https://newsbdc.com/national/mw3a60msv2
মোংলা বন্দর হবে নতুন অর্থনৈতিক হাব: প্রধানমন্ত্রী
মোংলা বন্দরের আধুনিকায়ন ও সুযোগ-সুবিধা সম্প্রসারণ করা হলে এটি দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের জন্য সম্ভাবনাময় নতুন অর্থনৈতিক হাবে পরিণত হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
তিনি বলেন, মোংলা বন্দরকে কেন্দ্র করে খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা ও যশোরসহ আশপাশের অঞ্চলে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণের ব্যাপক সুযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে পঞ্চগড় থেকে বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত সড়ক যোগাযোগ, বন্দরের সরবরাহব্যবস্থা ও পণ্য পরিবহন সুবিধা বাড়াতে সরকার উদ্যোগ নিতে চায়।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) মোংলায় ‘মোংলা বন্দর সুবিধা সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়ন প্রকল্পের’ ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। বেলা ১১টা ১৫ মিনিটে তিনি ৪ হাজার ৬৮ কোটি টাকা ব্যয়ে দুটি কনটেইনার জেটি নির্মাণ ও আনুষঙ্গিক অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। এ সময় বন্দরপ্রাঙ্গণে একটি গাছের চারাও রোপণ করেন তিনি।
আরও পড়ুন
খান জাহান আলীর (রহ.) মাজার জিয়ারত করলেন প্রধানমন্ত্রী ৩ মিনিট আগে
প্রধানমন্ত্রী বলেন, মোংলা বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি ও আধুনিকায়নের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সঙ্গে বাণিজ্যিক যোগাযোগ জোরদার এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণ করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে খানজাহান আলী বিমানবন্দরের উন্নয়ন কার্যক্রম চালু করাও সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার।
তারেক রহমান বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে জ্বালানি ও খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মোংলা বন্দর জ্বালানি, সার, খাদ্যশস্য ও শিল্পের কাঁচামাল আমদানি এবং দেশীয় পণ্য রপ্তানিতে পরিপূরক বন্দর হিসেবে জাতীয় অর্থনৈতিক নিরাপত্তা জোরদারে ভূমিকা রাখতে পারে।
তিনি জানান, মোংলা বন্দর আধুনিকায়ন প্রকল্পের আওতায় আধুনিক কনটেইনার টার্মিনাল, ইয়ার্ড ও কার্গো হ্যান্ডলিং সুবিধাসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তোলা হচ্ছে। নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ হলে এ অঞ্চলের অর্থনৈতিক অবস্থার পরিবর্তন ঘটবে এবং সারা দেশের জন্য নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনা তৈরি হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রকল্পটির সাফল্য শুধু নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার ওপর নির্ভর করবে না। বন্দরসেবার মান কতটা উন্নত হলো, পণ্য পরিবহনে সময় ও ব্যয় কতটা কমল, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান কতটা বাড়ল এবং পরিবেশ কতটা সুরক্ষিত থাকল—এসব বিষয়ও বিবেচনায় নিতে হবে।
আরও পড়ুন
শ্রমিকদের দাবির আড়ালে সীমান্তের ওপার থেকে বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা চলছে: প্রধানমন্ত্রী ৮ মিনিট আগে
তিনি পরিবেশবান্ধব সেবা ব্যবস্থাপনা, দূষণ নিয়ন্ত্রণ এবং জাহাজের নিরাপদ বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পরিবেশ ও নিরাপত্তার মানদণ্ড অনুসরণ, জলবায়ু সহনশীল অবকাঠামো নির্মাণ এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর আহ্বান জানান।
তারেক রহমান বলেন, বিপজ্জনক কার্যক্রম ব্যবস্থাপনায় অগ্নিনিরাপত্তা, প্রশিক্ষিত জনবল এবং জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার সক্ষমতা গড়ে তুলতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী জানান, বর্তমান সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে রূপান্তরের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। এ লক্ষ্য অর্জনে বিনিয়োগ, শিল্পায়ন, রপ্তানি বহুমুখীকরণ, জ্বালানি ও খাদ্যনিরাপত্তা এবং দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
আরও পড়ুন
শেখ হাসিনাকে ট্রাভেল পাস দেওয়া হবে না: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ১৩ মিনিট আগে
তিনি দেশের স্বনির্ভরতা অর্জনে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারী, উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠান এবং বিশেষ করে প্রবাসী বাংলাদেশিদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ, সহজ সেবা প্রক্রিয়া, নির্ভরযোগ্য অবকাঠামো এবং নীতির ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। মোংলা বন্দরের আধুনিকায়ন এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে রূপান্তরের পরিকল্পনার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।
বন্দরটির নাব্যতা, নৌ চ্যানেলের নির্ভরযোগ্যতা, জাহাজের নিরাপদ চলাচল এবং প্রতিযোগিতামূলক সেবা নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। আন্তর্জাতিক শিপিং কোম্পানিগুলোর কাছে মোংলা বন্দরকে আকর্ষণীয় করে তোলার পাশাপাশি উপযুক্ত বাণিজ্যিক ও পরিচালনাগত শর্তে এটিকে ফার্স্ট কলিং পোর্ট হিসেবে গড়ে তোলার কথা বলেন।
আরও পড়ুন
নভেম্বরে বঙ্গোপসাগরে ২-৩টি লঘুচাপ, ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে দুটি ৪৩ মিনিট আগে
মোংলা ও আশপাশের শিল্পাঞ্চলে নতুন কারখানা স্থাপনে দ্রুত গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। এ বিষয়ে ইতোমধ্যে কাজ শুরু হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
তারেক রহমান বলেন, একসময় খুলনা ও আশপাশের এলাকায় অনেক মিল-কারখানা ছিল। সরকার এ অঞ্চলের হারিয়ে যাওয়া শিল্পঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে চায়।
তিনি আরও বলেন, এ উদ্যোগ দেশের শিল্প-বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তাকে শক্তিশালী করবে। বিশেষ করে তরুণদের কর্মসংস্থান, উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগে আস্থা এবং আঞ্চলিক সুষম উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদি সুফল বয়ে আনবে।
বাংলাদেশের অবকাঠামো ও উন্নয়নে অব্যাহত সহযোগিতার জন্য চীন সরকারকে ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী।
আরও পড়ুন
দুদক চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে ঢাকা মেডিকেল পরিদর্শন ৫৯ মিনিট আগে
প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ঢাকার কমলাপুর আইসিডি থেকে কনটেইনারবাহী ট্রেন সরাসরি মোংলা বন্দরে চলাচল করতে পারবে। এতে বন্দরের পণ্য পরিবহন সক্ষমতা বাড়বে এবং আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম সম্প্রসারিত হবে।
অনুষ্ঠানে যোগাযোগমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসান, পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল আরিফ আহমেদ মোস্তফা এবং চায়না রেলওয়ে কনস্ট্রাকশন করপোরেশনের চেয়ারম্যান দাই হেগেন বক্তব্য দেন।
এ সময় বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুনসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন।