https://newsbdc.com/sara-desh/mvqkd1dvhg
৫০ শয্যার হাসপাতালে রোগী ১১০, মেঝে-বারান্দায় চিকিৎসা
হাম, ডেঙ্গু এবং ঋতু পরিবর্তনজনিত জ্বর, ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা বাড়ায় হাসপাতালটিতে রোগীর চাপ বেড়েছে। অতিরিক্ত রোগীর চাপ সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের। এ অবস্থায় দ্রুত প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগের পাশাপাশি হাসপাতালটি ১০০ শয্যায় উন্নীত করার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
আরও পড়ুন
খুলনায় যুবককে গু/লি করে ব্যাগ ছিনতাই, দুর্বৃত্তদের খোঁজে পুলিশ ১ ঘণ্টা আগে
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সরেজমিনে হাসপাতাল ঘুরে দেখা যায়, নির্ধারিত শয্যা পূর্ণ হয়ে যাওয়ায় অনেক রোগীকে ভবনের মেঝেতে বিছানা পেতে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। কেউ কেউ আশ্রয় নিয়েছেন বারান্দায়। কোথাও জানালার গ্রিলে ঝুলছে স্যালাইনের ব্যাগ। নতুন ভবনের বারান্দাতেও রোগী ও তাঁদের স্বজনদের ভিড় দেখা গেছে।
মিরাশি ইউনিয়নের বাসিন্দা আবিদ আলী বলেন, ‘তিন দিন আগে বাবারে লইয়া আইছি হাসপাতালে। একটা সিট পাইছি না। উপায় না পাইয়া বাবারে নিচে (মেঝেতে) শোয়াইয়া রাখছি।’
আরও পড়ুন
রামগঞ্জে সম্পত্তি বিরোধে সংঘর্ষ, গ্রেপ্তার চার ১ ঘণ্টা আগে
হাসপাতালে ভর্তি রোগী ও তাঁদের স্বজনরা জানান, ওয়ার্ডের নির্ধারিত শয্যার বাইরে মেঝেতে গাদাগাদি করে থাকতে হচ্ছে অনেককে। রোগীর তুলনায় শয্যা কম থাকায় চিকিৎসা নিতে গিয়ে ভোগান্তিতে পড়ছেন তাঁরা।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ভর্তি রোগীদের মধ্যে জ্বর, হাম উপসর্গ ও ডায়রিয়ায় আক্রান্তের সংখ্যা বেশি। এ ছাড়া ডায়রিয়া, আমাশয়সহ পেটের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে রোগীরা হাসপাতালে আসছেন। শিশুদের মধ্যেও জ্বর ও হাম উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা নেওয়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।
আরও পড়ুন
সোনারগাঁয়ে ঘুমন্ত কিশোরীর গায়ে গরম পানি ঢালার অভিযোগ ১ ঘণ্টা আগে
চিকিৎসক সংকটের কারণে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া আরও কঠিন হয়ে পড়েছে। চিকিৎসকের ৩২টি পদের বিপরীতে কর্মরত ১২ জনের মধ্যে দুজন প্রশিক্ষণে এবং একজন ছুটিতে থাকায় বর্তমানে দায়িত্ব পালন করছেন মাত্র ৯ জন। চার লক্ষাধিক মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে এই জনবল যথেষ্ট নয় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
হাসপাতাল সূত্র আরও জানায়, প্রতিদিন বহির্বিভাগে ৫০০ থেকে ৬০০ জন রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন। তাঁদের মধ্যে ৩০ থেকে ৪০ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়। এ ছাড়া জরুরি বিভাগে ২৪ ঘণ্টায় শতাধিক রোগী আসেন। গত সেপ্টেম্বর থেকে ২৭ অক্টোবর পর্যন্ত হাসপাতালের বহির্বিভাগে আট হাজার ২৩৩ জনকে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন
গাজীপুরে তিন ঘণ্টা পর মহাসড়ক ছাড়লেন পোশাকশ্রমিকেরা ২ ঘণ্টা আগে
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোজাম্মেল হোসেন বলেন, জনবল সংকটের বিষয়টি জানিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার চিঠি দেওয়া হয়েছে। ৩২টি পদের বিপরীতে ১২ জন চিকিৎসক দিয়ে চার লক্ষাধিক মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা কঠিন।
তিনি বলেন, দ্রুত চিকিৎসকসহ প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ দেওয়া জরুরি। পাশাপাশি রোগীর চাপ বিবেচনায় চুনারুঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করা প্রয়োজন।
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন।