https://newsbdc.com/lifestyle/mw39e4f1e3
বায়ুদূষণে বাড়তে পারে স্মৃতিভ্রমের ঝুঁকি, বেশি বিপদে কারা?
বায়ুদূষণের ক্ষতিকর প্রভাব বলতে সাধারণত সর্দি-কাশি, অ্যালার্জি, শ্বাসকষ্ট কিংবা ফুসফুসের সংক্রমণকেই বোঝেন অনেকে। তবে গবেষণায় উঠে এসেছে, দূষিত বাতাস দীর্ঘদিন ধরে মস্তিষ্কের স্বাস্থ্যেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এতে স্মৃতিশক্তি ও চিন্তাশক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি ডিমেনশিয়ার ঝুঁকিও বাড়তে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বাতাসে থাকা অতিসূক্ষ্ম দূষিত কণা শরীরে প্রদাহ সৃষ্টি করতে পারে এবং স্নায়ুতন্ত্রের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে পিএম ২.৫-এর মতো সূক্ষ্ম কণা শ্বাসের সঙ্গে শরীরে প্রবেশ করে রক্তপ্রবাহের মাধ্যমে মস্তিষ্কে পৌঁছাতে পারে। কিছু কণা নাকের ঘ্রাণসংক্রান্ত স্নায়ুপথ দিয়েও মস্তিষ্কে প্রবেশ করতে পারে বলে গবেষণায় ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
দীর্ঘদিন বায়ুদূষণের সংস্পর্শে থাকলে মস্তিষ্কের প্রতিরক্ষাব্যবস্থা বা ব্লাড-ব্রেন ব্যারিয়ারের কার্যকারিতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এতে স্নায়ুকোষের ক্ষতি ও মস্তিষ্কে প্রদাহের আশঙ্কা তৈরি হয়। কিছু গবেষণায় বায়ুদূষণের সঙ্গে আলঝেইমার রোগের সংশ্লিষ্টতাও পাওয়া গেছে। তবে দূষিত বাতাসে একদিন শ্বাস নিলেই ডিমেনশিয়া হয় না; এটি দীর্ঘমেয়াদি ঝুঁকির সঙ্গে সম্পর্কিত।
আরও পড়ুন
পার্কে বসে বিনা মূল্যে কাজের সুযোগ দিচ্ছে দুবাই, চালু ‘ওয়ার্ক ফ্রম পার্ক’ ১৬ মিনিট আগে
কাদের ঝুঁকি বেশি?
প্রবীণদের পাশাপাশি শিশু ও গর্ভস্থ শিশুরাও বায়ুদূষণের ক্ষতিকর প্রভাবের ঝুঁকিতে রয়েছে। বিশেষ করে উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, হৃদরোগ বা স্ট্রোকের ইতিহাস থাকা ব্যক্তিদের বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন।
আরও পড়ুন
শরীরে ফাইবারের ঘাটতি হলে যে ৫ লক্ষণ দেখা দিতে পারে ৪ নভেম্বর ২০২৬
গর্ভাবস্থায় ট্রাফিকের ধোঁয়া ও ক্ষতিকর বায়ুদূষণের সংস্পর্শ শিশুর মস্তিষ্কের বিকাশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে বিভিন্ন গবেষণায় ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। এতে শিশুর মনোযোগ ও চিন্তাশক্তির বিকাশ বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
ঘ্রাণ ও শ্রবণশক্তির পরিবর্তনেও সতর্কতা
বয়স বাড়ার সঙ্গে ঘ্রাণ ও শ্রবণশক্তি কমতে পারে। তবে সর্দি-কাশি ছাড়াই হঠাৎ ঘ্রাণশক্তি কমে গেলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। আবার শ্রবণশক্তি কমে গেলে বয়স্ক ব্যক্তিরা সামাজিকভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়তে পারেন, যা মস্তিষ্কের স্বাস্থ্যের ওপর পরোক্ষ প্রভাব ফেলতে পারে।
আরও পড়ুন
মানসিক শান্তি পেতে আজই বাদ দিন ১২টি অভ্যাস ৪ নভেম্বর ২০২৬
বায়ুদূষণ থেকে সুরক্ষিত থাকার উপায়
বায়ুদূষণ পুরোপুরি এড়ানো সম্ভব না হলেও কিছু অভ্যাস ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করতে পারে—
আরও পড়ুন
ধূমপান না করলেও নারীদের ফুসফুসে ক্যানসারের ঝুঁকি, দায়ী যেসব কারণ ৪ নভেম্বর ২০২৬
- বাইরে যাওয়ার আগে বায়ুর মান সূচক (AQI) দেখে নিন। দূষণের মাত্রা বেশি থাকলে অপ্রয়োজনীয় বাইরে যাওয়া ও খোলা স্থানে ব্যায়াম এড়িয়ে চলুন।
- বাইরে গেলে ভালো মানের এন-৯৫ বা সমমানের সুরক্ষামূলক মাস্ক ব্যবহার করুন।
- ঘরের বাতাস পরিষ্কার রাখতে প্রয়োজনে উপযুক্ত এয়ার পিউরিফায়ার ব্যবহার করুন।
- ঘরের ভেতরে ধূমপান, মশার কয়েল ও ধূপকাঠি ব্যবহারের মতো ধোঁয়ার উৎস এড়িয়ে চলুন।
- নাক পরিষ্কারের জন্য স্যালাইন ব্যবহার করতে চাইলে নিরাপদ পদ্ধতি অনুসরণ করুন এবং প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি ব্যক্তিগত সচেতনতা মস্তিষ্কসহ সামগ্রিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন।