ছবি ভিডিও মতামত
সর্বশেষ
সাংবাদিক এস এম মুন্না আর নেই সৌদি বিমানবন্দরে ফের হামলা: বাতিল ২২ হাজার বাংলাদেশি যাত্রীর ১৪৪টি ফ্লাইট নিরাপত্তা যাচাই শেষে সচল হলো জনতা ব্যাংকের ওয়েবসাইট কোনো ব্যাংকের ওয়েবসাইট হ্যাক হয়নি: বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র টেকনাফে যৌথ বাহিনীর অভিযান, জব্দ ৩ কোটি টাকার কারেন্ট জাল রিয়ালের রেকর্ড ভেঙে ইতিহাস গড়ার সুযোগ বার্সেলোনার মেট্রোরেল স্টেশনে বসছে মেটাল ডিটেক্টর ও লাগেজ স্ক্যানার আনিসুল হকের বিরুদ্ধে ১৭২ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের মামলায় চার্জশিট গ্রহণ পর্যটন কার্নিভাল শেষে কুয়াকাটা সৈকত পরিচ্ছন্নতায় ছাত্রদলের দুই শতাধিক নেতাকর্মী জাইমা রহমানের জন্মদিনে শিক্ষার্থীদের জন্য ব্যতিক্রমী আয়োজন
বাংলাদেশ

বর্তমান কাঠামোয় সাইবার আইন পাস হলে সরকারের জন্য আত্মঘাতী হতে পারে: টিআইবি

প্রকাশ: ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৮: ২০
বর্তমান কাঠামোয় সাইবার আইন পাস হলে সরকারের জন্য আত্মঘাতী হতে পারে: টিআইবি
সংগৃহীত

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অপতথ্য ও সাইবার অপরাধ নিয়ন্ত্রণে শুধু কঠোর আইন করে কার্যকর সমাধান সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)-এর নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান। তাঁর মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্ল্যাটফর্মগুলোর জবাবদিহি নিশ্চিত না করে বিতর্কিত কাঠামোয় সাইবার সুরক্ষা আইন পাস করা হলে তা মতপ্রকাশের স্বাধীনতার জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। একই সঙ্গে এটি সরকারের জন্যও বুমেরাং বা আত্মঘাতী হতে পারে।

রোববার (১৮ অক্টোবর) রাজধানীর ধানমন্ডিতে টিআইবির কার্যালয়ে প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন নিয়ে নাগরিক সমাজের ১৯টি সংগঠন ও সম্প্রতি গঠিত গণমাধ্যম কমিটির মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, অপতথ্য নিয়ন্ত্রণে সফল দেশগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যালগরিদমের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে। ফেসবুকের মূল প্রতিষ্ঠান মেটার মুনাফাকেন্দ্রিক কার্যক্রমও সামাজিক মাধ্যমে অপতথ্য ও ভুয়া খবর ছড়িয়ে পড়ার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখে।

আরও পড়ুন

সাংবাদিক এস এম মুন্না আর নেই ১ মিনিট আগে সাংবাদিক এস এম মুন্না আর নেই

তিনি আরও বলেন, ব্যবসা বাড়ানোর স্বার্থে মেটার অ্যালগরিদম সংঘাত ও সহিংসতামূলক বক্তব্যকে বেশি প্রচার করে, অথচ ধর্মনিরপেক্ষ ও যৌক্তিক আলোচনার ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা তৈরি করে বলে অভিযোগ রয়েছে। প্রযুক্তি ব্যবসা ও রাজনৈতিক ক্ষমতার অশুভ যোগসূত্র নাগরিকদের মৌলিক অধিকার ক্ষুণ্ণ করতে পারে। তাই প্ল্যাটফর্মের জবাবদিহি নিশ্চিত না করে সাধারণ নাগরিকদের ওপর কঠোর আইন চাপিয়ে দেওয়া টেকসই সমাধান নয়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের জবাবদিহি নিশ্চিতের দাবি

আলোচনায় ডেইলি ওয়াদার সম্পাদক শফিকুল আলম টিআইবির নির্বাহী পরিচালকের বক্তব্যের সঙ্গে একমত পোষণ করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের জবাবদিহি নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।

তিনি রামুতে বৌদ্ধপল্লিতে হামলা, মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সহিংসতা উসকে দেওয়ার ঘটনা এবং ফেসবুকে সংঘবদ্ধভাবে মব তৈরি করে পিটিয়ে হত্যার মতো ঘটনার উদাহরণ তুলে ধরেন। এসব ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অপব্যবহার ছিল বলে তিনি মন্তব্য করেন।

শফিকুল আলম বলেন, ফেসবুক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে তাৎক্ষণিক সমন্বয়ের কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় এ ধরনের সহিংসতা প্রতিরোধে সমস্যা হচ্ছে।

আরও পড়ুন

মেট্রোরেল স্টেশনে বসছে মেটাল ডিটেক্টর ও লাগেজ স্ক্যানার ৩৯ মিনিট আগে মেট্রোরেল স্টেশনে বসছে মেটাল ডিটেক্টর ও লাগেজ স্ক্যানার

প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা আইনের কয়েকটি ধারা নিয়েও তিনি উদ্বেগ জানান। তাঁর মতে, আইনের ২৬(ক) ধারা বাদ দেওয়া, ২৫ ধারায় মানহানিকে ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য না করা, ৮(৩) ধারার অপব্যবহার রোধ এবং সাংবাদিকদের বিচারে ভ্রাম্যমাণ আদালতের ব্যবস্থা বাতিলের বিষয়ে বৃহত্তর ঐকমত্য রয়েছে।

তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ইনফ্লুয়েন্সার ও ইউটিউবারদের মাধ্যমে চরিত্রহনন এবং লাগামহীন অপপ্রচার ঠেকানোর উপায়ও বের করা প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেন তিনি।

যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের উদাহরণ দিয়ে শফিকুল আলম বলেন, মানহানিকে ফৌজদারি অপরাধের আওতায় না রেখে দেওয়ানি আইনের অধীনে এনে বড় অঙ্কের আর্থিক ক্ষতিপূরণের বিধান করা যেতে পারে। কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা তথ্য দিয়ে অন্যের সম্মানহানি করলে তার কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ আদায়ের কার্যকর ব্যবস্থা থাকা উচিত।

আরও পড়ুন

জাইমা রহমানের জন্মদিনে শিক্ষার্থীদের জন্য ব্যতিক্রমী আয়োজন ১ ঘণ্টা আগে জাইমা রহমানের জন্মদিনে শিক্ষার্থীদের জন্য ব্যতিক্রমী আয়োজন

তদন্ত কর্মকর্তার ক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ

প্রস্তাবিত আইনের বিভিন্ন ধারা ও তদন্ত কর্মকর্তাদের ক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি শহীদুল ইসলাম। তিনি বলেন, আইনটির কাঠামো দেখে মনে হচ্ছে, এটি ক্ষমতাসীন ব্যক্তিদের সুরক্ষার জন্য তৈরি করা হয়েছে।

তাঁর অভিযোগ, প্রস্তাবিত আইনে গণমাধ্যমকর্মীদের স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ সংকুচিত হতে পারে। একজন ব্যক্তির অপরাধ বা ভুলের কারণে পুরো গণমাধ্যম বা মিডিয়া হাউস বন্ধ করে দেওয়ার মতো বিধানও রয়েছে।

শহীদুল ইসলাম আরও বলেন, তদন্তকারী কর্মকর্তারা শুধু সন্দেহের ভিত্তিতে গণমাধ্যমের ডেটা সেন্টারসহ প্রযুক্তিগত যন্ত্রপাতি জব্দ করার ক্ষমতা পেতে পারেন। এর অপব্যবহার হলে একটি গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানই ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এ ছাড়া মানহানির মতো স্পর্শকাতর বিষয়ের সুনির্দিষ্ট সংজ্ঞা না থাকাও উদ্বেগজনক।

আরও পড়ুন

রাজউকের অনলাইন পারমিট সেবায় ৭ মাসে প্রায় ১১ হাজার আবেদন ২ ঘণ্টা আগে রাজউকের অনলাইন পারমিট সেবায় ৭ মাসে প্রায় ১১ হাজার আবেদন

তৃণমূল পর্যায়ের সংবাদকর্মীদের অভিজ্ঞতা ও মতামত বিবেচনায় নিয়ে গ্রহণযোগ্য আইন প্রণয়নের আহ্বান জানান তিনি।

সাইবার কাউন্সিলে নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিত্বের দাবি

আলোচনায় রাজনীতি ডটকমের সম্পাদক ও প্রকাশক শরীফুজ্জামান পিন্টু প্রস্তাবিত আইনের দায়মুক্তির বিধান, অপরাধের অস্পষ্ট সংজ্ঞা এবং অনলাইন কনটেন্ট ব্লকের প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, সাংবাদিকতা ও মূলধারার গণমাধ্যম যাতে আইনের অপপ্রয়োগের শিকার না হয়, সে বিষয়ে সুস্পষ্ট সুরক্ষা থাকা প্রয়োজন।

জাতীয় সাইবার সুরক্ষা কাউন্সিলের প্রস্তাবিত কাঠামো নিয়েও আপত্তি জানান তিনি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রীকে প্রধান করে মন্ত্রী, সচিব ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার প্রধানদের নিয়ে কাউন্সিল গঠনের পরিকল্পনায় নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিত্ব ও ক্ষমতার ভারসাম্য নিশ্চিত হচ্ছে না।

আরও পড়ুন

নিম্নচাপটি রূপ নেবে অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে, আঘাত হানতে পারে বুধবার ২ ঘণ্টা আগে নিম্নচাপটি রূপ নেবে অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে, আঘাত হানতে পারে বুধবার

কাউন্সিলে অন্তত এক-তৃতীয়াংশ সদস্য হিসেবে মানবাধিকারকর্মী ও সাংবাদিক সংগঠনের প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানান শরীফুজ্জামান পিন্টু।

সমাপনী বক্তব্যে ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও গণমাধ্যমের সুরক্ষার প্রশ্নে নাগরিক সমাজ এবং গণমাধ্যম একই অবস্থানে রয়েছে। এ ক্ষেত্রে পারস্পরিক সমন্বয় ও ঐক্য জরুরি।

তিনি প্রস্তাবিত আইনের নিবর্তনমূলক ধারাগুলো বাতিল করে নাগরিক সমাজ ও গণমাধ্যমকর্মীদের মতামতের ভিত্তিতে আইনটি সংশোধনের আহ্বান জানান।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন

মন্তব্য (০)

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন।

Bangladesh নিয়ে আরও পড়ুন