https://newsbdc.com/entertainment/mw4po4krhx
চার অভিযোগে দোষী ব্রিটিশ অভিনেতা রাসেল ব্র্যান্ড, সোমবার সাজা
ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নের চারটি অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন ব্রিটিশ অভিনেতা ও কৌতুকশিল্পী রাসেল ব্র্যান্ড। চার নারীর বিরুদ্ধে সংঘটিত অপরাধের দায়ে তাঁর কারাদণ্ড হতে পারে। আগামী সোমবার (৯ নভেম্বর) তাঁর সাজা ঘোষণা করবেন আদালত।
আরও পড়ুন
রাম চরিত্রে রণবীর, কোলে মেয়ে রাহা—স্বামীকে নিয়ে গর্বিত আলিয়া ২৩ মিনিট আগে
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) লন্ডনের সাউথওয়ার্ক ক্রাউন কোর্টে চার সপ্তাহের বিচার শেষে এ রায় দেন জুরিরা। ৫১ বছর বয়সী রাসেল ব্র্যান্ডের বিরুদ্ধে ধর্ষণ, যৌন নিপীড়ন ও যৌন নিপীড়নের চেষ্টাসহ মোট সাতটি অভিযোগ আনা হয়েছিল। ছয় নারীর করা এসব অভিযোগের ঘটনাগুলো ১৯৯৯ থেকে ২০০৯ সালের মধ্যে ঘটেছে বলে আদালতে জানানো হয়।
বিচার চলাকালে ব্র্যান্ডকে নির্মম, হিসাবি ও কৌশলী যৌন নিপীড়ক হিসেবে বর্ণনা করেন কৌঁসুলিরা। অভিযোগ অনুযায়ী, লন্ডনের একটি অভিজাত বাড়িতে এক নারীকে ধর্ষণ করেন তিনি। এ ছাড়া সহকর্মীদের উপস্থিতিতে কর্মস্থল, একটি রেডিও স্টেশন ও টেলিভিশন স্টুডিওতে নারীদের যৌন নিপীড়ন করেন। অভিযোগকারীদের ভাষ্য, ঘটনার পর তাঁদের মানসিকভাবে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছিলেন ব্র্যান্ড। নারীদের নিজের যৌন চাহিদা পূরণের উপকরণ হিসেবে বিবেচনা করতেন তিনি।
আরও পড়ুন
‘বরবাদ’ নির্মাতা হৃদয়ের সঙ্গে প্রেমের গুঞ্জন, যা বললেন দিঘী ২৭ মিনিট আগে
তবে বিচার চলাকালে সব অভিযোগ অস্বীকার করেন ব্র্যান্ড। কিছু ঘটনা তাঁর মনে নেই বলে দাবি করেন তিনি। অন্য ঘটনাগুলোকে সম্মতিতে হওয়া যৌন সম্পর্ক হিসেবে উল্লেখ করেন। ২০২৩ সালে চ্যানেল ফোরের ‘ডিসপ্যাচেস’ প্রামাণ্য অনুষ্ঠান এবং টাইমস ও সানডে টাইমসের প্রতিবেদনে তাঁর বিরুদ্ধে যৌন অসদাচরণের অভিযোগ প্রকাশের পর ঘটনাগুলোকে নতুনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
বৃহস্পতিবার দীর্ঘ সাড়ে আট ঘণ্টা আলোচনার পর জুরিরা সাতটি অভিযোগের মধ্যে চারটিতে ব্র্যান্ডকে দোষী সাব্যস্ত করেন এবং তিনটি থেকে খালাস দেন। রায় ঘোষণার আগে কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে স্ত্রীকে ভালোবাসার কথা জানান ও প্রার্থনা করেন তিনি। পরে সম্ভাব্য উল্লেখযোগ্য কারাদণ্ডের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে বিচারক তাঁকে তাৎক্ষণিকভাবে হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
আরও পড়ুন
দীর্ঘ বিরতি ভেঙে আবার সিনেমায় লারা লোটাস ২ ঘণ্টা আগে
আদালতের তথ্য অনুযায়ী, ২০০৯ সালের শুরুর দিকে লন্ডনের হ্যামারস্মিথ অ্যাপোলোর একটি অনুষ্ঠান থেকে এক তরুণী ভক্তকে নিজের বাড়িতে নিয়ে পায়ুপথে ধর্ষণ করেন রাসেল ব্র্যান্ড। এ ছাড়া ২০০৪ সালে লন্ডনের সোহোতে একটি জন্মদিনের অনুষ্ঠানে এমটিভির এক নারী কর্মীর স্তন স্পর্শ করেন তিনি। ২০০৪ কিংবা ২০০৫ সালে চয়েস এফএম রেডিও স্টেশনে কর্মরত আরেক নারীকে স্তন চেপে ধরা ও অস্বস্তিকরভাবে চুমু দেওয়ার অভিযোগেও দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন ব্র্যান্ড।
২০০৯ সালে চ্যানেল ফোরের একটি চিত্রায়ণের সময় আরেক নারী কর্মীর কোলে মাথা রেখে তাঁর যৌনাঙ্গের কাছে নিঃশ্বাস ফেলে বিব্রত করার অভিযোগেও দোষী সাব্যস্ত হন তিনি। তবে এর বাইরে ১৯৯৯ সালে বোর্নমাউথে এক নারীকে ধর্ষণ এবং ২০০১ সালে এমটিভির আরেক কর্মীকে শৌচাগারে টেনে নেওয়ার চেষ্টা ও নিপীড়নের অভিযোগ থেকে খালাস পেয়েছেন এই অভিনেতা।
আরও পড়ুন
জন্মদিনে আথিয়া শেঠিকে ভালোবাসায় ভরালেন স্বামী কেএল রাহুল ২১ ঘণ্টা আগে
এ ছাড়া ব্র্যান্ডের বিরুদ্ধে আরও দুটি ধর্ষণের অভিযোগের তদন্ত চলছে। মেট্রোপলিটন পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। নতুন অভিযোগের বিষয়ে ক্রাউন প্রসিকিউশন সার্ভিসের কাছেও নথি পাঠানো হয়েছে।
ভুক্তভোগীদের ভাষ্য অনুযায়ী, রাসেল ব্র্যান্ডের আচরণ প্রথমে বন্ধুসুলভ মনে হলেও মুহূর্তেই তা ভয়ংকর ও নিষ্ঠুর রূপ নিত। আসামিপক্ষ থেকে ভুক্তভোগীরা তাৎক্ষণিকভাবে বাধা দেননি বা চিৎকার করেননি বলে যুক্তি দেওয়া হলে ভুক্তভোগীবিষয়ক কমিশনার ক্লেয়ার ওয়াক্সম্যান এর সমালোচনা করেন। তাঁর মতে, এ ধরনের যুক্তি পুরোনো ও ক্ষতিকর সামাজিক মানসিকতার প্রতিফলন।
আরও পড়ুন
রাত ১০টার পর স্বামীর সঙ্গেও কথা বলতে চান না কারিনা, জানালেন সাইফ ৫ নভেম্বর ২০২৬
অন্যদিকে, রাসেল ব্র্যান্ডের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ ও আইনি লড়াইয়ের প্রেক্ষাপটে বিবিসি ও চ্যানেল ফোরের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। এর জবাবে চ্যানেল ফোর অভিযোগকারীদের সাহসিকতার প্রশংসা করেছে। বিবিসিও অতীতের কর্মপরিবেশের ত্রুটি ও ব্যর্থতার কথা স্বীকার করে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের কাছে নতুন করে ক্ষমা চেয়েছে।
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন।