https://newsbdc.com/national/mw0jstwniy
তাহসিফ হত্যা: প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে গেছেন দীপ, ফের ৩ দিনের রিমান্ড
প্রসিকিউশন পুলিশের এসআই সাইফুল ইসলাম রিমান্ডের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আরও পড়ুন
খুলনায় ৫ নভেম্বর ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ সিজন-২ উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী ৯ মিনিট আগে
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গাজীপুরের টঙ্গী নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক ফিরোজ উদ্দিন দীপকে দ্বিতীয় দফায় সাত দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেন। আবেদনে তিনি আটটি কারণ উল্লেখ করেন।
তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনে বলা হয়, প্রথম দফার রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে দীপ ঘটনার বিষয়ে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন। সেগুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। তবে তিনি অত্যন্ত চতুর প্রকৃতির হওয়ায় জিজ্ঞাসাবাদে একাধিক প্রশ্নের উত্তর কৌশলে এড়িয়ে গেছেন এবং নীরবতা পালন করেছেন। মামলার রহস্য উদ্ঘাটনে তাঁকে আরও নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন।
আরও পড়ুন
দ্বিতীয় পদ্মা ও যমুনা সেতুর পরিকল্পনা এগিয়ে নেওয়ার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর ১৩ মিনিট আগে
রাষ্ট্রপক্ষে প্রসিকিউটর মুহাম্মদ শামছুদ্দোহা সুমন রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। অন্যদিকে দীপের আইনজীবী মুতাসিম বিল্লাহ রিমান্ড আবেদন বাতিলের পক্ষে শুনানি করেন। উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, তাহসিফ মৃত্যুর আগে সন্দেহভাজন আসামি দীপ ও জেরিকা তাসনিম দিশার সঙ্গে বিভিন্ন জায়গায় ঘোরাফেরা এবং রেস্তোরাঁয় খাবার খেয়েছিলেন। তদন্তে এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, মৃত্যুর আগে তাঁকে সর্বশেষ তাঁদের সঙ্গে দেখা গেছে বলে দাবি করা হয়েছে। এ ঘটনায় তাঁদের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা যাচাই করা প্রয়োজন বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়।
দীপকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশের আবেদনে আটটি কারণ তুলে ধরা হয়েছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে, বিভিন্ন স্থানের সিসিটিভি ফুটেজে দীপের উপস্থিতি যাচাই ও বিশ্লেষণ, ভুক্তভোগীর সঙ্গে ‘নেস্ট বার অ্যান্ড রেস্টুরেন্টে’ অবস্থানের সময় ১৫ থেকে ২০ মিনিটের জন্য অন্যত্র গিয়ে তিনি কার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন, তা খতিয়ে দেখা এবং তাহসিফ ও দীপসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মোবাইল ফোনের কল ডিটেইলস রেকর্ড (সিডিআর) পর্যালোচনা।
আরও পড়ুন
১০০ টাকায় মিলছে ই-রিকশা নিবন্ধন ফরম ২০ মিনিট আগে
এ ছাড়া হত্যাকাণ্ডের রহস্য ও সম্ভাব্য উদ্দেশ্য উদ্ঘাটন, অজ্ঞাতনামা অন্য আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার, আলামত উদ্ধার এবং হত্যাকাণ্ডের স্থান নির্ধারণের বিষয়ও রিমান্ড আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তদন্ত কর্মকর্তার দাবি, প্রাথমিক তদন্তে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে দীপের সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া গেছে। মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তাঁকে আরও জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন।
আরও পড়ুন
৭ নভেম্বর ছয় ঘণ্টা টোলমুক্ত ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে ২৭ মিনিট আগে
এর আগে গত ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় জুনিয়র বন্ধু দীপের ডাকে বাসা থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন তাহসিফ। পরদিন বিকেলে তুরাগ নদের রাজাবাড়ী ঘাট এলাকা থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে নৌ-পুলিশ।
তাহসিফের মৃত্যুর ঘটনায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে ৩০ অক্টোবর রাতে রাজধানীর উত্তরখান থানায় মামলা করেন তাঁর বাবা কে এম এনায়েতুল করিম। পরে এ মামলায় দীপকে সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেপ্তার দেখায় পুলিশ।
আরও পড়ুন
আইনের সীমার মধ্যে প্রাণঘাতী বল প্রয়োগের অধিকার পুলিশের আছে: তথ্য উপদেষ্টা ১ ঘণ্টা আগে
মামলার এজাহারে তাহসিফের বাবা উল্লেখ করেন, ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যা ৬টার পর দীপের ডাকে বাসা থেকে বের হন তাঁর ছেলে। রাত গভীর হলেও ফিরে না আসায় তাঁর মা বারবার ফোন করেন। তখন তাহসিফ জানান, কিছুক্ষণের মধ্যে ফিরবেন। পরে রাত ১টা ৩৫ মিনিটে তাহসিফের ফোন থেকে মেসেঞ্জারে তাঁর মায়ের কাছে একটি ভয়েস মেসেজ পাঠানো হয়। এতে বলা হয়, ‘রওনা দিয়েছি, আসছি’।
তবে রাত পেরিয়ে পরদিন বিকেল হলেও তিনি বাসায় ফেরেননি। ২৮ অক্টোবর বিকেল ৫টা ২০ মিনিটের দিকে নৌ-পুলিশ ফোন করে তুরাগ নদ থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধারের খবর জানায়। পরে শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে ময়নাতদন্তের প্রাথমিক কার্যক্রম শেষে ২৯ অক্টোবর দুপুরে পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হয়। ওই দিন বিকেলে উত্তরা ১২ নম্বর সেক্টরের কবরস্থানে তাহসিফকে দাফন করা হয়।
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন।