে, কনস্ট্রাকশন পারমিটের জন্য জমা পড়া ৩ হাজার ৯৩০টি আবেদনের মধ্যে ২ হাজার ৬০০টি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন
জাইমা রহমানের জন্মদিনে শিক্ষার্থীদের জন্য ব্যতিক্রমী আয়োজন ১২ মিনিট আগে
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন নিষ্পত্তির উদ্যোগ
রাজউক জানিয়েছে, প্লানিং পারমিটের আবেদন নিষ্পত্তিতে ৩০ দিনের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। কনস্ট্রাকশন পারমিটের আবেদন ২৪ দিনের মধ্যে বিল্ডিং কনস্ট্রাকশন (বিসি) কমিটিতে উপস্থাপনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
আবেদনকারীর জমা দেওয়া কাগজপত্র ও নকশা সঠিক থাকলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়। কোনো কাগজপত্রে ঘাটতি বা আবেদনে ত্রুটি থাকলে মোবাইল ফোন বা ই-মেইলের পাশাপাশি অনলাইন ব্যবস্থার মাধ্যমে আবেদনকারীকে তা জানানোর ব্যবস্থা রয়েছে।
রাজউক চেয়ারম্যান প্রকৌশলী রিয়াজুল ইসলাম রিজু বলেন, আগে প্লানিং পারমিট ও কনস্ট্রাকশন পারমিট পেতে সেবাগ্রহীতাদের বিভিন্ন দপ্তরে ঘুরতে হতো এবং দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হতো। এ ভোগান্তি কমাতে অনুমোদন প্রক্রিয়াকে অনলাইনে আনা হয়েছে।
তিনি বলেন, আগে এসব সেবা পেতে দীর্ঘ সময় লাগলেও এখন নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। সেবাগ্রহীতাদের কাছ থেকেও অনলাইন সেবা নিয়ে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যাচ্ছে।
আরও পড়ুন
নিম্নচাপটি রূপ নেবে অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে, আঘাত হানতে পারে বুধবার ১ ঘণ্টা আগে
রাজউকের সব ধরনের সেবা ডিজিটাইজেশনের আওতায় আনার কাজ চলছে জানিয়ে চেয়ারম্যান বলেন, দরপত্র ও এস্টেট কার্যক্রমসহ অন্যান্য সেবাও পর্যায়ক্রমে ডিজিটাল ব্যবস্থার আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
আট জোনে আবেদনের চিত্র
রাজউকের পরিচালক (উন্নয়ন) প্রকৌশলী নূর-ই-খোদা জানান, মার্চ থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্লানিং পারমিটের জন্য সবচেয়ে বেশি আবেদন জমা পড়ে জোন-৪-এ, মোট ১ হাজার ৬৬৩টি। এ জোনে ১ হাজার ৬০৯টি আবেদন অনুমোদন পেয়েছে।
অন্যদিকে, প্লানিং পারমিটের জন্য জোন-১-এ ১ হাজার ৫৯টি, জোন-২-এ ৭৯৭টি, জোন-৩-এ ১ হাজার ৩০টি, জোন-৫-এ ৫০৩টি, জোন-৬-এ ১ হাজার ১৭০টি, জোন-৭-এ ৪৮৩টি এবং জোন-৮-এ ৩৫০টি আবেদন জমা পড়ে।
আরও পড়ুন
হাসপাতালে ভূমিমন্ত্রীকে দেখতে গেলেন রাষ্ট্রপতি ২ ঘণ্টা আগে
এসব আবেদনের মধ্যে জোন-১-এ ৮৭৮টি, জোন-২-এ ৫৮৯টি, জোন-৩-এ ৭৪১টি, জোন-৫-এ ৩০৫টি, জোন-৬-এ ৭৬৭টি, জোন-৭-এ ২২৮টি এবং জোন-৮-এ ২৭৬টি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। বাকি আবেদনগুলো কাগজপত্রের ঘাটতি ও অন্যান্য প্রক্রিয়াগত কারণে নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে।
একই সময়ে কনস্ট্রাকশন পারমিটের জন্য জোন-১-এ ৭০৭টি, জোন-২-এ ৪১৩টি, জোন-৩-এ ৫২৬টি, জোন-৪-এ ১ হাজার ১৮৯টি, জোন-৫-এ ২২৯টি, জোন-৬-এ ৪৬১টি, জোন-৭-এ ১৮৮টি এবং জোন-৮-এ ২১৭টি আবেদন জমা পড়ে।
এর মধ্যে জোন-১-এ ৪০১টি, জোন-২-এ ২২৫টি, জোন-৩-এ ৩৬৫টি, জোন-৪-এ ৭৫৩টি, জোন-৫-এ ৯৭টি, জোন-৬-এ ৪০৫টি, জোন-৭-এ ১৪৮টি এবং জোন-৮-এ ২০৬টি আবেদন অনুমোদন পেয়েছে।
আরও পড়ুন
১৮টি দেশে রপ্তানি বাড়াতে দেশভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা সরকারের ২ ঘণ্টা আগে
রাজউকের পরিচালক (উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণ-১) মো. মনিরুল হক জানান, যেসব আবেদনে ত্রুটি বা কাগজপত্রের ঘাটতি রয়েছে, সেগুলো অনলাইনের মাধ্যমে আবেদনকারীর কাছে ফেরত পাঠানো হচ্ছে। ঘাটতি পূরণ করে পুনরায় আবেদন জমা দিলে তা অনলাইনেই অনুমোদনের প্রক্রিয়ায় যায়। প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ না হলে আবেদন বাতিল করা হয়।
পুরো অনুমোদন প্রক্রিয়া এখনো ডিজিটাল হয়নি
রাজউকের পারমিট সেবা অনলাইনে পরিচালিত হলেও পুরো অনুমোদন প্রক্রিয়া এখনো ডিজিটাল হয়নি। নকশা অনুমোদনের পর ভবন নির্মাণকালীন তদারকির কাজ এখনো ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে করা হয়। এ ছাড়া নকশা অনুমোদনের আগে অনেক ক্ষেত্রে ফায়ার সার্ভিস, সিভিল এভিয়েশনসহ বিভিন্ন সরকারি সংস্থার অনাপত্তিপত্র বা এনওসি নিতে হয়। এসব সংস্থার অনেক ক্ষেত্রেই অনাপত্তিপত্র দেওয়ার প্রক্রিয়া এখনো ম্যানুয়াল।
ফলে রাজউকের নিজস্ব অনুমোদন ব্যবস্থা অনলাইনে এলেও সংশ্লিষ্ট অন্য সংস্থার প্রক্রিয়ার কারণে পুরো সেবাব্যবস্থায় কাঙ্ক্ষিত গতি সব সময় নিশ্চিত করা যাচ্ছে না।
রাজউকের প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ প্রকৌশলী মো. আশরাফুল ইসলাম জানান, পাইলট প্রকল্পের মাধ্যমে প্লানিং পারমিট ও নকশা অনুমোদনের ডিজিটাইজেশন কার্যক্রম শুরু হয় ২০১৬ সালে। বিশ্বব্যাংকের আইএফসি অর্থায়নে শুরু হওয়া প্রকল্পটির প্রথম পর্যায়ে শুধু জোন-৫, অর্থাৎ ধানমন্ডি এলাকায় ভূমি ব্যবহারসংক্রান্ত কার্যক্রম ডিজিটাল করা হয়। পরে রাজউকের আটটি জোনে এ কার্যক্রম বিস্তৃত হয়।
আরও পড়ুন
বঙ্গোপসাগরে শক্তিশালী হচ্ছে নিম্নচাপ, ঘূর্ণিঝড়ের শঙ্কা ২ ঘণ্টা আগে
তিনি আরও জানান, ঢাকা আরবান রেজিলিয়েন্স প্রজেক্টের আওতায় ইলেকট্রনিক কনস্ট্রাকশন পারমিটিং সিস্টেম চালু করা হয়, যা বর্তমানে চালু রয়েছে।
প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ বলেন, প্লানিং পারমিট ও নকশা অনুমোদনের প্রক্রিয়াকে আরও দ্রুত ও স্বচ্ছ করতে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে ওয়ান উইন্ডো সেলের আওতায় এনে সেবা দেওয়া প্রয়োজন। এতে অনুমোদনের সময় কমবে এবং জনভোগান্তিও কমবে।
রাজউকের কর্মকর্তাদের মতে, আটটি জোনে অনলাইন আবেদন ও অনুমোদন ব্যবস্থা চালুর ফলে সেবাপ্রক্রিয়া সহজ হয়েছে। তবে পূর্ণাঙ্গ ওয়ান-স্টপ সেবা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর অনাপত্তিপত্র প্রদান, নির্মাণকালীন পরিদর্শন ও অন্যান্য সহায়ক কার্যক্রমও ডিজিটাল ব্যবস্থার আওতায় আনা প্রয়োজন।
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন।