https://newsbdc.com/entertainment/mw4tekhw2c
শাবানা-শাবনূরের ভক্ত থেকে পর্দার পরিচিত মুখ, জিমের পথচলা
শৈশবে শাবানা ও শাবনূরের সিনেমা দেখে অভিনয়ের স্বপ্ন দেখতেন মাফতুহা জান্নাত। শুরুটা হয়েছিল নাচ দিয়ে। এরপর শিশুশিল্পী হিসেবে বিজ্ঞাপনে কাজ। সপ্তম শ্রেণিতে পড়ার সময় সুযোগ পান অনম বিশ্বাস পরিচালিত সিনেমা ‘দেবী’তে। তবে পড়াশোনার কারণে অভিনয় থেকে দীর্ঘ বিরতি নিতে হয় তাঁকে। ২০২৩ সালে আবারও ক্যামেরার সামনে ফেরেন। দর্শকের কাছে এখন তিনি পরিচিত ‘জিম’ নামে।
আরও পড়ুন
নিজের সঙ্গে প্রতিযোগিতার কথা জানালেন অপু বিশ্বাস ১ ঘণ্টা আগে
‘দেবী’ সিনেমায় জয়া আহসান অভিনীত রানুর শৈশবের স্মৃতিচারণার অংশে দেখা গিয়েছিল মাফতুহা জান্নাতকে। তবে শৈশবের সেই অভিজ্ঞতার পর নিয়মিত অভিনয় করা হয়নি। বিরতি কাটিয়ে নতুন করে যাত্রা শুরু হয় বাবু সিদ্দিকীর পরিচালনায় ‘সিক্রেট গার্লফ্রেন্ড’ নাটকের মাধ্যমে।
কীভাবে অভিনয়ের সুযোগ পেয়েছিলেন, তা জানাতে গিয়ে জিম বলেন, ‘ফেসবুকের মাধ্যমে বাবু সিদ্দিকী ভাইয়ের সঙ্গে পরিচয়। আমার অভিনয়ের আগ্রহের কথা জেনে তিনি সুযোগ দিয়েছিলেন। এভাবেই শুরু।’
এরপর মাবরুর রশিদ বান্নাহর ‘যত্ন’ নাটকে অভিনয় করেন তিনি। নাটকটি তাঁর অভিনয়জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। এতে ইরা চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকের প্রশংসা পান জিম। এখনো অনেক দর্শক তাঁকে ইরা নামে ডাকেন। আরশ খানের সঙ্গে তাঁর জুটিও দর্শকের কাছে জনপ্রিয়তা পেয়েছে।
আরও পড়ুন
রাম চরিত্রে রণবীর, কোলে মেয়ে রাহা—স্বামীকে নিয়ে গর্বিত আলিয়া ১ ঘণ্টা আগে
জিমের ভাষায়, ‘যত্ন’ ছিল তাঁর টার্নিং পয়েন্ট। নাটকটির সাড়া পাওয়ার পর সকাল আহমেদের পরিচালনায় ‘দোষটা কার?’ নাটকে অভিনয়ের সুযোগ আসে। সেখানেও আরশ খানের সঙ্গে তাঁর জুটি দর্শকের প্রশংসা পায়। তবে এই নাটকে চরিত্রের জটিল মনস্তত্ত্ব তুলে ধরতে গিয়ে নতুন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয় তাঁকে। কাজটি প্রকাশের পর সাধারণ দর্শক ও সমালোচকদের ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া তাঁর আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দেয়।
সম্প্রতি ‘বিষপাখি’, ‘পেট্রোল’ ও ‘আহা একি মায়া’ নাটকে অভিনয় করে নতুন করে আলোচনায় এসেছেন জিম। তিনটি নাটকের গল্প ও চরিত্রে রয়েছে ভিন্নতা। রোমান্স, ড্রামা থেকে মনস্তাত্ত্বিক থ্রিলার—বিভিন্ন ধরনের গল্পে নিজেকে উপস্থাপনের চেষ্টা করেছেন তিনি।
আরও পড়ুন
‘বরবাদ’ নির্মাতা হৃদয়ের সঙ্গে প্রেমের গুঞ্জন, যা বললেন দিঘী ১ ঘণ্টা আগে
জিম বলেন, ‘দর্শক এখন একঘেয়ে গল্প দেখতে চান না। তিনটি নাটকের গল্প একটির চেয়ে অন্যটি সম্পূর্ণ আলাদা। রোমান্স, ড্রামা থেকে সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার—বিভিন্ন ধরনের গল্পে দর্শক নতুনত্ব পেয়েছেন। প্রতিটি চরিত্রে চেষ্টা করেছি, সাধারণ মানুষ যেন নিজের জীবনের সঙ্গে চরিত্রগুলো মেলাতে পারেন। চরিত্রের চেনা রূপ ও বাস্তবতাই দর্শকদের মন ছুঁয়েছে বলে মনে করি।’
নতুন অভিনেতা-অভিনেত্রীদের কাজের সুযোগ পাওয়া যে সহজ নয়, সেই অভিজ্ঞতাও রয়েছে জিমের। তাঁর মতে, অনেক নির্মাতা ও প্রযোজক নতুনদের নিয়ে কাজ করতে ঝুঁকি নিতে চান না। ফলে শুরুতে একই ধরনের চরিত্রের প্রস্তাব বেশি আসে। অভিনয়দক্ষতা প্রমাণের জন্য বৈচিত্র্যময় ও শক্তিশালী চরিত্র পাওয়া নতুনদের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ।
আরও পড়ুন
চার অভিযোগে দোষী ব্রিটিশ অভিনেতা রাসেল ব্র্যান্ড, সোমবার সাজা ১ ঘণ্টা আগে
এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘শুরুতে আমাকেও এ ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়েছে। নতুনদেরও প্রতিভা আছে। তাদের সুযোগ দেওয়া দরকার।’
অভিনয়ে শরীরী ভাষার গুরুত্বও নাট্যকলার পড়াশোনার মাধ্যমে উপলব্ধি করেছেন জিম। তাঁর মতে, শুধু সংলাপের মাধ্যমে নয়, চোখের ইশারা কিংবা শরীরের ছোটখাটো অঙ্গভঙ্গির মাধ্যমেও চরিত্রের অনুভূতি প্রকাশ করা সম্ভব।
জিম বলেন, ‘অভিনয়ে শুধু সংলাপ বললেই হয় না। চোখের ইশারা কিংবা শরীরের ছোট্ট কোনো অঙ্গভঙ্গির মাধ্যমেও অনুভূতি প্রকাশ করা যায়। কীভাবে অতিরঞ্জন না করে একটি চরিত্রের আবেগ ফুটিয়ে তুলতে হয়, নাট্যকলার পড়াশোনা আমাকে তা শিখিয়েছে। স্ক্রিপ্ট পড়ার পর এর ভেতরের মূল ভাবনা বুঝতেও সুবিধা হয়। পরিচালকের চাওয়া অনুযায়ী অভিনয় করতে এটি অনেক সাহায্য করে।’
আরও পড়ুন
দীর্ঘ বিরতি ভেঙে আবার সিনেমায় লারা লোটাস ৩ ঘণ্টা আগে
ভবিষ্যতে নির্দিষ্ট কোনো নির্মাতার সঙ্গে কাজ করার পরিকল্পনা নেই তাঁর। বরং সব নির্মাতার সঙ্গেই কাজ করতে আগ্রহী। তবে চরিত্র বাছাইয়ের ক্ষেত্রে বৈচিত্র্যকে গুরুত্ব দিতে চান। বিশেষ করে মনস্তাত্ত্বিক জটিলতা রয়েছে—এমন চরিত্রে অভিনয়ের ইচ্ছা তাঁর। পর্দায় মানুষের মনের নানা রূপ তুলে ধরতে চান সাদা-কালো বিভাজনের বাইরে গিয়ে। পাশাপাশি বাস্তব জীবনের শক্তিশালী নারীদের গল্পও অভিনয়ের মাধ্যমে দর্শকের সামনে আনতে চান এই অভিনেত্রী।
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন।