https://newsbdc.com/law-court/mw3bedcfjk
মানিকগঞ্জে তিনজনকে হত্যার মামলায় ৫ জনের মৃত্যুদণ্ড, ৮ জনের যাবজ্জীবন
মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার গোবিন্ধল গ্রামে সম্পত্তি ও বিদেশ থেকে পাঠানো অর্থের বিরোধকে কেন্দ্র করে তিনজনকে হত্যার মামলায় পাঁচ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই মামলায় আটজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং সাতজনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় চার আসামিকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সব আসামির উপস্থিতিতে মানিকগঞ্জের জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক এস কে এম তোফায়েল হাসান এ রায় ঘোষণা করেন।
আরও পড়ুন
শিশু সহিংসতার মামলায় কঠোর ট্রাইব্যুনাল, ৯ মাসে ২ মৃত্যুদণ্ড ও ৪ যাবজ্জীবন ৩ নভেম্বর ২০২৬
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন মো. জিয়ার উদ্দিন, মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম, আবদুর রশিদ, জসিম ও সিদ্দিক মিয়া। তাঁদের প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে আরও চার মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আটজন হলেন মো. জহির উদ্দিন, আজিজুল, উজ্জ্বল, মো. শামসুল হক, সালাউদ্দিন, মাজেদ মিয়া, মো. মরণ ও স্বপন। তাঁদের প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।
এ ছাড়া শামীম ও হাবু মিয়াকে পাঁচ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরও দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। মজনু মিয়াকে এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। রাজিয়া খাতুন ও সুফিয়া খাতুনকে ছয় মাস করে এবং সাহেরা ও খাতুনীকে তিন মাস করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন
শাপলা চত্বর মামলায় শেখ হাসিনাসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানি আজ ১ নভেম্বর ২০২৬
খালাসপ্রাপ্ত চারজন হলেন ওলি আহাদ, শুকুর জোলা, রাজা জোলা এবং অপর এক আসামি। রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মানিকগঞ্জের জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) আ ফ ম নুরতাজ আলম বাহার।
মামলার বিবরণে জানা যায়, হাসিনা নামের এক নারী বাহরাইনে বসবাস করতেন। স্বামী ও সন্তান না থাকায় তাঁর মৃত্যুর পর রেখে যাওয়া সম্পত্তি ও অর্থের মালিকানা নিয়ে ভাই-বোনদের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়।
আরও পড়ুন
সাগর-রুনি হত্যা তদন্তে আলোচনায় জিয়াউল আহসান ও রোকেয়া প্রাচীর নাম ২৭ অক্টোবর ২০২৬
অভিযোগ অনুযায়ী, হাসিনার বোন রাজিয়া খাতুন, তাঁর স্বামী ও ছেলেরা ওই সম্পত্তি ও অর্থ ভোগদখল করতে থাকেন। বিরোধ নিরসনে স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিশ হলেও কোনো সমাধান হয়নি।
২০১৬ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য সালিশ বৈঠকের দিন নির্ধারিত ছিল। তবে ওই দিন সকাল পৌনে ৮টার দিকে জসিম তাঁর মামা টেঁন্ডুল মোল্লা, করিম মোল্লা ও আজিজ মোল্লাকে শামসুল হকের বাড়িতে ডেকে নেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, সেখানে পৌঁছালে রাজিয়া খাতুনের নির্দেশে জসিমসহ অন্য আসামিরা রামদা, সড়কি, লোহার রড ও বাঁশের লাঠি নিয়ে তাঁদের ওপর হামলা চালান। এতে আজিজ মোল্লা, টেঁন্ডুল মোল্লা ও করিম মোল্লা গুরুতর আহত হন। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনজনই মারা যান।
আরও পড়ুন
জুলাই অভ্যুত্থানে তিন মামলায় শেখ হাসিনাসহ ১১৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র ২৫ অক্টোবর ২০২৬
পরদিন ২২ ফেব্রুয়ারি নিহতদের একজনের স্বজন ফরিদা আক্তার সিংগাইর থানায় হত্যা মামলা করেন। তদন্ত শেষে ২০১৭ সালের ২৮ এপ্রিল সিংগাইর থানার তৎকালীন পুলিশ পরিদর্শক আমিনুল ইসলাম ২৪ জনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন।
মামলায় ২১ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আদালত এ রায় ঘোষণা করেন।
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন।