https://newsbdc.com/sara-desh/mvwawei9jd
সাজেকে জেএসএস-ইউপিডিএফের মধ্যে ফের গোলাগুলি, আতঙ্কে পর্যটক-স্থানীয়রা
রাঙামাটির বাঘাইছড়ির পর্যটন এলাকা সাজেকের দুর্গম পাহাড়ে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে জনসংহতি সমিতি (জেএসএস) ও ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের (ইউপিডিএফ) সশস্ত্র কর্মীদের মধ্যে প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (৩১ অক্টোবর) দুপুর ১টার দিকে সাজেকের কলাবুনিয়া এলাকায় এ সংঘর্ষ শুরু হয়।
দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই গোলাগুলির ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দা ও ভ্রমণরত পর্যটকদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে এবং পুরো এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। তবে এ ঘটনায় হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
আরও পড়ুন
যৌন হয়রানির প্রতিবাদে ১০ শিক্ষার্থীকে ক্লাসের বাইরে রাখার অভিযোগ, বিক্ষোভ ১৯ ঘণ্টা আগে
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সাজেক ও তৎসংলগ্ন পাহাড়ি এলাকায় একক আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে জেএসএস ও ইউপিডিএফের মূল দলের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে। এরই জেরে শনিবার দুপুরে কলাবুনিয়া দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় উভয় পক্ষের সশস্ত্র ক্যাডাররা মুখোমুখি অবস্থান নিয়ে গুলিবর্ষণ শুরু করে।
এলাকাটি অত্যন্ত দুর্গম হওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সাজেক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তোফাজ্জল হোসেন জানান, শনিবার দুপুর ১টা থেকে কলাবুনিয়ার দুর্গম এলাকায় দুই আঞ্চলিক দলের মধ্যে এই গোলাগুলি শুরু হয়। এলাকাটি অত্যন্ত দুর্গম ও ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে ভেতরে প্রবেশ করা সম্ভব হয়নি।
আরও পড়ুন
সুন্দরবনে শিকারিদের ফাঁদে দুই হরিণ, জীবিত উদ্ধার ১৯ ঘণ্টা আগে
তিনি আরও জানান, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ এবং যৌথ নিরাপত্তা বাহিনী ঘটনাস্থলে প্রবেশের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
তবে বর্তমানে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা দূর থেকে পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছেন।
আরও পড়ুন
‘ইশ্, প্রধানমন্ত্রী যদি প্রতি মাসে একবার খুলনায় আসতেন’ ১৯ ঘণ্টা আগে
দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই গোলাগুলির ঘটনায় সাজেক সীমান্ত ও আশপাশের এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম উৎকণ্ঠা তৈরি হয়েছে।
রাঙামাটি পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিব বলেন, ‘দুই গ্রুপের মধ্যে গোলাগুলির খবর পেয়েছি। তবে কাদের মধ্যে এই গোলাগুলি হচ্ছে সেটা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তৎপর রয়েছে।’
এ বিষয়ে দুই সংগঠনের কারো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
আরও পড়ুন
সীতাকুণ্ডে আইআইইউসি শিক্ষার্থী নিহত, মহাসড়ক-রেললাইন অবরোধ ২০ ঘণ্টা আগে
প্রসঙ্গত, ইউপিডিএফের দুই ছায়া সংগঠন সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশনের ডাকে বর্তমানে সাজেক সড়কে অনির্দিষ্টকালের সড়ক অবরোধ চলছে। এই সংগঠনগুলোর অভিযোগ, সন্তু লারমা নেতৃত্বাধীন জনসংহতি সমিতি সাজেকের বিভিন্ন গ্রামে সশস্ত্র অবস্থান নিয়েছে। এতে গ্রামবাসী আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। সহসা সংঘর্ষ এড়াতে গ্রাম থেকে সশস্ত্র গোষ্ঠীকে সরানোর দাবিতে সংগঠন দুটি অবরোধ চালিয়ে যাচ্ছে।
এ বিষয়ে গত ২৬ অক্টোবর সাজেকের উজোবাজারে সংগঠন দুটির নেতৃবৃন্দের সঙ্গে বৈঠকে বসেন রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ির দুই সংসদ সদস্যসহ জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের কর্মকর্তারা। সংলাপে পাঁচটি দাবির মধ্যে চারটির বিষয়ে সমঝোতা হলেও সশস্ত্র গোষ্ঠীকে সরানোর বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো সিদ্ধান্ত দিতে পারেননি নেতৃবৃন্দ। এতে সাজেকের সংকট এখনো কাটেনি।
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন।