https://newsbdc.com/international/mvg7hmq99t
উত্তাল ফ্রান্স, প্যারিসসহ বিভিন্ন শহরে রাতের কারফিউ
ফ্রান্সজুড়ে বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে দাঙ্গা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ছড়িয়ে পড়ায় রাজধানী প্যারিসসহ বিভিন্ন শহরে রাতের কারফিউ ও নানা বিধিনিষেধ আরোপ করেছে কর্তৃপক্ষ। সহিংসতা নিয়ন্ত্রণে জনসমাবেশ নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো পুনরুদ্ধারে আর্থিক সহায়তার ঘোষণা দিয়েছে সরকার।
আরও পড়ুন
সৌদি বিমানবন্দরে ফের হামলা: বাতিল ২২ হাজার বাংলাদেশি যাত্রীর ১৪৪টি ফ্লাইট ১২ মিনিট আগে
প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশটিতে দাঙ্গা ও লুটপাটের ঘটনায় আড়াই হাজারের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সহিংসতায় প্রায় এক হাজার পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। ভাঙচুর ও লুটপাটে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কয়েক শ মিলিয়ন ইউরো ছাড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, জ্বালানির দাম এবং জনসেবার মানের অবনতির প্রতিবাদে শুরু হওয়া আন্দোলন একপর্যায়ে সহিংস রূপ নেয়। ফ্রান্সজুড়ে প্রায় পাঁচ লাখ ৫০ হাজার মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বিভিন্ন শহরে গাড়ি ও ভবনে আগুন দেওয়া, দোকানপাট ভাঙচুর এবং ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে লুটপাটের ঘটনা ঘটে।
আরও পড়ুন
মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশিসহ ১০৯ প্রবাসী আটক ৩ ঘণ্টা আগে
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্যারিসের প্লাস দ্য লা রিপাবলিক ও লে আল শপিং এলাকায় স্থানীয় সময় রাত ১১টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত কারফিউ জারি করা হয়েছে। মার্সেই, বোর্দো, নিস, লিওঁ ও লিলসহ অন্যান্য শহরেও বিভিন্ন ধরনের বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।
ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়াঁ লেকর্নু জানিয়েছেন, দাঙ্গায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো পুনরুদ্ধারে অর্থ বরাদ্দ দেবে সরকার। তবে সহিংসতার জন্য দায়ীদের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ আদায়ের ব্যবস্থাও নেওয়া হবে। পরিস্থিতির অবনতি হলে জরুরি অবস্থা জারির সম্ভাবনাও নাকচ করেননি তিনি।
আরও পড়ুন
বিক্ষোভে উত্তাল মণিপুর, আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে টিয়ার গ্যাস ২৪ অক্টোবর ২০২৬
দাঙ্গায় দুই হাজারের বেশি দোকান ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ফ্রান্সের চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির প্রধান আলাঁ দি ক্রেসেনজো জানিয়েছেন, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কয়েক শ মিলিয়ন ইউরো হতে পারে। এতে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও স্থানীয় অর্থনীতির ওপর বড় ধরনের চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সহিংসতা মোকাবিলায় পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ স্বীকার করেছেন, কয়েকটি শহরে পুলিশ পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছিল। তিনি পদত্যাগের প্রস্তাব দিলেও প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রো তা প্রত্যাখ্যান করেছেন বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
আরও পড়ুন
ইরানে নতুন করে হামলা না চালানোর আহ্বান আট দেশের ২৪ অক্টোবর ২০২৬
ক্রমবর্ধমান সহিংসতা ফ্রান্সে জননিরাপত্তা, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং নাগরিক অসন্তোষ মোকাবিলার প্রশ্নকে সামনে এনেছে। একদিকে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে, অন্যদিকে আন্দোলনের পেছনে থাকা জীবনযাত্রার ব্যয় ও জনসেবাসংক্রান্ত অভিযোগ মোকাবিলা করাও সরকারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
আন্তর্জাতিক থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন।