https://newsbdc.com/national-district/mvjfm4kaw8
কক্সবাজারে ১২ বছরে সাগরে ডুবে ৮৪ পর্যটকের মৃত্যু
কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে পর্যটকের সংখ্যা বাড়লেও সে তুলনায় নিরাপত্তাব্যবস্থা পর্যাপ্ত নয় বলে অভিযোগ উঠেছে। লাইফগার্ডের স্বল্পতা ও নজরদারির ঘাটতির মধ্যে সাগরে গোসল করতে নেমে গত ১২ বছরে অন্তত ৮৪ পর্যটকের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে ১ হাজার ২০০ পর্যটককে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সী সেফ লাইফগার্ড সংস্থা।
টানা ছুটিতে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে পর্যটকদের ব্যাপক সমাগম দেখা গেছে। সবচেয়ে বেশি ভিড় সুগন্ধা পয়েন্টে। লাইফগার্ডদের হিসাব অনুযায়ী, সেখানে লাখের বেশি পর্যটকের সমাগম হলেও নিরাপত্তার দায়িত্বে রয়েছেন মাত্র আটজন লাইফগার্ড। ফলে বিপুলসংখ্যক পর্যটকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাঁদের।
আরও পড়ুন
হাসপাতালে ভূমিমন্ত্রীকে দেখতে গেলেন রাষ্ট্রপতি ১১ মিনিট আগে
পর্যটকদের অভিযোগ, সৈকতের বিভিন্ন এলাকায় সমুদ্রে গোসলের সময় পর্যাপ্ত লাইফগার্ড ও নিরাপত্তাকর্মী পাওয়া যায় না। এতে স্রোতে ভেসে যাওয়া কিংবা পানিতে ডুবে যাওয়ার মতো দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে।
সী সেফ লাইফগার্ড সংস্থার জ্যেষ্ঠ কর্মী আব্দুর রশীদ বলেন, সুগন্ধা বিচে বর্তমানে আটজন লাইফগার্ড দায়িত্ব পালন করছেন। পর্যটকের তুলনায় তাঁদের সংখ্যা অনেক কম। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে লাইফগার্ডের সংখ্যা বাড়ানো প্রয়োজন।
আরও পড়ুন
১৮টি দেশে রপ্তানি বাড়াতে দেশভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা সরকারের ১৪ মিনিট আগে
পর্যটক রিয়াজ উদ্দিন বলেন, সমুদ্রে গোসল করতে গিয়ে অনেকের প্রাণহানি ঘটছে। তাই কক্সবাজারে বেড়াতে আসা পর্যটকদের সতর্ক থাকার পাশাপাশি নিজেদের নিরাপত্তার বিষয়েও সচেতন হতে হবে। অন্য পর্যটকেরাও সৈকতে নজরদারি বাড়ানো এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
পেচারদ্বীপে পর্যটক নিহত, নিখোঁজ একজন
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সম্প্রতি পেচারদ্বীপ এলাকায় সাগরে নেমে চার পর্যটকের মৃত্যু হয়েছে এবং আরও একজন নিখোঁজ রয়েছেন। তাঁকে উদ্ধারে লাইফগার্ড, ফায়ার সার্ভিস, কোস্টগার্ড ও ট্যুরিস্ট পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।
আরও পড়ুন
বঙ্গোপসাগরে শক্তিশালী হচ্ছে নিম্নচাপ, ঘূর্ণিঝড়ের শঙ্কা ৫৮ মিনিট আগে
সী সেফ লাইফগার্ড সংস্থার প্রকল্প কর্মকর্তা মো. ইমতিয়াজ আহমেদ জানান, হিমছড়ি পয়েন্টে সাগরে গোসল করতে নেমে কয়েকজন পর্যটক স্রোতে ভেসে যান। তাঁদের মধ্যে কয়েকজনকে উদ্ধার করা হয়েছে; একজন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন বলে তিনি জানান।
পর্যটকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, সাগরে নামার আগে সংশ্লিষ্ট এলাকার লাইফগার্ডের নির্দেশনা মেনে চলতে হবে। যেখানে লাইফগার্ডের নিরাপত্তাসেবা নেই, সেখানে সমুদ্রে নামা উচিত নয়।
আরও পড়ুন
মোটরসাইকেলের সামনের নম্বরপ্লেট নিয়ে বিআরটিএর নির্দেশনা, মানতে হবে যেসব নিয়ম ১ ঘণ্টা আগে
লাইফগার্ড বাড়ানোর দাবি
পর্যটন ব্যবসায়ীরা সৈকতের শৈবাল পয়েন্ট থেকে জিরো পয়েন্ট পর্যন্ত লাইফগার্ডের কার্যক্রম সম্প্রসারণ, নজরদারি বাড়ানো এবং নিরাপত্তাবেষ্টনীসহ প্রয়োজনীয় সুরক্ষাব্যবস্থা কার্যকর করার দাবি জানিয়েছেন।
হোটেল কক্স-টুডের মহাব্যবস্থাপক আবু তালেব শাহ বলেন, পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসন, ট্যুরিস্ট পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। পর্যাপ্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা না থাকলে পর্যটকদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয় এবং কক্সবাজারের পর্যটনশিল্পের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন।