https://newsbdc.com/sara-desh/mvp62solbq
দুর্যোগের চেয়ে জেলেদের বেশি ভয় জলদস্যু ও ভারতীয় ট্রলার
সাগরে মাছ ধরতে গিয়ে প্রাকৃতিক দুর্যোগের পাশাপাশি জলদস্যু ও বিদেশি ট্রলারের কারণে নিরাপত্তাঝুঁকিতে রয়েছেন খুলনার উপকূলীয় জেলেরা। মাছের পরিমাণ কমে যাওয়া, আয় হ্রাস এবং নৌকা পরিচালনার বিপুল ব্যয়ের কারণে তাঁদের জীবিকা দিন দিন কঠিন হয়ে উঠছে।
কালের কণ্ঠের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন পাইকগাছাসহ খুলনার বিভিন্ন এলাকার জেলেরা। ৩০ অক্টোবর থেকে সাগরে মাছ ধরতে নামার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁদের।
আরও পড়ুন
আ.লীগ নেতার বাড়ি থেকে আটক যুবলীগ-ছাত্রলীগের ৭ নেতাকর্মী কারাগারে ২৭ মিনিট আগে
পাইকগাছার বোয়ালিয়া গ্রামের জেলে ও নৌকার মালিক শঙ্কর কুমার বিশ্বাস জানান, ধারদেনা করে নৌকা নিয়ে সাগরে যেতে হচ্ছে তাঁদের। তবে জলদস্যুদের নিয়ে সবচেয়ে বেশি দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, কোনো জেলেকে জলদস্যুরা ধরে নিয়ে গেলে মুক্তিপণ হিসেবে বড় অঙ্কের টাকা দিতে হতে পারে।
শঙ্কর জানান, চারটি নৌকায় পাঁচ ভাইসহ মোট ২৯ জন এবার সাগরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এ জন্য তাঁর ব্যয় হচ্ছে প্রায় ৩৫ লাখ টাকা। ১৯৮৮ সালের ঘূর্ণিঝড়ে বাবাকে হারানোর স্মৃতিও এখনো তাঁকে তাড়িয়ে বেড়ায়।
আরও পড়ুন
মুন্সীগঞ্জে ১০ হাজার মিটার কারেন্ট জাল ও দুই ট্রলার জব্দ ৩০ মিনিট আগে
জেলেদের অভিযোগ, আগের তুলনায় সাগরে মাছ কম পাওয়া যাচ্ছে। পাশাপাশি ভারতীয় ট্রলারের অনুপ্রবেশের কারণে মাছ আহরণে প্রতিযোগিতা ও উদ্বেগ বাড়ছে বলে তাঁদের দাবি। ঝুঁকি নিয়ে সাগরে গেলেও আয় কমে যাওয়ায় নৌকার মালিক ও জেলেদের পক্ষে ব্যয় সামলানো কঠিন হয়ে পড়েছে।
আরও পড়ুন
মুকসুদপুরে জিপিএ-৫ পাওয়া ৫৫ শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা ১ ঘণ্টা আগে
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, খুলনার পাইকগাছা, কয়রা, দাকোপ, রূপসা ও ডুমুরিয়া উপজেলার বহু জেলে গভীর সমুদ্রে মাছ ধরতে যান। জেলার নিবন্ধিত জেলের সংখ্যা ৪১ হাজার ৬৪৫। তাঁদের মধ্যে প্রায় সাড়ে ৩১ হাজার জেলে এসব উপজেলা থেকে সমুদ্রে মাছ ধরতে যান বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
জেলেদের নিরাপত্তায় গত কয়েক বছরে বেসরকারি উদ্যোগে লাইফ জ্যাকেট, রেডিও, জিপিআরএস, বয়া ও কম্পাস ব্যবহারের বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানো হয়েছে। তবে জেলেদের মতে, এসব উদ্যোগের পাশাপাশি জলদস্যু দমন, সমুদ্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো প্রয়োজন।
আরও পড়ুন
কেরানীগঞ্জে প্লাস্টিক কারখানায় আগুন, প্রাণ গেল একজনের ৩ ঘণ্টা আগে
খুলনার বেসরকারি সংস্থা অ্যাওসেডের নির্বাহী পরিচালক শামীম আরফীন বলেন, সুনীল অর্থনীতির সম্ভাবনা কাজে লাগাতে সমুদ্রে যাওয়া জেলেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, ভেসেল ট্র্যাকিং ব্যবস্থা চালু এবং মাছ আহরণে তাঁদের দক্ষ করে তোলা জরুরি।
ইলিশসহ সামুদ্রিক মাছের প্রজনন ও উৎপাদন বাড়াতে ৮ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা ২৯ অক্টোবর শেষ হওয়ার কথা। এরপর ৩০ অক্টোবর থেকে জেলেরা আবার সাগর ও নদ-নদীতে মাছ ধরতে নামবেন।
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন।