https://newsbdc.com/business-economy/mw4sfxq69l
আওয়ামী আমলে অর্থ পাচারের খেসারত দিচ্ছে দেশের অর্থনীতি
আওয়ামী লীগ সরকারের টানা দেড় দশকের শাসনামলে দেশ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে পাচার হয়েছে বলে অর্থনীতির শ্বেতপত্রে উঠে এসেছে। অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ীদের মতে, এর প্রভাব এখন দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে পড়ছে। বাধাগ্রস্ত হচ্ছে কাঙ্ক্ষিত প্রবৃদ্ধি ও বিনিয়োগ।
তাঁদের মতে, দেশে বিনিয়োগের নিরাপদ ও অনুকূল পরিবেশের অভাবের কারণে মূলধন বিদেশে স্থানান্তরের প্রবণতা তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ, আমদানি ব্যয় ও ডলারের বিনিময় হারে। পাশাপাশি বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ এবং জরুরি পণ্য আমদানির ক্ষেত্রেও চাপ তৈরি হয়েছে।
আরও পড়ুন
বিশ্ববাজারে তেলের দাম ১০০ ডলারের নিচে, সপ্তাহে কমতে পারে ১২ শতাংশ ৪ ঘণ্টা আগে
আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে তৈরি অর্থনীতির শ্বেতপত্রে অর্থ পাচারের একটি চিত্র উঠে আসে। অর্থনীতিবিদ দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যের নেতৃত্বে তৈরি ওই শ্বেতপত্রে বলা হয়, ২০০৯ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে দেশ থেকে ২৩ হাজার ৪০০ কোটি বা ২৩৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার পাচার হয়েছে।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিতে বিনিয়োগের উপযুক্ত ও নিরাপদ পরিবেশ না থাকায় অর্থ বিদেশে পাচার হয়েছে। ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সাবেক সভাপতি আশরাফ আহমেদের মতে, অর্থ পাচার বা মূলধন স্থানান্তর না হলে দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধির হার আরও বেশি হতে পারত।
আরও পড়ুন
কমেছে শীতকালীন সবজির দাম, বেড়েছে পোল্ট্রি মুরগির ৪ ঘণ্টা আগে
তিনি বলেন, মূলধন ধরে রাখতে হলে দেশে বিনিয়োগকে নিরাপদ ও অধিক মুনাফাজনক করতে হবে। সেটি নিশ্চিত করা গেলে বিদেশে টাকা পাঠানোর প্রবণতা এমনিতেই কমে আসবে।
অন্যদিকে অর্থ পাচারের কারণে স্থানীয় মুদ্রা টাকার মানে অবমূল্যায়ন হয়েছে, যার প্রভাব পড়েছে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়ে। বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন বলেন, ‘যে পরিমাণ ডলার দেশে আসার কথা ছিল, তা আসেনি।’
আরও পড়ুন
যুক্তরাষ্ট্রের পোশাক বাজারে চীন-ভারতের বড় পতন, চাপে বাংলাদেশ ৪ ঘণ্টা আগে
তিনি আরও বলেন, পাচার হওয়া এসব ডলার দেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থায় থাকলে ডলারের বিপরীতে টাকার বিনিময় হার ১২৫ থেকে ১২৬ টাকায় পৌঁছাত না। বিনিময় হার নিয়ন্ত্রণে থাকলে আমদানি পণ্যের দাম আরও কম থাকত এবং জীবনযাত্রার ব্যয়ও কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হতো।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিগত সরকারের সময়ে অর্থ পাচার ও সুশাসনের ঘাটতির প্রভাব বর্তমান অর্থনীতিতেও রয়েছে। তাঁদের ধারণা, এসব কারণে আমদানি ব্যয় মেটানো এবং বৈদেশিক দায় পরিশোধের ক্ষেত্রে চাপ তৈরি হয়েছে।
ব্যবসা-বাণিজ্য থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন।