https://newsbdc.com/national/mw4lww3a6x
কারাগারে নিরাপত্তা জোরদারে সাত দফা নির্দেশনা, বাস্তবায়ন ৯০ শতাংশ
দেশের কারাগারগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার, শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সাত দফা নির্দেশনা বাস্তবায়ন করছে কারা অধিদপ্তর। এসব নির্দেশনায় লকআপের পরবর্তী কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ, ২৪ ঘণ্টা সিসিটিভি নজরদারি, দায়িত্বে অবহেলা ও অনুমতি ছাড়া কর্মস্থল ত্যাগের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা এবং আকস্মিক পরিদর্শনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
কারা অধিদপ্তরের দাবি, নির্দেশনাগুলোর অন্তত ৯০ শতাংশ ইতোমধ্যে বাস্তবায়ন করা হয়েছে।
নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলায় সাত দফা নির্দেশনা
কারাগারের নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা দূর করা এবং সার্বিক ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে নেওয়া সাতটি পদক্ষেপ হলো—
১. লকআপের পরবর্তী কার্যক্রমের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ।
২. প্রতিটি কারাগারে ২৪ ঘণ্টা সিসিটিভি নজরদারি।
আরও পড়ুন
বাবুনগর মাদ্রাসায় যাচ্ছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, জুমার পর সম্মেলনে যোগ ২২ মিনিট আগে
৩. দায়িত্বের স্থান থেকে অননুমোদিত অনুপস্থিতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা।
৪. তত্ত্বাবধায়ক কর্মকর্তাদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা।
৫. দায়িত্ব পালনে অবহেলাকারী কর্মীদের পুনঃপ্রশিক্ষণ ও কাউন্সেলিং।
৬. বৃষ্টি, বজ্রপাতসহ প্রতিকূল আবহাওয়ায় বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
৭. নিয়মিত তদারকি ও আকস্মিক পরিদর্শন।
কারা অধিদপ্তরের আশঙ্কা, দায়িত্ব পালনে অবহেলা, শৃঙ্খলাহীনতা এবং নিয়মকানুন যথাযথভাবে অনুসরণ না করার কারণে কারাগারগুলোতে নিরাপত্তাঝুঁকি তৈরি হতে পারে। এসব ঝুঁকি মোকাবিলায় নতুন নির্দেশনা কার্যকর করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন
পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে বোর্ডের সভা ৯ নভেম্বর ৩৯ মিনিট আগে
প্রতিদিন তদারকি, নজরদারিতে অপারেশনাল শাখা
কারা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক কর্নেল মেসবাহুল আলম সেলিম বাসসকে জানান, সাত দফা নির্দেশনার বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে অধিদপ্তর পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা জোরদার করেছে। এর অংশ হিসেবে সারাদেশের প্রতিটি কারাগারে প্রতিদিন তদারকি করা হচ্ছে। পাশাপাশি সব কারাগারকে নিয়মিতভাবে কারা কর্তৃপক্ষের কাছে মতামত জমা দিতে হবে।
তিনি বলেন, নির্দেশনাগুলো কতটা অনুসরণ করা হচ্ছে, তা পর্যবেক্ষণের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে অধিদপ্তরের অপারেশনাল শাখাকে। এ ছাড়া সারাদেশের কারাগার পর্যবেক্ষণের জন্য ডেপুটি জেলারসহ অতিরিক্ত জনবল নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সেলিম জানান, নির্দেশনাগুলোর অন্তত ৯০ শতাংশ বাস্তবায়ন করা হয়েছে। আগামী তিন থেকে চার মাসের মধ্যে এসব পদক্ষেপের সুফল দৃশ্যমান হবে বলে আশা করছে অধিদপ্তর।
দায়িত্ব পালনে অবহেলার জন্য দায়ী কারা কর্মীদের এক কারাগার থেকে অন্য কারাগারে বদলির নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
লকআপের পর কার্যক্রমে লাগবে লিখিত অনুমোদন
আরও পড়ুন
অর্থের বিবেচনায় নয়, দায়িত্ববোধ নিয়ে আদালতে দাঁড়াতে হবে: আইনমন্ত্রী ৪৫ মিনিট আগে
নির্দেশনা অনুযায়ী, উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের অনুমোদিত জরুরি পরিস্থিতি ছাড়া লকআপের পরবর্তী কার্যক্রম কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। কোনো ব্যতিক্রমী ব্যবস্থা গ্রহণের প্রয়োজন হলে জেলারের লিখিত অনুমোদন নিতে হবে। পাশাপাশি কার্যক্রমের নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ এবং সংশ্লিষ্ট রেজিস্টারে তা নথিভুক্ত করতে হবে।
প্রতিটি কারাগারে ২৪ ঘণ্টা সিসিটিভি নজরদারি
নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিটি কারাগারে সার্বক্ষণিক সিসিটিভি নজরদারি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। যেখানে সম্ভব, সেখানে পৃথক পর্যবেক্ষণ কক্ষ স্থাপন করতে হবে। এ কাজে সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালনের জন্য প্রশিক্ষিত ও তথ্যপ্রযুক্তিতে দক্ষ কারারক্ষীদের নিয়োগ দিতে হবে।
যেসব কারাগারে পৃথক পর্যবেক্ষণ কক্ষ নেই, সেখানে নিরবচ্ছিন্ন নজরদারি নিশ্চিত করতে উপযুক্ত স্থানে মনিটর স্থাপনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
দায়িত্বে অনুপস্থিতি দেখলেই ব্যবস্থা
আরও পড়ুন
মালয়েশিয়ায় ১১২ কর্মী নিয়োগ, আবেদন শুরু আজ ৫১ মিনিট আগে
কর্নেল মেসবাহুল আলম সেলিম বলেন, নিরাপত্তাজনিত ত্রুটি প্রতিরোধে দায়িত্বের স্থান থেকে অননুমোদিত অনুপস্থিতির ক্ষেত্রে শূন্য-সহনশীলতার নীতি গ্রহণ করেছে কারা অধিদপ্তর।
কোনো প্রহরী বা পাহারাদার কর্মীকে অনুমতি ছাড়া নির্ধারিত স্থান ত্যাগ করতে দেখা গেলে তাৎক্ষণিকভাবে লিখিতভাবে জানাতে হবে। এরপর বিদ্যমান নিয়ম অনুযায়ী বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও জানান, দায়িত্বে অবহেলা কিংবা অননুমোদিত অনুপস্থিতির ঘটনা গোপন করা, প্রতিবেদন দিতে বিলম্ব করা বা এড়িয়ে যাওয়া এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট তত্ত্বাবধায়ক কর্মকর্তাদেরও জবাবদিহি করতে হবে।
অবহেলাকারীদের পুনঃপ্রশিক্ষণ, প্রয়োজনে বদলি
নির্দেশনায় দায়িত্বে অবহেলার জন্য বারবার অভিযুক্ত পাহারাদার কর্মীদের পুনঃপ্রশিক্ষণ, কাউন্সেলিং ও অনুপ্রেরণামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বলা হয়েছে।
পরিস্থিতি ও প্রশাসনিক প্রয়োজন বিবেচনায় এসব কর্মীকে অন্যত্র বদলি করা হতে পারে। এ ছাড়া বিদ্যমান প্রবিধান অনুযায়ী তাঁদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থাও নেওয়া যাবে।
আরও পড়ুন
দেশে নতুন তিনটি সার কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা সরকারের ৫৩ মিনিট আগে
প্রতিকূল আবহাওয়ায় বিশেষ নিরাপত্তা
বৃষ্টি ও বজ্রপাতসহ প্রতিকূল আবহাওয়ায় কারাগারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে অধিদপ্তর। এ সময় প্রহরীদের নিজ নিজ নির্ধারিত স্থানে অবস্থান করতে হবে এবং দায়িত্ব পালনে সর্বোচ্চ সতর্কতা বজায় রাখতে হবে।
পাশাপাশি কারাগারের সুপারিনটেনডেন্ট, জেলার ও অন্যান্য দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের নিয়মিত তত্ত্বাবধানের পাশাপাশি আকস্মিক পরিদর্শন করতে হবে। এসব পরিদর্শনে নিরাপত্তা চৌকি, সিসিটিভি পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা, প্রহরীদের দায়িত্ব পালন এবং সামগ্রিক নিরাপত্তার কার্যকারিতা যাচাই করতে হবে। কোনো ত্রুটি পাওয়া গেলে তা দূর করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে।
অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় ভাবমূর্তি ক্ষুণ্নের আশঙ্কা
গত আগস্টে জারি করা সাত দফা নির্দেশনায় সতর্ক করা হয়েছিল, কারাগারের অভ্যন্তরে যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা পুরো কারা প্রশাসনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে পারে এবং জনমনে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে।
এ পরিপ্রেক্ষিতে নিরাপত্তার ত্রুটি প্রতিরোধ, প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং কারা প্রশাসনের প্রতিটি স্তরে জবাবদিহিতা বাড়াতে সংশ্লিষ্ট সব কর্মকর্তাকে নির্দেশনাগুলো অবিলম্বে বাস্তবায়নের নির্দেশ দিয়েছে কারা অধিদপ্তর।
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন।