https://newsbdc.com/international/mw39sok80q
ইরান যুদ্ধ ছাড়াও ট্রাম্পের দলের পরাজয়ের পেছনে ৪ কারণ
মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির পরাজয়ের জন্য ইরান যুদ্ধকে দায়ী করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। পরে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও একই ধরনের মন্তব্য করেন। তবে বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, ইরান যুদ্ধের বাইরেও দলটির পরাজয়ের পেছনে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ রয়েছে।
বৃহস্পতিবার রিপাবলিকানদের পরাজয়ের পেছনে পাঁচটি কারণ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে বিবিসি। এর মধ্যে ইরান যুদ্ধের পাশাপাশি আরও চারটি বিষয় উঠে এসেছে।
১. জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি
যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় চাপে রয়েছেন সাধারণ ভোটাররা। গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনী আসনগুলোতে প্রচারের সময় তাঁদের ক্ষোভ স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
আরও পড়ুন
হরমুজ প্রণালিতে দুটি তেলবাহী ট্যাংকার ও টাগবোটে আগুন, দাবি আইআরজিসির ৯ মিনিট আগে
বিবিসিকে নর্থ ক্যারোলাইনার এক ভোটার জানান, গ্যাস ও মুদিপণ্যসহ সবকিছুর দাম বাড়ছে। এ কারণে এবারের নির্বাচনে তিনি রিপাবলিকান প্রার্থীকে বাদ দিয়ে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীকে ভোট দিয়েছেন।
জ্বালানি ও বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির প্রভাবে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এক বছরে পণ্যের দাম বেড়েছে ৩ দশমিক ৭ শতাংশ। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, অক্টোবরের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রে খুচরা পর্যায়ে ডিজেলের গড় দাম প্রতি গ্যালন প্রায় ৬ ডলার ৫২ সেন্টে পৌঁছায়, যা রেকর্ড মূল্য।
ভোটারদের ওপর পরিচালিত জরিপে দেখা গেছে, প্রায় ৭৯ শতাংশ উত্তরদাতা বলেছেন, গত এক বছরে মূল্যস্ফীতির কারণে তাঁরা বা তাঁদের পরিবার গুরুতর কিংবা মাঝারি ধরনের আর্থিক সংকটে পড়েছেন। এ ছাড়া ১০ জনের মধ্যে ছয়জনের বেশি উত্তরদাতা এ পরিস্থিতির জন্য ট্রাম্পকে দায়ী করেছেন।
আরও পড়ুন
ইরানকে সহায়তার অভিযোগে ভারতীয় দম্পতি ও তুরস্কের প্রতিষ্ঠানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা ১১ মিনিট আগে
২. ডেমোক্র্যাটিক পার্টির সুসংগঠিত প্রচার
ডেমোক্র্যাটদের জয়ের পেছনে কয়েকজন শক্তিশালী প্রার্থীর ভূমিকা ছিল। ঐতিহ্যগতভাবে রিপাবলিকানদের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এলাকাতেও তাঁরা ভোটারদের আস্থা অর্জন করেন।
জীবনযাত্রার ব্যয় ও স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ—এই দুটি বিষয়কে সামনে রেখে প্রার্থীরা ধারাবাহিক ও সুসংহত প্রচার চালান। সাবেক শিক্ষক জেমস তালারিকো ও যাজক অ্যাডাম হ্যামিল্টন নিজেদের ধর্মীয় বিশ্বাসের বিষয়টিও প্রচারে তুলে ধরেন। টেক্সাস ও কানসাসের ভোটারদের মধ্যে তাঁদের বক্তব্য সাড়া ফেলে।
সাউথ ক্যারোলাইনায় অপ্রত্যাশিতভাবে বড় জয় পান ডেমোক্র্যাট প্রার্থী অ্যানি অ্যান্ড্রুজ। সাবেক এই শিশু চিকিৎসক স্বাস্থ্যসেবার ব্যয় সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে রাখার বিষয়টিকে গুরুত্ব দেন। দেশটির অনেক মানুষের মধ্যে স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা নিয়ে অসন্তোষ থাকায় তাঁর প্রচারবার্তা ভোটারদের কাছে গ্রহণযোগ্যতা পায়।
আরও পড়ুন
যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে মুসলিম প্রার্থীদের সাফল্য, জয়ী ৩৭ ২ ঘণ্টা আগে
মিশিগানে জয়ী হয়ে আসনটি ডেমোক্র্যাটদের দখলে রাখেন জনস্বাস্থ্যবিষয়ক সাবেক কর্মকর্তা আবদুল এল-সাইয়েদ। ‘রাজনীতি থেকে অর্থ বের করে মানুষের পকেটে ফিরিয়ে দিন’—এই স্লোগানকে তিনি প্রচারের অন্যতম প্রধান বার্তা করেন।
জর্জিয়ায় পুনর্নির্বাচিত ডেমোক্র্যাট সিনেটর জন অসফও জীবনযাত্রার ব্যয় ও দুর্নীতিকে প্রচারের কেন্দ্রে রাখেন। ৩৯ বছর বয়সী এই প্রার্থী অঙ্গরাজ্যটিতে স্বচ্ছন্দে জয় পান। এর আগে সেখানে দুইবার জয়ী হয়েছিলেন ট্রাম্প। অসফের এই জয় ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তাঁর প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা আরও বাড়াতে পারে।
অন্যদিকে, টেক্সাসের কেন প্যাক্সটনের মতো কয়েকজন রিপাবলিকান প্রার্থী দুর্বল নির্বাচনী প্রচারের জন্য সমালোচিত হয়েছেন। তাঁদের প্রচারে ভোটারদের উদ্বেগ ও চাহিদা যথেষ্ট গুরুত্ব পায়নি। ট্রাম্প নিজেও ডেমোক্র্যাটদের প্রচারের প্রশংসা করে ফক্স নিউজকে বলেন, ‘তারা ভালো করেছে।’
৩. ট্রাম্পের জনপ্রিয়তায় ভাটা
আরও পড়ুন
মার্কিন কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাটদের নিয়ন্ত্রণ, ভারত-পাকিস্তানের সামনে নতুন সমীকরণ ৩ ঘণ্টা আগে
ভোটারদের অসন্তোষের প্রধান দুটি বিষয়—পণ্যের দাম বৃদ্ধি ও ইরান যুদ্ধ—সরাসরি ট্রাম্পের সঙ্গে যুক্ত ছিল। এমনকি রিপাবলিকান ভোটারদের মধ্যেও তাঁর জনপ্রিয়তা কমেছে।
সমর্থকদের উজ্জীবিত করতে ট্রাম্প ভোটারদের কল্পনা করতে বলেছিলেন, তিনি নিজেই নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছেন। অর্থাৎ, ভোটাররা যেন মনে করেন, তাঁরা সরাসরি ট্রাম্পকে ভোট দিচ্ছেন। তবে তাঁর ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগানোর এই কৌশল প্রত্যাশিত ফল দেয়নি।
বরং ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ক্ষোভ বাড়তে থাকে। এমন পরিস্থিতিতেও তিনি নিজেকে নির্বাচনী প্রচারের কেন্দ্রে রেখেছিলেন। শেষ পর্যন্ত এই কৌশল উল্টো ফল দিয়েছে বলে মনে হচ্ছে।
আরও পড়ুন
প্রায় ২০ বছর পর ওহাইওতে ডেমোক্র্যাটদের জয়, প্রথম নারী গভর্নর হচ্ছেন অ্যামি অ্যাকটন ২২ ঘণ্টা আগে
৪. হিস্পানিক ও কৃষ্ণাঙ্গ ভোটারদের সমর্থনে পরিবর্তন
দুই বছর আগে হিস্পানিক ও কৃষ্ণাঙ্গ ভোটারদের একটি অংশ রিপাবলিকানদের দিকে ঝুঁকেছিল, যা ট্রাম্পের বড় জয়ে ভূমিকা রাখে। এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে সেই প্রবণতায় পরিবর্তন দেখা গেছে।
টেক্সাস-মেক্সিকো সীমান্তবর্তী হিস্পানিক সংখ্যাগরিষ্ঠ তিনটি কংগ্রেসনাল আসনে জয় পেয়েছেন ডেমোক্র্যাটরা। দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের এক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের তুলনায় হিস্পানিক সংখ্যাগরিষ্ঠ কাউন্টিগুলোতে রিপাবলিকান সিনেট প্রার্থীদের সমর্থন ২২ শতাংশের বেশি কমেছে।
অভিবাসনবিরোধী অভিযান নিয়ে ব্যাপক ক্ষোভের মধ্যেই ভোটারদের এই অবস্থান পরিবর্তন হয়েছে। পিউ রিসার্চ সেন্টারের জরিপ অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের ৫৬ শতাংশ নাগরিকের অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থা (আইসিই) সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা রয়েছে।
আন্তর্জাতিক থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন।